১৬ জুলাই, ২০২৩ ০৪:১০ পিএম

‘শ্রমিকরা ২৩০০০ টাকা ভাতা চান, চিকিৎসকদের দাবি অযৌক্তিক কীভাবে’

‘শ্রমিকরা ২৩০০০ টাকা ভাতা চান, চিকিৎসকদের দাবি অযৌক্তিক কীভাবে’
বিএসএমএমইউর বটতলায় দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট। ছবি: আব্দুল লতিফ সাদ্দাম

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভাতা বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে গত ছয় মাস ধরে আন্দোলন করছেন উল্লেখ করে বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা অভিযোগ করেছেন, সবাই ফোনে আশ্বস্ত করলেও কেউ দাবি মেনে নেয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ফেরানোর উদ্যোগ না নিয়ে জনগণকে সেবাবঞ্চিত করা হচ্ছে, কষ্ট দেওয়া হচ্ছে।

আজ রোববার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বটতলায় অবস্থান ধর্মঘটে এসব কথা বলেন দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা।

নিজেদের দাবির যথার্থতা তুলে ধরে তারা বলেন, ‘আজ শ্রমিকরা ন্যূনতম ২৩ হাজার টাকা ভাতা চান, সেখানে ডাক্তাররা ৫০ হাজার টাকা চাইলে কেন অযৌক্তিক হবে?’

এ সময় বেসরকারি পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী ডা. রাশিদা সুলতানা রিংকু বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে আমরা পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা আন্দোলন করছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে আমরা বিশ হাজার টাকায় চলতে পারছি না, সেজন্য আমরা ভাতা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছি।’

এই দাবিতে গত দুই মাস ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকদের সকল সংগঠন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে গত ছয় মাস ধরে এ নিয়ে নানা কথা-বার্তা বলেছি। কিন্তু কোনো জায়গা থেকে কোনো আশ্বাস পাইনি। আমরা গত মাসে বিএসএমএমইউ এবং বিসিপিএস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি।’ 

রোগীর সেবা স্পর্শকাতর পেশা হওয়ায় চূড়ান্ত কর্মসূচি দিতে অনেক সময় নিয়েছেন জানিয়ে এই প্রশিক্ষণার্থী বলেন, ‘গত মাসে বলেছি, আমরা কর্মবিরতি যাচ্ছি, কিন্তু যাইনি। এ কর্মসূচির বিষয়ে বারবার সময় নিয়েছি। কারণ আমাদের পেশাটা একটা মানবিক পেশা, আমরা চাইনি রোগীদেরকে জিম্মি করে দাবি আদায় করতে। গত মাসের ১২ তারিখ থেকে পেছাতে পেছাতে আমরা অনেক সময় নিয়েছি। এর মধ্যে আমাদেরকে অনেকেই ফোনে আশ্বস্ত করেছেন, কেউ এগিয়ে আসেননি। সামনে এসে কোনো ঘোষণা দেননি।’

তারা বলেন, ‘আজকে দুই থেকে আড়াই হাজার চিকিৎসক এখানে জড়ো হয়েছেন, আমাদের অভিভাবক কে? এখানে কোনো জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক দেখতে পাচ্ছেন? আমাদের কোনো অভিভাবক নেই, আমাদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে।’

সবাই আশ্বস্ত করেছেন উল্লেখ করে এই নবীন চিকিৎসক বলেন, ‘সবাই বলছেন, তোমরা কোনো আন্দোলনে যেও না, আমরা দেখছি, আমরা দেখছি। কিন্তু দেখতে দেখতে ছয় মাস হয়ে গেছে, কেউ নজর দিচ্ছেন না।’

চিকিৎসকরা বলেন, ‘আমরা বারবার কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েও এমন কর্মসূচিতে যাইনি। কিন্তু আমাদের নীতিনির্ধারকবৃন্দের দেশের জনগণের ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা নেই। পরিবহন ধর্মঘট হলে, দুই দিন পরিবহন বন্ধ থাকলে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের ডেকে মিটিং করেন। কারণ তারা চান না যে, জনগণের ভোগান্তি হোক।’

আজ টানা ৯ দিন কর্মবিরতিতে আছেন উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘জনগণ যে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এটা বুঝতে পারছেন না। তাঁরা আমাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জনগণকে জিম্মি করছেন। চিকিৎসকরা না, তারা জনগণকে জিম্মি করছেন।’

চিকিৎসকরা বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাদেরকে হাসপাতাল থেকে ফোন দিয়ে কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়, তারা চালাতে পারছেন না। নানা রকম ভয়ভীতি দেখানো হয়, কিন্তু সামনে এসে তাদের দাবি পূরণে ব্যাপারে কেউ কোনো ঘোষণা দিচ্ছেন না।

ডাক্তার ছাড়া হাসপাতাল চলছে না উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের সামনে এসে এটা বলছেন না। তাহলে কেন ফোনে আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়? গতকাল খবর এসেছে, ডিএনসিসি ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। আজ ৭ থেকে ৮ হাজার ডাক্তার রাস্তায় আন্দোলন করছে, তাহলে কে সেবা দিবে? আপনাদের কি জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? আপনারা ডাক্তারদের জিম্মি করে বছরের পর বছর নিষ্পেষিত করছেন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহর ভূয়সী প্রসংশা করেন প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। তারা বলেন, ‘ডাক্তার সমাজে শুধুমাত্র অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ স্যার এগিয়ে এসেছেন। তিনি আমাদের হয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য আমরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমাদেরকে এই অফিস থেকে সেই অফিস, সেই অফিস থেকে ওই অফিস—নানান জায়গায় ঘোরানো হচ্ছে।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক