চীনে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপে ফেরার শঙ্কা
মেডিভয়েস ডেস্ক: করোনা মহামারি থেকে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ মুক্তি পেলেও চীনে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
সাধারণ জনগণের বিক্ষোভের মুখে গত ৭ ডিসেম্বর করোনার কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে চীন। এরপর দেশটিতে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে করোনার প্রাদুর্ভাব। অর্থাৎ চীনে সাম্প্রতিক সময়ে করোনার সংক্রমণ বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতি বিশ্বের জন্য উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস এ উদ্বেগ জানান বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাজধানী বেইজিংয়ে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক মানুষ মারা গেছেন। এর প্রভাবে মৃতদেহ সৎকারের শ্মশানে চাপ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হঠাৎ করে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার মূল্য চীনকে দিতে হবে অনেক মানুষের জীবনের বিনিময়ে।
মহামারি বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যবিদ এরিক ফেইগি-ডিং জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসে চীনের ৬০ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। দেশটিতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
তিনি বলেন, এখন চীনের ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলের লক্ষ্য হলো__ ‘যেসব মানুষ আক্রান্ত হবে তারা আক্রান্ত হোক, যারা মারা যাবে তারা মারা যাক।’ তাদের নীতি হলো, এখনই আক্রান্ত, মৃত্যু ও সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছুক। এতে আবারও দ্রুত অর্থনৈতিক উৎপাদন শুরু হবে।
চীনের ৬০ শতাংশ মানুষ ছাড়াও এই সময়ের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন বলেও জানিয়েছেন এরিক ফেইগি-ডিং। তার আশঙ্কা, এ সময়ে মারা যেতে পারেন লাখ লাখ মানুষ।
সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মারা যাওয়ার তথ্য জানিয়েছিল চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি দেশটির মন্ত্রীপরিষদ অফিস ও স্টেট কাউন্সিল।
সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল বেইজিংয়ের পূর্ব দিকের দোংজিয়াও শ্মশানের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, এখানে হঠাৎ করেই মৃতদেহ আসা ও সৎকারের অনুরোধের সংখ্যা বেড়েছে।
শ্মশানের একজন নারী কর্মী মার্কিন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘বিধিনিষেধ শিথিলের পর আমরা অতিরিক্ত কাজ করছি। বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে। আমরা কুলিয়ে উঠতে পারছি না। ভোর, মধ্যরাত সবসময় সৎকার চলছে।’
তিনি জানান, সাধারণত আগে দিনে এখানে ৩০-৪০টি মৃতদেহ আসত। কিন্তু এখন দিনে ২০০টিরও বেশি মৃতদেহ আসছে। যার ধকল পড়েছে শ্মশানটির কর্মীদের ওপর। এরমধ্যে অনেকে আবার উচ্চ সংক্রমণযোগ্য এ ভাইরাসে আক্রান্তও হয়েছেন।
চীনে বিধিনিষেধ শিথিলের সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন কত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন তার সঠিক সংখ্যাটি পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি মহামারি শুরুর পর গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো উপসর্গবিহীন করোনা আক্রান্ত রোগীর তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি।
রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি
স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা ও বাজেট বৈষম্য বরদাশত করা হবে না
রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি
স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা ও বাজেট বৈষম্য বরদাশত করা হবে না
এফসিপিএসে নতুন নীতিমালা
‘মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভাতা সীমাবদ্ধ হলে প্রশিক্ষণার্থীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়বেন’