০৭ অগাস্ট, ২০২৪ ০৮:৩৯ পিএম

কর্মস্থলে অনুপস্থিত স্বাচিপ সমর্থিত কর্মকর্তা-চিকিৎসকরা

কর্মস্থলে অনুপস্থিত স্বাচিপ সমর্থিত কর্মকর্তা-চিকিৎসকরা
প্রতীকী ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দিন (৫ আগস্ট) থেকে কর্মস্থলে যাচ্ছেন না আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সমর্থিত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা। এতে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন কয়েকটি দপ্তর কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিলেন। আজ বুধবার (৭ আগস্ট) কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে আসলেও তাদের সবাই পুরো সময় কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার, প্রায় ৩০টি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাদের অধিকাংশই স্বাচিপ সদস্য। তাঁরা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন না।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসএমএমইউর এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ভয়ে যাচ্ছি না। আমাদের কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। ফলে কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ রেখেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লক, যা প্রশাসনিক ভবন নামে পরিচিত, সেখানে ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ফটক তালাবদ্ধ রয়েছে। কয়েক দিন ধরে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন না।

এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা কার্যক্রমসহ সকল কিছুতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রি. জে. ডা. মো. রেজাউর রহমান আজ বুধবার (৭ আগস্ট) সকালে মেডিভয়েসকে বলন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গতকাল ও আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরসহ অনেকে আসেননি। ফলে শিক্ষা-প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। সেবার অংশ চালু থাকলেও কিছুটা স্থবিরতা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে ইনশাল্লাহ।

কর্মস্থলে আসেন না ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলম চৌধুরী, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দেবেশ চন্দ্র তালুকদারসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্তকর্তা-চিকিৎসকরা। তবে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন,  হাসপাতাল অংশ ঠিকমতো চলছে।

শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী শামীম উজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক অনুপস্থিত রয়েছেন, যারা আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত। তারা পদগুলো দখল করে আছেন। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি ও কার্যপদ্ধতিও নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। এতে ড্যাব-সমর্থক চিকিৎসকরা ক্ষুব্ধ। তাদের ভয়ে স্বাচিপের চিকিৎসকরা প্রতিষ্ঠান থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, সারাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনে আহত রোগী আসার কারণে নিটোরে অস্ত্রোপচার চলমান আছে। যেসব চিকিৎসক সেবায় যুক্ত আছেন তারা অতিরিক্ত সময় দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। কারণ তাদের অনেক সহকর্মী উধাও হয়ে গেছেন।

তবে জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক কাজী দীন মোহাম্মদ, যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলমসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। 

২৫০ শয্যার যক্ষ্মা হাসপাতালে উপপরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার কর্মস্থলে আসছেন। হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও রোগীর ভিড় কম। 

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফাসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সকল পর্যায়ের চিকিৎসকরা নিয়মিত অফিস করছেন। তবে দেশের অস্থিতিশীলতার কারণে সেখানে রোগীর সংখ্যা কম।

দুই দিন পর আজ বুধবার (৭ আগস্ট) কর্মস্থলে গেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ বি এম মাকসুদুল আলম ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমান। তারা জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে আগামীকাল থেকে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গতকাল মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) পর্যন্ত কার্যালয়ে আসেননি। তবে গতকাল তিনি অনলাইনে সবাইকে দিক নির্দেশনামূলক কাজে কিছু সময়ের জন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। এদিন দুই অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ সব শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা কিছু সময়ের জন্য কর্মস্থলে আসেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বেশি সময় অবস্থান করেননি। আজ সকলে উপস্থিত হলেও কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া বাকিরা কিছু সময় পর চলে যান।

আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন শীর্ষ পদে স্বাচিপের সদস্য বা সমর্থকদের পদায়ন করা হয়। এতে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসক দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি ও পদবঞ্চিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অনেকে ক্ষুব্ধ। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর তাঁদের ভয়ে আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকেরা এসব প্রতিষ্ঠানে আসছেন না।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক