রাঙ্গামাটি মেডিকেলে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সচেতনতা সপ্তাহ পালন
‘এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বিশ্বকে নিয়ে যাচ্ছে প্রাক এন্টিবায়োটিক যুগে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (অকার্যকারিতা) সচেতনতা সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার ক্যাম্পাসে (২২ নভেম্বর) র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. কোহিনুর পারভীন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স একটি মহামারীর রূপ নিয়েছে। তাই সারা বিশ্বে ১৮-২৪ নভেম্বর পালিত হয় বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ। করোনার মতো মহামারী এসেছে এবং চলে গিয়েছে, ডেঙ্গুর ভয়াবহতাও কমে এসেছে। কিন্তু জীবাণুর (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাংগাস, প্রটোজোয়া) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার যে হাতিয়ার এন্টিমাইক্রোবিয়ালের কার্যকারিতা হারানোয় বিশ্বকে ঠেলে দিয়েছে এক নীরব মহামারীর দিকে।
তারা বলেন, পশু খামারে, পোল্ট্রি, ফিশারিতে এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক সেবন—এই দুর্য়োগের অন্যতম কারণ। যখন এন্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়নি তখন মানুষ সাধারণ সর্দি কাশি বা সামান্য অসুস্থতায় মারা যেত। কিন্তু বর্তমানে বাজারে শত শত প্রকার এন্টিবায়োটিক থাকা সত্ত্বেও এটির অকার্যকারিতা আমাদেরকে আবারও সেই প্রাক এন্টিবায়োটিক যুগে নিয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, ‘আমরা যদি এখনই সতর্ক না হই, তাহলে দেখা যাবে শেলফ ভর্তি এন্টিবায়োটিক থাকার পরও এগুলো আর আমাদের শরীরে কাজ করছে না। তাই সচেতনতাই পারে আমাদের এ নীরব মহামারীর হাত থেকে রক্ষা করতে। সচেতনতার বিস্তারে রাঙ্গামাটি মেডিকেল তার সূচনা লগ্ন থেকেই বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনা সপ্তাহ পালন করে আসছে এবং মূল ভূমিকা পালনের দায়িত্ব বরাবরের মত ফার্মাকোলজি বিভাগ পালন করে আসছে।’
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা. প্রীতি প্রসূন বড়ুয়া, হাসপাতালের পরিচালক ডা. নীহার রঞ্জন, ডা. মনোজ কুমার বড়ুয়া, ডা. জাহানারা রোজী, ডা. মোয়াল্লেম, ডা. প্রসেনজিৎ, ডা. ইলমা, ডা. নীপা, ডা. শাইনি, ডা. পম্পি।
টিআই/এএনএম