২০২২ সালে যেসব চিকিৎসককে হারালো দেশ
আসাদুল ইসলাম দুলাল: বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ২০২২ সাল। ভালো মন্দ, পাওয়া না পাওয়া, প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে চলতি বছরের বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। বছরের নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু গুণী চিকিৎসকের বিদায়। দেশের চিকিৎসা অঙ্গন থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া এসব চিকিৎসকের সংখ্যা কম নয়। কেউ স্বাভাবিকভাবে, কেউ আত্মহত্যায় কেউ আবার মারা গেছেন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে। মৃত্যু যেভাবেই হোক না কেন, তাঁদের শূন্যতা অনুভব করছে জাতি।
দেশকে চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে যাদের অবদান ছিল অসামান্য। জীবদ্দশায় যারা সব সময় মানব সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, তারাই আপনজনদের ছেড়ে চলে গেছেন পরপারে। তাঁরা আজ আমাদের মাঝে নেই, তবে রেখে গেছেন তাদের অসমাপ্ত কাজ ও অমর কৃতিত্ব। তাই বছরের বিদায় বেলায় তাঁদের স্মরণে নিবেদন করছি এই ক্ষুদ্র শ্রদ্ধার্ঘ্য।
বার্ধক্য ও বিভিন্ন রোগে মৃত্যু
বেশ কজন গুণী চিকিৎসক বার্ধক্য ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন- জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রথম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক খুরশিদ জাহান মাওলা, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) সার্জারি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. সাঈদ আখতার খান আপেল, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চিকিৎসক মুহাম্মদ আহসানুল হক তালুকদার পাভেল, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মাদারীপুর শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল বারী, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. আক্তার হোসেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) অ্যানাটমি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল হাই ফকির,ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ২৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. তপন সাহা, সিরাজগঞ্জ খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজে এনাটমির বিভাগীয় প্রধান ও সন্ধানীর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আতাউল ডা. হক টিপু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এস এ মালেক, বাংলাদেশের কিংবদন্তি সার্জন অধ্যাপক ডা. হাসান মো. আব্দুর রউফ, কিংবদন্তী ম্যাক্সিলো-ফেসিয়াল সার্জন অধ্যাপক ডা. আল মামুন ফেরদৌসী, প্রখ্যাত সার্জন অধ্যাপক ডা. এ এস এম ফজলুল করিম, প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রেজওয়ানা কাদরী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্স জেনারেল হাসপাতালের (বিআইএইচএস) কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফরহাদ নেওয়াজ, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) আজীবন সদস্য বিশিষ্ট গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ কে এম আনোয়ার-উল-আজিম।
আরও মৃত্যুবরণ করেন-চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. জিশান আবিদুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ডা. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. রশীদুল হক ফিরোজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. আমিরুল হাসান সহিদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. এএফএম আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ডেন্টাল ইউনিটের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম কাঞ্চন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সাইফ উদ্দিন আহমেদ।
আমাদের মাঝ থেকে আরও বিদায় নিয়েছেন-স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাবেক এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও দেশের এনাটমির প্রথম নারী অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. মনজুর মোর্শেদ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. করিম রেজওয়ান হাসান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) অ্যানাটমির শিক্ষক ডা. শামসুন্নাহার স্বপ্না, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) সহযোগী অধ্যাপক ডা. শারমিন রাজ্জাক মুনমুন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) কমিউনিটি মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ডেন্টাল ইউনিটের সাবেক প্রধান ও প্রবীণ ডেন্টিস্ট ডা. সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ডেন্টাল ইউনিটের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও উদয়ন ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ সিনিয়র ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন অধ্যাপক ডা. ওবাইদুর রহমান চৌধুরী।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের (সিওমেক) ২৩তম ব্যাচের ছাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবদুল করিম শামীম, রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. ওয়ালিউল ইসলাম (জগলু), ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল বিভাগের (সাবেক প্রধান) সার্জন ডা. মো. আতিক উল্লাহ, বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক (ওনার্স) এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. শওকত আলী লস্কর, খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আহাদ, খুলনা মেডিকেল কলেজের কে-৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. রবিউল ইসলাম, খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক ডা. কাজি হামিদ আজগর, বাংলাদেশের পেরিওডন্টোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম জোয়ার্দার, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সাবেক অধ্যাপক ডা. কে. এ. জলিল, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. চিত্ত রঞ্জন বিশ্বাস, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ডি-১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. ইসমাইল হাসান, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ডা. মো. সাইফুল আলম, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সার্জারি বিভাগের লেকচারার ডা. শাহাজাদী মরিয়ম, আমেরিকা প্রবাসী ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. লিয়াকত আলী।
বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোত্তাকিন আহমেদ মাসুদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণায়ের সহকারী সার্জন ডা. সায়মা জাহান, প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা ডা. মোমিনুল হক চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের (সিওমেক) পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামছুর রহমান ময়না, ফেনীর বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সারোয়ার জাহান, নারী উদ্যোক্তা ও প্রিমিয়ার গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মমতাজ বেগম, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসিনা মমতাজ, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. জাহিদ হাসান, গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজের রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আব্দুল মতিন খান, গাজীপুর সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) অধ্যাপক ডা. মো. মোশারফ হোসেন, সিলেটের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমান, প্রবীণ চিকিৎসক ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আজিজুর রহমান, ডা. মো. শাহেদুল ইসলাম (লরেল), নাটোর ও পাবনা জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সামসুদ্দিন মন্ডল, নোয়াখালী পুপলার হাসপাতালে সনোলজিস্ট ডা. ওয়াহিদুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার প্রবীণ চিকিৎসক ও সদর হাসপাতালের সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুল আলম, এভার কেয়ার হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ডা. শামসুল আলম, প্রখ্যাত অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল হান্নান, পাবনা সদর হাসপাতালে গাইনি অ্যান্ড অবস্ বিভাগে গাইনি ডা. সাবিহা রহমান সাথী ও আইচি মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের শিক্ষক ডা. সামিনা রহমান ও যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের সহকারী সার্জন ডা. শারমিন সুলতানা।
সর্বশেষ গত ১৯ ডিসেম্বর সকালে নিজ বাসায় মারা যান প্রখ্যাত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. তোফাজ্জল হোসেন। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর স্ট্রোক করে মারা যান সিটি ডেন্টাল কলেজের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মাহবুবা রহমান।
দুর্ঘটনায় মৃত্যু
চলতি বছরে সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনায় বেশ কয়েজন চিকিৎসক প্রিয়জনদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তারা হলেন-
অধ্যাপক ডা. আব্দুল কাদের জসিম
১৭ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। খুলনা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক ও ট্রমাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ডা. আব্দুল কাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ডা. চেমন আরা বেগম কেয়া
১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ওমানে কর্মরত গাইনি অবস কনসাল্ট্যান্ট ডা. চেমন আরা বেগম কেয়া (৪৭) সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তিনি উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ১৯৯৩-৯৪ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ডা. বাসুদেব সাহা
১৪ মে অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি যাওয়ার পথে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মিল্টন বাজার এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার শিকার হন ডা. বাসুদেব ও তার পরিবার। ঘটনাস্থলেই স্ত্রী-ছেলেসহ মারা যান তিনি। ডা. বাসুদেব সাহা ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বারডেম হাসপাতালের এনেসথেসিয়া বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
ডা. আশিকুর রহমান
৫ এপ্রিল দিবাগত রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ডা. আশিকুর রহমান। এর আগে ১ এপ্রিল সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ডা. আশিকুর রহমান রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
ডা. বুলবুল হোসেন
২৭ মার্চ সকালে রাজধানীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নিহত হন ডেন্টাল সার্জন ডা. বুলবুল হোসেন। ডা. বুলবুলের গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলায়। তিনি ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের (ইউডিসি) ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন৷ তিনি মগবাজারে রংপুর ডেন্টাল নামে একটি চেম্বারে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি দরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতেন। শুধু স্বাবলম্বীদের কাছ থেকে ফি নিতেন।
ডা. বুলবুলের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। চাকরি করাকালীন ১৯৯৯ সালে মারা যান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন বুলবুল। ১৯৯৭ সালে রংপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকার মগবাজারে ইউডিসিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে বিডিএস পড়াশোনা শেষ করে প্র্যাকটিস শুরু করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। দেড় বছর বয়সী ছেলে ও সাত বছরের মেয়ে রয়েছে বুলবুলের।
ডা. সাইদুর রহমান
সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের (বিএমসি) নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. সাইদুর রহমান। ২ মার্চ সন্ধ্যায় গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে প্যারাগন কারখানার সামনে মারা যান তিনি। ডা. সাইদুর রহমান গাজীপুরে মির্জাপুর ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে প্রাকটিস করতেন। সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন তিনি। রাজেন্দ্রপুরে চৌরাস্তার পাশে প্যারাগন কারখানার সামনে পৌঁছলে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
তাঁর বাড়ি গাজীপুরের বাংলাবাজারের ফিজিক্যাল স্কুল এলাকায়। তিনি ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
ডা. সামিনা আক্তার
১৭ ফেব্রুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান চট্টগ্রামের সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এনেসথেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক সামিনা আক্তার। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রিকশায় করে চট্টগ্রাম মহানগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় নিজ বাসায় ফিরছিলেন তিনি। রাত ৯টার দিকে কাজির দেউড়ি এলাকায় পৌঁছলে তাঁকে বহনকারী রিকশাটিকে ধাক্কা দেয় সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা। এতে গুরুতর আহত চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ডা. অনুপম শীল
৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় উপজেলার মালুমঘাট বাজার সংলগ্ন নার্সারি এলাকার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ডা. অনুপম শীল। বাবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। এ দুর্ঘটনায় ডা. অনুপম ছাড়াও মারা গেছেন তাঁর আরও চার ভাই। তারা হলেন- নিরুপম শীল, দীপক শীল, চম্পক শীল ও রক্তিম শীল।
আত্মহত্যা
একটা সময় মানুষ মনে করতো মানসিক রোগ বলতে কিছু নেই। তবে ধীরে ধীরে মানসিক অসুস্থতাকে এখন সবাই রোগ হিসেবে মানতে শুরু করেছে। মানসিক সংকট ও হতাশায় ভুগে অনেক গুণী চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছেন। বর্তমান সময়ে এ ধরনের মৃত্যু খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে এমনই আত্মহত্যাজনিত কয়েকটি মৃত্যুও চিকিৎসক অঙ্গনে তোলপার সৃষ্টি করেছে। যার মধ্যে অন্যতম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. অদিতি সরকার ও কুমিল্লা ময়নামতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক তানজির উদ্দিনের আত্মহত্যা।
ডা. অদিতি সরকার
২৪ জুন নিজ বাসায় গায়ে আগুন দেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. অদিতি সরকার। ২৯ জুন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) শিশু বিভাগের রেজিস্ট্রার ছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও আপসেট ছিলেন ডা. অদিতি। স্বামীর সঙ্গে রাগারাগি করে অদিতি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের কাছে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। ডা. অদিতি সরকার এমডি ও প্যাডিয়াট্রিক্সে এফসিপিএস করেছেন। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
ডা. তানজির উদ্দিন
৪ জানুয়ারি বেলা দুইটার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ডা. তানজির উদ্দিন। এর আগে ৩ জানুয়ারি রাতে তিনি ৮০টি প্যারাসিটামলসহ প্রায় ২০০টি ওষুধ সেবন করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন এ নবীন চিকিৎসক। প্রেমঘটিত কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ডা. তানজির ছিলেন ময়নামতি মেডিকেলের ২০১৪-১৫ সেশন ও চর্তুথ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কুমিল্লার টমচম ব্রিজ এলাকায়।
ডা. রোকেয়া বেগম ডেইজি
৯ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ডা. রোকেয়া বেগম ডেইজি (২৭) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ৯ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে ফুলবাড়ি উপজেলার দলার দর্গা মেমোরিয়াল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার একটি আবাসিক কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। তিনি দিনাজপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা গ্রামের আরিফ হোসেনের স্ত্রী। তার স্বামী আরিফ হোসেন একজন চিকিৎসক।
আরিফ হোসেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রোকেয়া বেগম ডেইজি দলার দর্গা মেমোরিয়াল হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ডেইজি ওই হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকতেন। আত্মহ্যার আগ মুহূর্তে ডা. রোকেয়া একটি সুইসাইড নোট লিখে যান। স্বামী আরিফ হোসেনের অত্যাচারে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন সেই সুইসাইড নোটে। সেখানে স্বামীর বিচারও দাবি করেন তিনি।
ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা
১৪ জুন রাত সাড়ে ৯টায় গাজীপুর টঙ্গীর মাছিমপুরের নিজ বাসায় ‘পারিবারিক কলহের জেরে’ সিলিংফ্যানের সঙ্গে গলায় ঝুলে আত্মহত্যা করেন ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা (৩০)। তিনি ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেলের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
একটি পোশাক কারখানায় চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। কয়েক মাস ধরে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া চলছিল। ১৪ জুন রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে নিজ ঘরের সিলিংফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। ঝুলন্ত অবস্থায় ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. খোকন সাহা
৬ জুন আত্মহত্যা করেন ডা. খোকন সাহা। তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তুখোর মেধাবী ডা. খোকন সাহা এরই মধ্যে এফসিপিএস পার্ট-১ সম্পন্ন করেছেন। তিনি ৩৮তম ও ৩৯তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। সুনমাগঞ্জের জগন্নাথপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রেষণে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অনকো-সার্জারি এমএস ফেজ-এ’তে অধ্যয়নরত ছিলেন তিনি।
দক্ষিণ কুমিল্লার কৃতি সন্তান খোকন সাহা চান্দিনা কংগাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কুমিল্লা ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। তার স্ত্রী ডা. চৈতি সাহা ৩৭তম বিসিএসে সহকারী ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কর্মরত আছেন।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের দেশেও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে পড়াশুনোর চাপ, যা ধীরে ধীরে মানসিক চাপে পরিণত হয়। অনেকে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, কেউ কেউ নানা হতাশা থেকে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিচ্ছে। ঠিক এরকম হতাশ থেকে একজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন, যার নাম মানিক চন্দ্র বাড়ৈ।
মানিক চন্দ্র বাড়ৈ
পড়াশোনায় অকৃতকার্য হওয়াসহ নানা হতাশা থেকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের (ডিসিএম) ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মানিক চন্দ্র বাড়ৈ। ১১ জুন রাত ১০টার দিকে এক চিরকুট লিখে নিজেকে শেষ করে দেন তিনি।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন ২৬ বছর বয়স্ক এই মেডিকেল শিক্ষার্থী। পড়ালেখায় অকৃতকার্য হওয়ায় হতাশা আরও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।
ঘটনাস্থল থেকে মানিকের লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মহত্যার কিছুক্ষণ আগে চিরকুটটি লিখেছিলেন তিনি। এতে এই মেডিকেল শিক্ষার্থী লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি হতাশার কারণে আত্মহত্যা করতেছি। আমি মেডিকেলে ফেল করেছি এবং লেখক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। তাই আমি আত্মহত্যা করছি। আমি কারো দ্বারা প্রভাবিত নই।’
ভারতীয় শিক্ষার্থী সীমা জোহরা
গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন যশোর বেসরকারি আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজের ভারতীয় শিক্ষার্থী সীমা জোহরা। ১২ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে কলেজ হোস্টেলের ৫ম তলার বাথরুম থেকে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। বাথরুমের দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মো. সাইফুল ইসলাম সাইফুল্লাহ
১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে আত্মহত্যা করেন রাজধানীর শমরিতা মেডিকেল কলেজের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম সাইফুল্লাহ। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার আদর্শবাদ গ্রামে। তার একাধিক সহপাঠী জানিয়েছিল, সে সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিল। এজন্য একই মেডিকেলের সাইক্রিয়াটি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছিল। রোগ নির্ণয়ের পর ওষুধও চলছিল সাইফুল্লাহর। তবে ওষুধ সে নিয়মিত সেবন করতো না, সব সময় গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকতো। পরিবারের সদস্যরা নানা উপায়ে চেষ্টা করেও তাকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়াতে পারতো না।
মেডিকেল পড়াশোনার তাঁর কাছে বেশ চাপ মনে হতো। যদিও এর সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা ছিল তার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছিল না। এতে শিক্ষকদের কেউ কেউ নানাভাবে তাচ্ছিল্য করতো তাকে। এসব কারণে খুব হতাশায় ভুগছিল সাইফুল্লাহ।
লাশ উদ্ধার
এরিস্টটল বলেছেন, ‘মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব। যে সমাজে বাস করে না, সে হয় পশু না হয় দেবতা। সমাজ বা পরিবার থেকে যখন কেউ আলাদা হয়ে যায় বা একাকিত্ব জীবন যাপন করেন, তখন সে অসহ্য মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেন। এই একাকিত্ব জীবন সহ্য করতে না পেরে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে পতিত হয়। তাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ থাকে না।
ডা. ইকবাল উদ্দিন আহমেদ
৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বড় মগবাজারের নিজ বাসা থেকে প্রবাসী চিকিৎসক ইকবাল উদ্দিন আহমেদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ বলেছেন, নিজ বাসার বাথরুমে উপুড় হয়ে পড়েছিলেন ডা. ইকবাল উদ্দিন। তবে বেশ কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকায় লাশ পচন ধরেছে। ধারণা করা হয়েছিল ৪-৫ দিন আগে শারীরিক নানা জটিলতায় মারা গেছেন তিনি।
বাসায় একা ছিলেন ডা. ইকবাল। তাঁর স্ত্রী-কন্যা বিদেশ থাকেন। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসী চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। সাত বছর আগে দেশে চলে আসেন। এরপর থেকে বড় মগবাজারে একাই বাসায় অবসরকালীন সময় কাটাতেন ৭২ বছর বয়সী এ চিকিৎসক।
ডা. আবুল হোসেন চৌধুরী
২০ জুলাই বিকেল ৩টায় সেগুনবাগিচায় নিজ বাসা থেকে ডা. আবুল হোসেন চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছিল, দুইদিন যাবৎ বাসায় পড়েছিলেন এ চিকিৎসকের লাশ। তাঁর স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে কানাডায় থাকেন। গত ১০ বছর ধরে বাসায় তিনি একা থাকতেন। বাসার দারোওয়ানরা খোঁজ-খবর রাখতেন ডা. আবুল হোসেনের।
ডেঙ্গুতে মৃত্যু
২০২২ সালে শেষের দিকে স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে আলোচনা-সমালোচনার বিষয় ছিল দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ। মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অদক্ষতা, বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে চোখে পড়ার মতো। এ বছর ডেঙ্গুতে রেকর্ডসংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কখনো বেড়েছে আবার কখনো কমেছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপে চলতি বছরে আক্রান্ত হয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. শফিক হাসানসহ প্রাণ হারিয়েছেন তিন চিকিৎসক।
ডা. শফিক হাসান
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. শফিক হাসান। ৩১ অক্টোবর সকালে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। সর্বশেষ সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরে (DGMS) কর্মরত ছিলেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৩০তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন ডা. শফিক।
ডা. মোজাহিদুল ইসলাম আবির
২৭ অক্টোবর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ডেল্টা মেডিকেল কলেজের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মোজাহিদুল ইসলাম আবির। কলেজ সূত্র জানায়, ডেলটা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস সম্পন্ন করে একই প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্ন করছিলেন তিনি। ডেল্টা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ছিলেন ডা. আবির।
ডা. আসাদ শিকদার
১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইডিসিএইচ) ফেইজ-বি’এর রেসিডেন্ট ডা. আসাদ শিকদার। তিনি সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি ডেঙ্গু ও এনসেফালাইটিস এ আক্রান্ত ছিলেন।
করোনায় মৃত্যু
২০২০ সালে করোনা মহামারী শুরু হয়েছিল, তখন লকডাউন, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন ছিল। শুরুতে পুরো বিশ্বই থমকে গিয়েছে। সবখানেই খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ পাশাপাশি চিকিৎিসা সেবা ছিল বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এজন্য স্বাস্থ্যখাতকে হিমশিম খেতে হয়েছে প্রতিনিয়ত। বর্তমানে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ফলে যা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপরও এ ভাইরাসে থেমে নেই মৃত্যুর সংখ্যা।
ডা. জাহেদুল ইসলাম
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. জাহেদুল ইসলাম। ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন তিনি।
১৭ জানুয়ারি নিজ বাসায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন ডা. জাহেদুল ইসলাম। এর পর তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা শেষে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ নানা উপসর্গের কারণে প্রথমে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় কোভিড শনাক্ত হলে তাঁকে কোভিড আইসিইউ শয্যায় স্থানান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ সদরের কাঁচিঝুলি এলাকায় সন্তান ডা. জাহেদুল ইসলাম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসরকালীন ছুটিতে ছিলেন। এর আগে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এআইডি/এএইচ
-
২৩ জুন, ২০২০