ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ: সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে মিছিল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে তাৎক্ষণিকভাবে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন তারা।
এতে অংশ নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেলের ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা ডা. মুনসুর খলিল বয়েজ হোস্টেল থেকে আনন্দ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস পদক্ষিণ করে করেন। পরে সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন তারা।
উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীর এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন, এগুলো হলো–
এইমাত্র খবর এলো, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হলো; হই হই রই রই, ছাত্রলীগ গেলি কই; ছাত্রলীগের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না, ছাত্রলীগের আস্তানা, সৈয়দ নজরুলে হবে না; সন্ত্রাসীদের আস্তানা, সৈয়দ নজরুলে হবে না; মুজিববাদ নিপাত যাক, ইনকিলাব জিন্দাবাদ; আজকের এই দিনে, আবরার তোমায় মনে পরে ও আজকে এই দিনে, সাইদ তোমায় মনে পরে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানায়, সারাদেশের মতোই শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছিল। সভাপতি নাহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার রায় তপুর নির্দেশে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের কার্যক্রমে যোগ দিতে বাধ্য করতো। তারা অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয় ভীতি প্রদর্শন করে মারামারিতে বাধ্য করা এবং হোস্টেল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার হুমকিসহ নানাবিধ অপকর্মের সাথে যুক্ত ছিল।
গত ২৩ অক্টোবর ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠনটিকে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার ও সরকার পতন আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতা ‘হত্যা’ ও অসংখ্য মানুষের ‘জীবন বিপন্ন‘ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় ‘সন্ত্রাসী’ কাজে জড়িত থাকার কথাও বলা হয়েছে অভিযোগে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বৃহস্পতিবারের মধ্যে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ওই সময়ের আগেই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এমইউ/