চিকিৎসার পরেই আইন পেশা: বিদায়ী প্রধান বিচারপতি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সেবার দিক থেকে চিকিৎসার পরেই আইন পেশার অবস্থান বলে মনে করেন বিদায়ী প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এটা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর ওপর।
সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিদায়ী বিচারপতি।
তিনি বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে উকালতি যখন শুরু করি, তখন ভালো লাগতো না। তার পর যখন উকালতির ভিতরে (গভীর) ঢুকলাম, তখন বুঝতে পারলাম, উকালতির মানে কী? তখন মনে হয়েছে, চিকিৎসা সেবাকে যদি দেশের এক নম্বর সেবা হিসেবে গণ্য করি, তাহলে উকালতিকে তার পরে ধরতে পারি। এটা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর ওপর।’
মামলা জট কমাতে নিজের তৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন দ্বিতীয়বার জজ হিসেবে ২০০৯ সালে শপথ গ্রহণ করি, সেরেস্তায় (দপ্তর) প্যান্ডিং মামলার সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার। এই ১৮ হাজার লোকের সঙ্গে আমি মিশেছি। তাদের সমস্যা দেখেছি, তাদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
বিনাপয়সায় অসংখ্য মামলায় লড়েছেন জানিয়ে তিন বলেন, ‘ভেবেছি, এরা আমার কেউ হতে পারতো, দূর-দূরান্ত থেকে আমার চেম্বার পর্যন্ত এসেছে, আমি তাদেরকে কখনো নিরাশ করিনি।’
তিনি বলেন, ‘বাবা-মা ও সাধারণ মানুষের দোয়ার কারণেই আমি বিচারপতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হয়েছি।’
কোনো আক্ষেপ আছে কি-না, জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার কোনো আক্ষেপ নেই। তবে ন্যায়কুঞ্জগুলো যদি শেষ করে যেতে পারতাম, ভালো লাগতো। মসজিদের কাজ যদি শেষ করতে পারতাম, ভালো লাগতো। সব তো হয় না। আমার সময় এক বছর ৮ মাস ২৫ দিন মাত্র। এর প্রতিটি মহূর্ত কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’
বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে দেশের ২৪টি জেলায় নিজে ঘুরেছি। জাজদের ইন্সপায়ার করার চেষ্টা করেছি যাতে, মামলা ডিসপোজাল বেশি হয়। দুই ভাবে বলেছি। একটা হচ্ছে, দেখি চেষ্টা করে মানুষের জন্যে কিছু করা যায় কি না।’
হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘২২ সালে ৩৪ জেলায় শতভাগ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ২৪টি জেলায় শতভাগ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এটা যদি ১২৪ ভাগে আনা সম্ভব হতো, এবং ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী ৪/৫ বছরে মামলা জট থেকে কমে আসবে।’