নানা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এগোচ্ছে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখেই এগিয়ে চলছে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। এ নিয়ে সকল অংশীজনদের সঙ্গে অচিরেই বৈঠকে বসবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। সেখানে তাঁদের লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজনে নীতিমালায় সংশোধনী আনা হবে। এর আলোকেই অনুষ্ঠিত হবে প্রত্যাশিত ভর্তি পরীক্ষা। তবে বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হলে গতবারের তুলনায় পরীক্ষা কমপক্ষে এক মাস এগিয়ে আনা হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকালে নিজ কার্যালয়ে মেডিভয়েসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে অনেকগুলো পূর্বশর্ত যুক্ত। প্রথম পূর্বশর্ত হলো, পরীক্ষা আয়োজনের সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আরও অনেকগুলো বিষয় জড়িত। যদিও আমাদের চেষ্টা আছে, গতবারের চেয়ে যেন অন্তত এক মাস এগিয়ে আনা যায়। গত পরীক্ষা নিয়েছিলাম চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। পরীক্ষা নেওয়ার পরই আমাদের মূল কার্যক্রম অর্থাৎ ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী, গরিব মেধাবী কোটাসহ ইত্যাদি নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর ক্লাস শুরু হয়।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পূর্বশর্ত হলো, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। এখনো ফলাফল ঘোষিত হয়নি। ফলাফল প্রকাশের পরপরই আমাদের কার্যক্রম অর্থাৎ বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জানতে পারবো। কিন্তু এজন্য আমরা বসে নেই। মূলত আমরা সব সময় প্রস্তুতি গ্রহণের মধ্যেই থাকি। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে একাধিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের অংশীজনদের সঙ্গে আরেকটি মিটিং অচিরেই হবে। এখানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষগণ থাকবেন। এখানে সকল অধ্যক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হবে না, প্রতিনিধিত্বশীল ন্যূনতম সংখ্যক কলেজের অধ্যক্ষ আমন্ত্রিত হবেন। সেখানে তাঁদের লব্ধ অভিজ্ঞতা এবং সমস্যাগুলো জানতে চাইবো। পরে এগুলো ভর্তি কমিটিসহ ঊর্ধ্বতন কমিটি সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে। এর ভিত্তিতে প্রয়োজনে নীতিমালাতে সংশোধন আনা হবে। আর এর আলোকেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদেরও (স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর) কিছু পর্যবেক্ষণ আছে, যেসব জায়গায় অধিকতর ভালো করার ব্যাপারে প্রতীজ্ঞ আমরা। গত ভর্তি পরীক্ষায় আমাদের অভিজ্ঞতা ও আমাদের শিক্ষণীয় নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা আলোচনা শুরু করেছি।’
তবে সুনির্দিষ্ট সময়ক্ষণ জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এই স্বাস্থ্য প্রশাসক। বলেন, ‘পুরো বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছে, কিন্তু পরীক্ষা কবে হবে, এ ব্যাপারে কিছু বলার মতো সময় এখনো হয়নি।’
অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল বলেন, ‘মূল কথা হলো, গত বছর যে সময় ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে, এবার তার চেয়ে কমপক্ষে এক মাস এগিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা আছে। করোনার কারণে শিক্ষাবর্ষ যে পিছিয়ে গিয়েছিল, সেটা এগিয়ে আনার চেষ্টা চলবে। এ চিন্তা থেকেই করোনার মধ্যেও মেডিকেল কলেজগুলো সবার আগে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে। সে সময় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাও থেমে থাকেনি।’
প্রসঙ্গত, গত ১০ মার্চ ২০২২-২৩ সেশনের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল প্রকাশিত হয় প্রকাশিত হয় ১২ মার্চ।
এই সেশনে মোট পাসের সংখ্যা ৪৯ হাজার ১৯৪ জন। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলেরা পাস করেছে ২০ হাজার ৮১৩ জন, যা শতকরায় ৪২ দশমিক ৩১ শতাংশ ও মেয়েরা পাস করেছে ২৮ হাজার ৩৮১জন অর্থাৎ ৫৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর মেধ্যে ছেলেরা সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাবে এক হাজার ৯৫৭ জন অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ। আর মেয়েরা সুযোগ পাবে দুই হাজার ৩৯৩ অর্থাৎ ৫৫ শতাংশ।
তারও আগে ২০২২ সালের ১ এপ্রিল ২০২১-২২ সেশনের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর চার দিন পর ৫ এপ্রিল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে পাস করে ৭৯ হাজার ৩৩৭ জন। পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
১৬ জুন, ২০২৫
-
১৭ মে, ২০২৫
-
২৪ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
জাতীয় মেধায় দ্বিতীয়
ক্যান্সারে বাবার মৃত্যু ও মায়ের ইচ্ছাতে মেডিকেলে সানজিদ সিরাজ
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
কাগজপত্র যাচাই ২৯ জানুয়ারি
কোটায় সুযোগ পাওয়া ১৯৩ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চয়তায়