বিপ্লবকে বিতর্কিত করার অভিযোগ
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা লালন করেন না অনেক স্বাস্থ্য প্রশাসক: এনডিএফ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: যেসব স্বাস্থ্য প্রশাসক গণঅভ্যুত্থানের চেতনা লালন করেন না, তারা ২৪ এর বিপ্লবকে বিতর্কিত করছেন। একইসঙ্গে বৈষম্য দূর করার জন্য বিপ্লব হলেও এখনো চিকিৎসকরা বৈষম্যের শিকার বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।
আজ রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে এ কথা জানান চিকিৎসকদের এই সংগঠনের নেতারা।
বিক্ষোভপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এনডিএফের একাডেমিক সেক্রেটারি ডা. এস শরীফ বলেন, যেসব স্বাস্থ্য প্রশাসক গণঅভ্যুত্থানের চেতনা লালন করেন না, তারা বিপ্লবকে বিতর্কিত করছেন। এ সময় গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা খুঁজে নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বিক্ষোভ শেষে এনডিএফের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি ডা. আব্দুল কাদের নোমান বলেন, পদায়নের জন্য দেড় মাস আগে থেকে অনেক চিকিৎসকের ফাইল প্রস্তুত থাকলেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত চিকিৎসকদের পদায়নের ফাইল ঝুলে আছে। গত ১৫ বছর ধরে যারা বৈষম্যের শিকার তারা এখনো বৈষম্যে পড়ে থাকবে, এটা হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, বৈষম্য থেকে পরিত্রাণ পাবো, কিন্তু বিপ্লব হলেও আমাদের বৈষম্য শেষ হয়নি। আমরা চেয়েছি, কোনো তদবির ছাড়া নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যেন বৈষম্যের শিকার যোগ্য চিকিৎসকদের পদায়ন হয়। নতুন ডিজিও এর আগে বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। তাই আশা ছিল, তিনি আমাদের বিষয়টি বুঝবেন। তিনি এই বৈষম্য নিরসনে কয়েকদিন সময় নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময় অতিবাহিত হয়েছে। অথচ বঞ্চিত চিকিৎসকদের ফাইলগুলোতে ট্রান্সফার হয়নি।
সংগঠনটির এই নেতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও বলেন, ‘দয়া করে আপনি আমাদেরকে আবারও বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিবেন না। এক দিনের ব্যবধানে ৫০টি ফাইল স্বাক্ষর হলো, অথচ এক মাস আগে জমা দেওয়া ফাইলগুলো হলো না। এটা দুঃখজনক।’
‘কোনোভাবে আবার বৈষম্য করবেন না। আমাদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তারা সবাই ১৫ বছর ধরে বঞ্চিত, নির্যাতিত। এতদিন ধরে তারা বৈষম্যের শিকার’—যোগ করেন ডা. নোমান।
বৈষম্যের শিকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) ভালবাসেন জানিয়ে নেতারা প্রত্যাশা করেন, তিনি তাদের ভালোবাসার মূল্য দেবেন। বৈষম্যের শিকার চিকিৎসকদের মূল্যায়নে উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু তা করা হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে দ্রুততম সময়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। বলেন, অন্যথায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এনএএন/এমইউ