১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:৫০ এএম

ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ ঘণ্টায় ৭ প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব

ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ ঘণ্টায় ৭ প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব
১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাত থেকে ১৪ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত এসব প্রসব সম্পন্ন হয়। ছবি: ইউএইএফপিওর সৌজন্যে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিক সহযোগিতায় মাত্র ছয় ঘণ্টায় সাতজন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাত থেকে ১৪ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত এসব প্রসব সম্পন্ন হয়।

আজ মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবু সাদাত মো. মফিদুল ইসলাম মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘গত বুধবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সালাউদ্দিনের স্ত্রী নাদিরা বেগম (২৪) কন্যাসন্তান প্রসব করেন। রাত ১টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া গ্রামের লিটন হাওলাদারের স্ত্রী ফারজানা (২১) ছেলে সন্তান প্রসব করেন। রাত সোয়া ৩টার দিকে জেলার চিতলমারী উপজেলার খড়িয়া গ্রামের দেবাশিষ মন্ডলের স্ত্রী চুমকি মন্ডল (২৫) মেয়ে সন্তান প্রসব করেন। ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে ফকিরহাটের পাইকপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন মাসুমের স্ত্রী আসমা বেগম (২৫) ছেলে সন্তান প্রসব করেন। ভোর পৌনে ৫টার দিকে ফকিরহাটের মানসা-মৌভোগ গ্রামের আনিছুর রহমানের স্ত্রী চম্পা বেগম (২৫) মেয়ে সন্তান প্রসব করেন। ভোর সাড়ে ৫টায় ফকিরহাটের পাগলা শ্যামনগর গ্রামের সুমনের স্ত্রী শালিমা বেগম (২০) ছেলে সন্তান প্রসব করেন। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ফকিরহাটের মুলঘর গ্রামের শিকদার আল-মামুনের স্ত্রী সুমা বেগম (২০) মেয়ে সন্তান প্রসব করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ নার্সদের সহায়তায় এসব স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। মা ও নবজাতকরা সবাই সুস্থ রয়েছে। এই সাত মা সন্তান প্রসবের জন্য বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর সাতটি নরমাল ডেলিভারির খবর ছড়িয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার সকালে এলাকার উৎসুক নারী-পুরুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতকদের দেখতে যান। এই প্রথম এত অল্প সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন গর্ভবতী মায়ের স্বাভাবিক প্রসব করানো হলো।’

ইউএইচএফপিও বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মায়েদের চারবার চেকআপ করানো হয়। প্রথম চেক আপ ২৪ ঘণ্টা পর, দ্বিতীয় চেক আপ তিনদিন পর, তৃতীয় চেক আপ সাতদিন পর এবং চতুর্থ চেকআপ ৪২ দিন পর। শুক্রবার প্রথম চেক আপ শেষে ওই প্রসূতি মায়েদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে গর্ভবর্তী মায়েরা নরমাল ডেলিভারি না করে সিজারিয়ানের দিকে বেশি ঝুঁকে। অনেক সময় কয়েকজন চিকিৎসক এবং কিছু বেসরকারি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিনা প্রয়োজনে ওই গর্ভবতী মায়েদের সিজারিয়ানে উৎসাহিত করে। কয়েকজন চিকিৎসক নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে অনেক ক্ষেত্রে বিনা প্রয়োজনে সিজারিয়ানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা বিরোধী।’

গত সেপ্টেম্বর মাসে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৫ জন, অক্টোবরে ৫৪ জন এবং নভেম্বর মাসে ৪৮ জন গর্ভবতী মায়ের নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে বলেও জানান এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক