বনানীর প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট বন্ধ হলো যেসব কারণে
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চলমান অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর বনানী এলাকার প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট লিমিটেড ও ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার গত ২০ সেপ্টেম্বর বন্ধ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আজ মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কারণ ব্যাখ্যা করেছে অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. মো. হাবিবুল আহসান তালুকদার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের অনিয়মসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।
যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
১. লাইসেন্স বিহীনভাবে রক্ত পরিসঞ্চালন কার্যক্রম পরিচালনা করা যা, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন-২০০২ এর ধারা ১৮ (১) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ
২. মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার করা
৩. সেবা গ্রহীতাদের নিকট থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়
৪. মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও বিদেশগামী যাত্রীদের পরীক্ষার সনদ প্রদান করা
৫. হাসপাতালের লাইসেন্স ব্যতীত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালু রাখা
৬. অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন জনবল দিয়ে ল্যাবরেটরিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং রোগীদের ভুল রিপোর্ট দিয়ে প্রতারিত করা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গৃহীত প্রদক্ষেপসমূহ
১. গত ১৮ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন দল প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনকালে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন অমান্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে জনগণের হয়রানি, মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট এবং অদক্ষ জনবলের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্মারক নং-স্বাঃ অধিঃ/হাসঃ/বিবিধ/২০২৩/৯২৬ মূলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ এবং লাইসেন্স স্থগিত করা হয়।
২. রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা ও কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট রিটপিটিশন = ৬৫৬১/২০২৩ দায়ের করেন।
৩. প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা ও কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আপিল আবেদন করেন এবং আপিল নিষ্পত্তি করা হয় আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে।
৪. আদালত রুলটি খারিজের জন্য তারিখ ঘোষণা করলে প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কর্তৃপক্ষ সময়ের আবেদন করেন।
৫. পরবর্তীতে সম্পূরক জবাব দায়ের করলে আদালত মূল কোর্টের জন্য নির্দেশনা দেন এবং সাত দিনের মধ্যে প্রার্থীর আবেদন নিষ্পত্তির জন্য রুল জারি করেন।
৬. পরবর্তীতে প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট অন্য আদালতে পুনরায় ১২১২৬/২০২৩ রিট পিটিশন দায়ের করেন।
৭. আদালতের নির্দেশনার কারণে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করেন।
৮. এরপর প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কর্তৃপক্ষ আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কে আপত্তিকর, মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন।
৯. সারাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেগুলি অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন অনিয়মের মধ্যে চলমান আছে সেগুলির বিষয়ে The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories Regulation Ordinance 1982 অনুযায়ী চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে জনগণ হয়রানির শিকার না হয়।
১০. চলমান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য উপস্থাপন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন।
এদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট লিমিটেড ও ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার দখল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আবুল খায়ের।