আন্দোলনের মুখে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালকের পদত্যাগ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ সকল পর্যায়ের চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএস সাইফুল ইসলাম।
আজ রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে নিজ কার্যালয়ে এই ঘোষণা দেন তিনি।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলার প্রতিবাদে ৪ দফা দাবিতে শনিবার ২৮ সেপ্টেম্বর কর্মবিরতি ঘোষণা করেন হাসপাতালের সর্বস্তরের চিকিৎসকরা। দাবি আদায়ে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কোনো সমাধান দৃশ্যমান হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে পরিচালকের পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। তীব্রতা উপলদ্ধি করে আন্দোলনের একপর্যায়ে পদত্যাগ করেন ডা. সাইফুল ইসলাম।
চিকিৎসকদের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নানা কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। তিনি ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে শান্তি সমাবেশ করেছেন।
এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতেও তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা।
তারা বলেন, সর্বশেষ এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক লাঞ্ছিতের ঘটনায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এই পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে তার এখানে দায়িত্ব পালন করার অধিকার নেই।
চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালের শিশু মেডিসিন ওয়ার্ড বিভাগে চিকিৎসকদের উপর হামলা চালায় স্বজনরা। একই সময়ে অন্য একটি রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এর প্রতিবাদে শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্নসহ সকল চিকিৎসকরা সম্মিলিতভাবে ৪ দফা দাবি জানিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন।
তাদের দাবিগুলো ছিল—
১. গতকাল শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শেবাচিম হাসপাতালের শিশু মেডিসিন বিভাগে কর্মরত ইন্টার্ন ও প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা।
২. হাসপাতালে ডাক্তারদের ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক ন্যূনতম ৩০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করতে হবে এবং হাসপাতালে কর্মরত আনসার সদস্যের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।
৩. হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানোন্নয়নের জন্য হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি করা বন্ধ করতে হবে এবং একজন রোগীর সাথে একজনের বেশি দর্শনার্থীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।
৪. অনতিবিলম্বে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।
নুর ইসলাম/এমইউ/