২৯ অক্টোবর, ২০২৩ ০৫:০৬ পিএম

২০৫০ সাল নাগাদ মধ্যম-নিম্ন আয়ের দেশে ৮০% স্ট্রোক

২০৫০ সাল নাগাদ মধ্যম-নিম্ন আয়ের দেশে ৮০% স্ট্রোক
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্ট্রোক সারা বিশ্বে পঙ্গুত্বের এক নম্বর কারণ। আর মৃত্যুর দিক থেকে দেশ ভেদে দুই অথবা তিন নম্বর। ছবি: আব্দুল লতিফ সাদ্দাম।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত চার দশকে উন্নত দেশগুলোতে স্ট্রোকের ঘটনা কমেছে, কিন্তু অনুন্নত দেশগুলোতে এর হার বেড়েছে। আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ৮০ শতাংশ স্ট্রোকে আক্রান্তের ঘটনা ঘটবে। দৈনন্দিন জীবনে কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে ভয়াবহ এ স্বাস্থ্য সমস্যা ৮০-৯০ ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

এ সময় এই সমস্যা থেকে সুরক্ষা পেতে সবাইকে এ বিষয়ে জানার এবং চারপাশের মানুষকে জানানোর পরমার্শ দেন বক্তারা। তারা বলেন, দৈনন্দিন জীবনে কিছু পদক্ষেপ নিলে ৮০-৯০ ভাগ স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্ট্রোক সম্পর্কে জানুন, চারপাশের মানুষকে জানান। আর এভাবে স্ট্রোক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সহজতর হবে। কারণ নিয়ম অনুসরণের মাধ্যমে ৮০-৯০ ভাগ স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, রক্তনালীর দেয়াল চর্বিতে পূর্ণ হয়ে গেলে রক্ত বাঁধাগ্রস্ত হয়, আর এতে স্ট্রোক হয়। সুতরাং মস্তিষ্কের রক্তনালীর রোগই হলো স্ট্রোক। এটা রক্তক্ষরণ কিংবা রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়া হতে পারে। রক্তনালী বন্ধ হলে একটি জায়গা মরে গেল, রক্তক্ষরণ হলে বুঝতে হবে ওই জায়গায় কাজ করছে না। একই রকম অসুখ হার্টে হলে তাকে বলে হার্ট অ্যাটাক। উভয়ই রক্তনালীর অসুখ। এটা কিডনি কিংবা পায়েও হতে পারে। পায়ের রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকের পা ব্যথা হয়। সুতরাং স্ট্রোক মস্তিষ্কের অসুখ, হার্টের না। না জানার কারণে অনেকে বলেন, হার্টে স্ট্রোক হয়েছে। মূলত হার্ট অ্যাটাক হয়, মস্তিষ্কে স্ট্রোক হয়।

তিনি আরও বলেন, স্ট্রোক সারা বিশ্বে পঙ্গুত্বের এক নম্বর কারণ। মৃত্যুর দিক থেকে দেশ ভেদে দুই নম্বর অথবা তিন নম্বর। ২০৫০ সাল নাগাদ ৮০ ভাগ স্ট্রোক মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে হবে। 

অনুষ্ঠানে ভয়াবহ এ রোগের কারণ তুলে ধরে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণসহ সবাইকে পরিশ্রমী হওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরো মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, সপ্তাহে ১৫০ মিনিট অর্থাৎ আড়াই ঘণ্টা হাঁটুন। সেই হিসাবে প্রতিদিন হাঁটলে পঁচিশ মিনিট করে আর পাঁচ দিন হাঁটলে ত্রিশ মিনিট করে হাঁটতে হবে। সময় না পেলে সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন হলেও হাঁটুন। হাঁটতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। রাস্তায় বের হওয়ার সুযোগ না পেলে ঘরে হাঁটুন। অনেকে বলেন, তিনি রান্না-বান্না করেন, এতে তাঁর অনেক হাঁটা হয় ..., না এই হাঁটায় হবে না।

স্ট্রোকের কারণ তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, মোবাইল কিংবা ফাস্টফুডে আসক্তি স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। আর এটা আমাদের মতো দেশগুলোতে ক্রমাগতভাবেই বাড়ছে। ফাস্টফুড এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে।’

এ সময় স্ট্রোকের বিভিন্ন লক্ষণ তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে আক্রান্ত রোগীর জীবন বাঁচাতে দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়ার সঙ্গে কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং এক হাত এক পা দুর্বল হয়ে গেলে বুঝতে হবে স্ট্রোক হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সময়কে কাজে লাগানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুততম সময়ে নিউরোলজি সেন্টারগুলোতে হাজির হলে মস্তিষ্ককে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ব্যত্যয় ঘটলে রোগীর পঙ্গুত্ববরণ, এমনকি জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বাসায় মেহমান দাওয়াত দিয়ে যা খাওয়ান, এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন। সুস্থ থাকতে চাইলে স্বাভাবিক দিনের বাজার করা সাধারণ খাবার খান। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। তেল পরিহার করুন। কোনো তেলই ভালো না। এটা অলিভওয়েল, সরিষা কিংবা সয়াবিন তেল হোক।

স্ট্রোক থেকে সুরক্ষা পেতে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যকে সচেতন করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সেই সঙ্গে কম বয়সীদের স্ট্রোকের মাত্রা কমাতে শিশুদেরকে সুশৃঙ্খল জীবনে অভ্যস্ত করানোর আহ্বান জানান তারা।

ন্যাশনাল স্ট্রোক ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ এবং হাইকেয়ার নিউরো স্পেশালাইজড হাসপাতাল সচেতনতানমূলক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী ও চমৎকার অনুষ্ঠানের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান অতিথিবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খান বলেন, ‘আয়োজক চিকিৎসকবৃন্দ অনেক ব্যস্ত মানুষ। আমাদের উপকারের জন্য তাঁরা সবাইকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছেন। এর তুলনা হয় না।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোর্শেদ আলম। তিনি বলেন, অনেক বড় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ এখানে উপস্থিত হয়েছেন। স্ট্রোক করার পর আমি যদি চিকিৎসা নিতে তাঁদের কাছে যাই, তাহলে সিরিয়াল পেতে পাঁচ-সাত দিন সময় লেগে যাবে, কিংবা কারও সহযোগিতা নিতে হবে। এ রকম বিশিষ্টজনেরা আমাদের কাছে এসে আমাদেরকে সচেতন করছেন। তাঁদের প্রতি সীমাহীন কৃতজ্ঞতা রইলো। 

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিশ্ব স্ট্রোক দিবস
রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক