২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৩:২৬ পিএম

‘আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধদের সফল অস্ত্রোপচার দেশেই হয়েছে’

‘আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধদের সফল অস্ত্রোপচার দেশেই হয়েছে’
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চোখের ভিট্রিও রেটিনা সার্জারির আধুনিকায়নে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ও বাংলাদেশ সমানভাবে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা। ফলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ সবার চোখে সফল অস্ত্রোপচার দেশেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রেটিনা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ও আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপট এ রেটিনায় রক্তক্ষরণ ও রেটিনাল ডিট্যাচমেন্ট নিয়ে অনেক রোগীর চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। আঘাতজনিত রেটিনাল ডিটাচমেন্টের বেশির ভাগ রেটিনাগুলোর আঘাতপ্রাপ্ত। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচ্য বিষয় হলো- কতদিন আগে চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, চোখের কোন অংশে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, কত দূরত্বে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, ওই মুহূর্তে চোখে চশমা বা সানগ্লাস পরিহিত ছিল কি না, বর্তমান অক্ষি কোটরের কাঠামো স্বাভাবিক আছে কি-না, চোখের বর্তমান দৃষ্টিশক্তি কী অবস্থায় আছে, চোখের ইন্ট্রা অকুলার প্রেশার স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি আছে কি-না ইত্যাদি। এছাড়াও এক্সরে এবং সিটি স্ক্যানের মাধ্যমেও গুলির উপস্থিতি ও অবস্থান নির্ণয় করা যায়।

তারা বলেন, রেটিনা চোখের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাতলা পর্দা অংশ যা দশটি লেয়ার দ্বারা তৈরি। এটি আলোকে নিউরাল সিগন্যালে রূপান্তরিত করার জন্য দায়ী যা মস্তিষ্কে দৃষ্টি হিসাবে ব্যাখ্যা করে। এটি ক্যামেরার ফিল্মের মতো কাজ করে, ছবি ধারণ করে এবং অপটিক নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়। তবে পৃথিবীতে যেসব কারণে অন্ধত্ব হয়, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি তার অন্যতম কারণ।

চিকিৎসকরা বলেন, ডায়াবেটিসে হার্ট, চোখ এবং কিডনির ওপর প্রভাব পড়ে সব থেকে বেশি। ডায়াবেটিসের প্রভাবে অন্ধত্ববরণও করতে পারেন, যাকে বলা হয় ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি। ডায়াবেটিস চোখের সব অংশের তুলনায় রেটিনায় বেশি ক্ষতি করে। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ এও রেটনার ক্ষতি হয়ে থাকে, যা হাইপারটেন্সিভ রেটিনোপ্যাথী নামে পরিচিত। এছাড়াও বয়সজনিত রেটিনার ক্ষয় যা এআরএমডি বা এজ রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন নামে পরিচিত, এ বিষয়েও জনসচেতনতা সৃষ্টি জরুরি।

এদিকে রেটিনার রোগ সচেতনতায় প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বিশ্ব রেটিনা দিবস পালিত করা হয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য রেটিনা রোগ ও চিকিৎসা সচেতনতা সৃষ্টি। প্রতিবারের মতো দিবসটি উপলক্ষে বিএসএমএমইউ ছাড়াও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাস্পাতাল, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিউট ও হাস্পাতাল, লায়ন্স আই ইনস্টিউট ও হাসপাতাল ও অন্যান্য চক্ষু হাসপাতালে র‌্যালিসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় তাদের বক্তব্যে রেটিনা বিষয়ে রোগ নির্ণয়ে রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, সেইসাথে সাধারণ জনগোষ্ঠী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে রেটিনা চিকিৎসার প্রসারের ওপর জোর প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ, কমিউনিটি চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শওকত কবির, বাংলাদেশ ভিট্রিও রেটিনা সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. তারিক রেজা আলী, বাংলাদেশ ভিট্রিও রেটিনা সোসাইটির মহাসচিব ডা. শাহনুর হাসান, বাংলাদেশ ভিট্রিও রেটিনা সোসাইটির পাবলিকেশন সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মদ আফজাল মাহফুজ উল্লাহ প্রমুখ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক