২২ অগাস্ট, ২০২৩ ০৪:৫৬ পিএম

‘হাজাম দিয়ে বাড়িতে সুন্নতে খতনা করা নিরাপদ নয়’

‘হাজাম দিয়ে বাড়িতে সুন্নতে খতনা করা নিরাপদ নয়’
সংগৃহীত ছবি।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাজাম দিয়ে বাড়িতে সুন্নতে খতনা করা কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞান স্বীকৃত প্রক্রিয়া নয়। এ পদ্ধতিতে সুন্নতে খতনা করলে বিপদ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা.কামরুল হাসান সোহেল।

সম্প্রতি কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

জানা যায়, কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলায় বাড়িতে হাজাম দিয়ে সুন্নতে খতনা করা হয় এক শিশুর। পরবর্তীতে শিশুটির পুরুষাঙ্গে ক্ষতের সৃষ্টি  হয়। এবং ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত শুরু হয়। ফলে রোগীর প্রস্রাব, পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

এমন অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সিফাত সালেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিরপাদভাবে অসম্পূর্ণ খতনাটি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। 

ইউএইচএফপিও ডা. কামরুল হাসান সোহেল মেডিভয়েসকে বলেন, ‘শিশুটিকে বাড়িতে হাজাম দিয়ে সুন্নতে খতনা করা হয়, কিন্তু হাজাম ব্লেডিং হওয়ার স্থান সেলাই করেনি। হাজামের সুন্নতে খতনা করা অসম্পূর্ণ ছিলো, তাই রক্তপাত বন্ধ হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে, চিকিৎসকরা সমস্যাটি সমাধান করেন।’ 

বাড়িতে হাজাম দিয়ে সুন্নতে খতনা করানো ঠিক নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাজাম দিয়ে সুন্নতে খতনা বিলটিন ম্যাথডে করা হয়। এক সময় সুন্নতে খতনা হাসপাতালে করার প্রচলন ছিলো না। তখন হাজাম দিয়ে করা হতো। বিলটিন ম্যাথডে হলো, পুরুষলিঙ্গের চামড়া টেনে ধরে ব্লেড দিয়ে এক পোঁচে কেটে ফেলা। এতে অনেক সময় দেখা যায় চামড়া বেশি কেটে ফেলে, আবার কম কেটে ফেলে। চামড়া বেশি কেটে ফেললেও ভবিষ্যতে সমস্যা হয়, আবার কম কাটলেও সমস্যা হয়। আর হাসপাতালে মেজারমেন্ট ঠিক করে কাটা হয় এবং পরে সেলাই করা হয়। তাই হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করলে আর রক্তপাত হওয়ার শঙ্ক থাকে না।’ 

ইউএইচএফপিও বলেন, ‘বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুন্নতে খতনা করার সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখানে লোকাল এ্যানেসথেসিয়া দিয়ে করানো হয়। যার জন্য ব্যাথাও হয় না। আর রোগীও সুন্নতে খতনা করার ২ ঘণ্টার পর বাড়িতে ফিরে যেতে পারে।  ৮ থেকে ১০ দিন পরে সেলাই কেটে ফেললে রোগী স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর সরকারি হাসপাতালে সুন্নতে খতনা বিনামূল্যে করা হয়।’

ডা.কামরুল হাসান সোহেল বলেন, ‘হাসপাতাল সুন্নতে খতনা করার বিষয় ব্যাপকভাবে প্রচার হয় না। বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  প্রতি সোমবার-বুধবার সুন্নতে খতনা করানো হয়। সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ জন আসে সুন্নতে খতনা করানোর জন্য। কিন্তু মানুষ এসব বিষয়গুলো বাড়িতে বসে করতেই পছন্দ করে। এ জন্য তারা হাসপাতালে আসতে চায় না। সামজিক ট্যাবুর জন্যই মানুষ সুন্নতে খতনা করাতে হাসপাতালে আসে না।’ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক