অধ্যাপক ডা. মো. আনওয়ারুল কবীর

অধ্যাপক ডা. মো. আনওয়ারুল কবীর

চেয়ারম্যান
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, বিএসএমএমইউ


০৫ এপ্রিল, ২০২৩ ০৫:২০ পিএম

রোজায় অপরিমিত খাবারে বাড়ছে গ্যাস্ট্রিক

রোজায় অপরিমিত খাবারে বাড়ছে গ্যাস্ট্রিক
ইফতারিতে সাধারণ মানুষ একসাথে তিন-চার গ্লাস শরবত খেয়ে ফেলে। কয়েকটা খেজুর খায়, পেঁয়াজু, জিলাপি ও হালিম—অনেকগুলো খায়। আমি মনে করি, এতগুলো পদ একসাথে খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

রোজার মাসে ইফতার দিয়ে খাওয়া-দাওয়া শুরু আর সাহরি দিয়ে শেষ হয়। এই সময়ের ব্যাপ্তিটা বেশ স্বল্পকাল। এর মধ্যে তিন থেকে চারবার খেতে হয়। আর এর মধ্যে আমরা প্রয়োজনীয় খাবার খাচ্ছি। সময় স্বল্প হওয়ায় এটাকে ভাগ করে নেওয়া উচিত। একবারে আমরা অনেক পরিমাণে খেয়ে নিলে  সুস্থ মানুষেরও অসুস্থ অনুভূত হবে বা পেট ভার হয়ে থাকবে। এটা খুব স্বাভাবিক।

ইফতারিতে সাধারণ মানুষ একসাথে তিন-চার গ্লাস শরবত খেয়ে ফেলে। কয়েকটা খেজুর খায়, পেঁয়াজু, জিলাপি ও হালিম—অনেকগুলো খায়। আমি মনে করি, এতগুলো পদ একসাথে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। একসাথে চার ক্লাস শরবরত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি এক গ্লাস শরবত খান, এর পর একটু বিরতি দিন। সময় হিসাব করে কম খেতে হবে আর পাকস্থলি খালি রাখতে হবে। যতটুকু পারা যায়, ভাজা-পোড়া এড়িয়ে চলতে হবে। তাহলে ইফতার উপভোগ করা যাবে। পরে রাতের তারাবির পর খাবার খাওয়া যাবে এবং সাহরিও করা যাবে। ফলে সারাদিন কোনো কষ্ট হবে না।

রোজায় অতিরিক্ত খাবার ক্ষতিকর

চিকিৎসা বিজ্ঞান সবসময় কম খেতে বলে। যারা কম খান বা মিতহারী, তারাই পৃথিবীতে বেশি দিন সুস্থভাবে বাঁচেন। আর যারা বেশি খান, তাদের আয়ুষ্কাল স্বল্প। সুস্থভাবে বাঁচতে চাইলে আপনাকে কম খেতে হবে এবং রোজা এসেছে সুস্থ রাখার জন্য। রোজার বৈজ্ঞানিক তাৎপর্যের ওপর ইতিবাচক গবেষণা হয়েছে। এই আমরা যখন খাবার থেকে বিরত থাকি, দেহের কোষগুলো খাবার পায় না। এতে দেহের কোষগুলো জমা হয়ে থাকা খারাপ খাবার বা নষ্ট সেলগুলো খেয়ে ফেলে। এতে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

সাহরির খাবার

সাহরিতে এমন খাবার খেতে হবে, যে খাবার খুব তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় না। এই খাবার অনেক্ষণ থাকা লাগবে। সাহরির পর আমরা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকি। তাই খাবার বিলম্বে হজম হতে শর্করা জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন- আলু, গাজর ইত্যাদি। ভাতের সাথে এমন তরকারি খেলে হজম হতে অনেক সময় লাগবে। সাথে ডিম খাওয়া যায়। তাতে নিউট্রিশন এবং কেলোরি মিলবে, সেই সঙ্গে পেটও খালি হবে না। রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। সাহরিতেও অতিরিক্ত খেলে অসুবিধা। তখন সকালে উঠে মনে হবে, পেট ভার হয়ে আছে এবং বুক জ্বালা-পোড়া করছে। এটা রোজারও ক্ষতি করে। ফলে সাহরিতেও পরিমিত খেতে হবে।

ইফতারির পর রাতের খাবার

ইফতার এবং সাহরি আমরা দুই সময়ে খাচ্ছি। আর মাঝখানে রাতের খাবার খাওয়া পড়ে। আর এই রাতের খাবার একটু কম খাওয়া ভালো। যারা তারাবি পড়ে আসেন, তাদের একটু ক্ষুধা লাগে। এখানে হালকা খাবার খেলে অসুবিধা হবে না। তারাবির পর রাতে খাবার বেশি খাওয়া যাবে না।

রোজায় গ্যাস্ট্রিক

বেশি খাওয়া থেকে বেশির ভাগ গ্যাস্ট্রিক হয়। কারণ আমরা ইফতারেও বেশি খাই আর সাহরিতেও বেশি খাই। সারাদিন না খেয়ে থাকার চিন্তা থেকে বেশি খাওয়া হয়। আর যখনই বেশি খাওয়া হয়, তখনই পেট ভারি হয়ে যায়। এতে সুস্থ লোকেরও অসুস্থ অনুভূত হবে। বুক জ্বালাসহ শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিবে। এর পর দিন শেষে দেখা গেল, ইফতার মুখে দিয়ে গ্যাসের ওষুধ খাওয়া লাগে বা রাতে সাহরি খাওয়ার আগে গ্যাসের ওষুধ খাওয়া লাগে। এগুলো দরকার ছিল না, লোকটা সারা বছর গ্যাসের ওষুধ ছাড়া ছিল। অথচ রোজার মাসে অপরিমিত পরিমাণে খাওয়ার ফলে গ্যাস বেড়ে যায়।

প্রোটিন জাতীয় খাবার প্রয়োজন

কতটুকু প্রোটিনজাতীয় খাবার খেতে হবে, এটা নির্ভর করে রোজাদারের কাজের ধরনের উপর। যেমন- একজন চিকিৎসক চেম্বারে বসে রোগী দেখেন, তার এক রকমের চাহিদা। আরেকজন রিকশা চালান, তার আরেক রকমের চাহিদা। আবার যে সারাদিন শুয়ে-বসে কাটায়, তাঁর এক রকমের চাহিদা। প্রত্যেক মানুষ কতটুকু খাবার খাবে, তার কেলোরি হিসাব করা লাগবে। আমরা যারা কায়িক পরিশ্রম করি না, তাদের জন্য ১৬০০ কেলোরিই যথেষ্ট। এর মধ্যে ভাগ করে নিতে হবে। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট আর ফ্যাট। প্রত্যেক খাবারেই কতটুকু খাবার লাগবে, তার কিলো-কেলোরি হিসাব করে নিতে হবে। প্রত্যেক খাবারে ৪০ শতাংশ ফ্যাট আর ৬০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট। তাতে রোজার মাসে কেলোরির হিসাবে কোনো অসুবিধা হবে না।

এসএএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত