ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে রিমাল, উপকূলে জলোচ্ছ্বাস
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল স্থলভাগে ওঠার পর দুর্বল হয়ে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্বদিকে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি দেশের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ সোমবার (২৭ মে) ভোর থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, সেই সঙ্গে রয়েছে দমকা হাওয়া।
প্রতি ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৮ কিলোমিটার বেগে উপকূল অতিক্রম করছে প্রবল এ ঘূর্ণিঝড়টি। জোয়ারের সময় হওয়ায় এর প্রভাবে উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করে বর্তমানে কয়রা, খুলনার নিকট অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ বৃষ্টিপাত ঝরিয়ে পরবর্তী ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে কিছুটা দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ‘রিমাল’ ক্রমে দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপ, নিম্নচাপ, সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও লঘুচাপের পর নিঃশেষ হয়ে যাবে। তবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত এখনো বহাল রয়েছে।
‘রিমালের’ প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বইছে ঝড়ো হাওয়া। রাজধানীতেও বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইছে। সোমবার সারাদিনই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তর।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তৃতির কারণে সোমবার উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোনো কোনো জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ বাতাসের গতি রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘণ্টায় ১১১ কিলোমিটার। রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ১২৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়।
রোববার (২৬ মে) রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলাসহ উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
এএনএম/
-
২৭ মে, ২০২৪