১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:২৩ পিএম

৪১০০ নার্স নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের রায় বহাল আপিলের ডিভিশনে

৪১০০ নার্স নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের রায় বহাল আপিলের ডিভিশনে
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিয়োগ বিধি না মেনে ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ২০১৩ সালে নিয়োগ পাওয়া ৪ হাজার ১০০ জন ডিপ্লোমা নার্সের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আপিলের ডিভিশন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে দাখিল করা আপিল খারিজ করেন সুপ্রিম কোর্ট আপিলের ডিভিশন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি মেডিভয়েস নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) সভাপতি খাঁন মো. গোলাম মোর্শেদ। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শাখাওয়াত হোসেন খান। এর আগে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইযারুল হক আকন্দ ২০১৩ সালের রিট পিটিশন নং ৭৮৮১/২০১৩ শুনানি শেষে এসব ডিপ্লোমা নার্সের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, নার্সিং নিয়োগ বিধি ১৯৭৯ না মেনে ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বয়স ৩০ এর স্থলে ৩৬ করে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা পাস নার্সদের মধ্য থেকে ৪ হাজার ১২৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে মর্মে ২০১৩ সালে সরকার একটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। চার বছর মেয়াদি বিএসসি ডিগ্রিধারী নার্সরা আবেদন নিবেদন করার পরেও সেখানে বিএসসি পাস নার্সদের কোনো পদ রাখা হয়নি। এরপর বিএসসি পাস নার্সদের মধ্য থেকে ২৬ জন শিক্ষার্থী সরকারের এই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন।

রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহাপরিচালক স্বাস্থ্য, পরিচালক নার্স বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সাতজনকে বিবাদী করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে জারি করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নার্স নিয়োগের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিয়ম না মেনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করে আদালত।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার বিচারপতির নিকট আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। উভয়ের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। আদালত তার আদেশে বলেন, রিট করা ২৬ জন শিক্ষার্থীর পদ খালি রেখে বাকি ৪ হাজার ১০০ জনকে নিয়োগ দিতে কোনো বাধা নেই।

পরবর্তীতে অপর একটি আবেদনে চেম্বার আদালত এই মর্মে একটি সংশোধনী আদেশ দেন উক্ত আদেশে সরকারের নিযোগের বৈধতা নির্ভর করবে হাইকোর্ট ডিভিশনের পূর্ণাঙ্গ রায়ের উপর। এরপর রিটকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার জজ এ মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন।

হাইকোর্ট বিভাগ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৩ সালে নিয়োগ পাওয়া ডিপ্লোমা নার্সদের নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে পূনাঙ্গ রায় দেন ২০১৪ সালে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ডিভিশনের পূর্ণাঙ্গ রায়ের উপরে মহামান্য আপিলের ডিভিশন আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ প্রদান করেন এবং পূর্ণাঙ্গ আপিল দাখিল করার নির্দেশ দিলে সরকার পক্ষ সিভিল আপিল নং-৩৭৩/২০১৫ দাখিল করেন। উক্ত আপিলটি দীর্ঘ ১০ বছর পর মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশন খারিজ করেন। এমতাবস্থায় মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের রায়টি বহাল থাকে এবং ৪১০০ জন নার্সের নিযোগের অবৈধ থাকে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : নার্স নিয়োগ
রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা ও বাজেট বৈষম্য বরদাশত করা হবে না

রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা ও বাজেট বৈষম্য বরদাশত করা হবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক