১৩ জানুয়ারী, ২০২৩ ০৬:৫৫ পিএম

বিশ্ব ইজতেমায় ৬ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবা

বিশ্ব ইজতেমায় ৬ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবা
ইজতেমা ময়দানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কোভিড পরীক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আজ শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের তুরাগ নদীর তীরে টঙ্গী ময়দানে এ ইজতেমা শুরু হয়, চলবে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ইজতেমা উপলক্ষে বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে প্রায় দুই হাজার বিদেশি মুসল্লি এসেছেন।

ইজতেমা ময়দানে মুসস্লিদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা, ওষুধপত্র সরবরাহ ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্সের বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে ছয়টি কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে তুরাগ নদীর উত্তর পাশে আর রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় দক্ষিণ পাশে চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

অস্থায়ী ছয়টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে হোন্ডাগেট একটি, বাটা গেট একটি, মন্নুগেট একটি, তুরাগ নদীর পশ্চিম তীরে দুইটি ও বিদেশি মেহমানদের জন্য একটি। এ ছাড়া বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল।

ইজতেমা ময়দানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কোভিড পরীক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। অলিম্পিয়া স্কুল মাঠে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে এন্টিজেন পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ, টিকা প্রদানের ব্যবস্থা।

প্রতিটা চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা কাজ চালু রাখতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য তিনটি শিফট করা হয়েছে। প্রতি শিফটে দুইজন চিকিৎসক, দুইজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার/ফার্মাসিস্ট, একজন সহায়কসহ মোট পাঁচজন কাজ করছেন। এ ছাড়া শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ (কনসালটেন্ট হৃদরোগ, মেডিসিন, অ্যানেস্থেসিয়া, চক্ষু, ট্রমা এন্ড অর্থো সার্জারি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি, বক্ষব্যাধি) নার্স ও সহায়ক স্টাফগণ সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রয়েছেন।

এ ছাড়াও মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনারের অফিসে একটি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে একটি, রেডক্রিসেন্ট, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম ও ইসলামি ফাউন্ডেশনের একটিসহ সর্বমোট ১০টি মেডিকেল টিম ইজতেমায় সেবা প্রদান করছে।

ওষুধপত্র ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয় ব্যবস্থা- প্রতিটি চিকিৎসা কেন্দ্রের জন্য চাহিদা মাফিক ওষুধপত্র ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইডিসিএল হতে ৪৭টি আইটেম ওষুধ, ১৯টি আইটেম কোটেশনের মাধ্যমে, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা হতে আটটি আইটেম ওষুধ সংগ্রহ করে কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থায় রেফারডকৃত রোগী পাঠানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা- গুরুতর রোগী বহনের জন্য ইজতেমা ময়দানে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক অবস্থানে রয়েছে। প্রয়োজনে টঙ্গি বা বিশেষায়িত হাসপাতালের রেফার্ডকৃত রোগী পৌঁছে দিবে যে কোনো মুহূর্তে। রোগী রেফার্ডের সময় প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্স থাকছেন একজন চিকিৎসক,প্যরামেডিক্স এবং প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও সরঞ্জামাদি।

এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা ও অন্যান্য পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য ২৫ জন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কাজ করছেন। অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্তব্যরত চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে-কর্তব্যরত সকলের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে রেজিস্ট্রার ও মেডিসিন রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও কর্মকর্তা/কর্মচারীরা সকলের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থাসহ, গাজীপুরের মেয়রের উদ্যোগে খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসকদের আবাসন হিসেবে শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ১৮টি কেবিন সাময়িকভাবে ব্যবহার হচ্ছে।

এ ছাড়া ইতোমধ্যে বিশ্ব ইজতেমার ময়দান/টঙ্গি হাসপাতাল হতে পাঠানো রোগীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য হাসপাতালের পরিচালকবৃন্দদের অনুরোধ জানিয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া ইজতেমা ময়দান সংলগ্ন যে সকল বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে তাদের রক্ত সংগ্রহ ও সঞ্চালনের ব্যবস্থাসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে।

এসএস/এআইডি

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত