১১ মে, ২০২৪ ০৫:১১ পিএম

২০ বছরের কষ্ট ১২ ঘণ্টায় লাঘব, রমেক চিকিৎসকদের অবিস্মরণীয় সাফল্য

২০ বছরের কষ্ট ১২ ঘণ্টায় লাঘব, রমেক চিকিৎসকদের অবিস্মরণীয় সাফল্য
অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে এমদাদুল হক।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রংপুরের তারাগঞ্জের বাসিন্দা এমদাদুল হক। দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ মুখের চোয়ালজুড়ে বড় আকৃতির টিউমার নিয়ে ভুগছেন। বিভিন্ন জায়গায় নিয়েছেন চিকিৎসা, আসেনি কোনো সমাধান। অবশেষে সম্প্রতি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর মুখের টিউমার অপসারণ করা হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের নেতৃত্বে ছিলেন দেশের প্রখ্যাত ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল মাসুদ। সহযোগী হিসেবে ছিলেন রংপুর মেডিকেলের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আরিফুল ইসলাম, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. খন্দকার শাহাজাহান, রেজিস্ট্রার ডা. সাব্বির মুর্শিদ, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. বিদ্যুৎ সরকার, অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের ডা. তাইফুর রহমান এবং রংপুর মেডিকেলের ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫৫ বছর বয়সী এমদাদুল হক ২০ বছর নারিকেলের মতো বড় সাইজের টিউমার বয়ে বেড়িয়েছেন। ১০ বছর আগে একবার রংপুর মেডিকেলের ইএনটি বিভাগেও আসেন চিকিৎসার জন্য। কিন্তু বড় টিউমার দেখে অপারেশনের ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। তখন হতাশ হয়ে ফিরে যান এমদাদ, তাতেও আশা ছাড়েননি তিনি। গত কয়েক মাস আগে আবারও রংপুর মেডিকেলে আসেন এমদাদ। এবার বিষয়টি নজরে আসে ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আরিফুল ইসলামের। পরে রোগীটিকে নিয়ে ডা. আরিফ পরামর্শ করেন ডা. আবদুল্লাহ আল মাসুদের সঙ্গে। রোগীকে দেখে রংপুর মেডিকেলেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

এ প্রসঙ্গে ডা. আবদুল্লাহ আল মাসুদ আজ শনিবার (১১ মে) দুপুরে মেডিভয়েসকে বলেন, গত রোজায় টানা ১২ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এমদাদের ২০ বছরের সীমাহীন কষ্ট লাঘব করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। চোয়ালের বড় একটা অংশ টিউমারসহ ফেলে দিয়ে মাইক্রোভাসকুলার সার্জারি করে পায়ের হাড়, চামড়া ও মাংশপেশী নিয়ে চোয়াল প্রতিস্থাপন করে দেওয়া হয়েছে (ফিবুলা ফ্রি ফ্ল্যাপ)।

তিনি বলেন, ‘এমদাদ আগে লোকালয়ে ও বাজারে যেতে পারতেন না। মানুষ তাঁকে তাড়িয়ে দিতো। আমরা কিছু তার বক্তব্য নিয়েছি, যা শুনে চোখ দিয়ে পানি আসার মতো। তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ড করতে পারতেন না। এখন তিনি খুবই খুশি এবং সমাজে চলতে ফিরতে পারছেন। তার মুখের গঠনও ঠিক হয়ে গেছে।’

জানতে চাইলে ডা. আরিফুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘রোগীটি অন্য ওয়ার্ড থেকে আমাদের এখানে আনা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। এতো বড় টিউমার, তাও মুখের চোয়ালে। তখন ভাবি, কী করা যায়? অস্ত্রোপচারটি আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। অবশেষে সবার সহযোগিতায় সবকিছু ঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে অ্যানেস্থিসিয়া বিভাগের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

এসএইচ/এএনএম

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : রংপুর মেডিকেল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক