২২ অগাস্ট, ২০২২ ১১:৩৫ এএম

সলিমুল্লায় প্রথম কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন

সলিমুল্লায় প্রথম কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন
বিষয়টি নিশ্চিত করে মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশীদ-উন-নবী মেডিভয়েসকে বলেন, রোগী এখন স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারে।

আসাদুল ইসলাম দুলাল: স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রথম কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) আলিশা (৮) নামে এক শিশুর সফল সার্জারির মধ্য দিয়ে সলিমুল্লায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

আজ সোমবার (২২ আগস্ট) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশীদ-উন-নবী মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সুনামগঞ্জের মেয়ে আলিশা এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) তাকে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কাজী মো. রশীদ-উন-নবী বলেন, ‘সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের এই বিভাগে অধ্যাপক পর্যায়ে পোস্টেড কোনো চিকিৎসক নেই। তাই সংযুক্তিতে চিকিৎসক দিয়ে সাহস করে এই অপারেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আলহামদুলিল্লাহ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ আগস্ট কার্ডিয়াক সার্জারি অপারেশনটি করা হয়। রোগী এখন সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত।

জানতে চাইলে মিটফোর্ড হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনজিল আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ওপেন হার্ট সার্জারি বা কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ চালু করা হয়। ২০১৯ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কার্ডিয়াক সার্জারি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে করোনার কারণে ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে শুরু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজে অ্যানেসথেসিয়াসহ অন্যান্য টেকনিশিয়ান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে দেওয়া হয়নি। এখানে কার্ডিয়াক সার্জারি সেন্টার চালু করতে বিলম্ব হলেও হাসপাতালের পরিচালক কাজী মো. রশীদ-উন-নবীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ও একদল দক্ষ টিমের সমন্বয়ে গত ১৬ আগস্ট একটি শিশুর সার্জারি সম্পন্ন করা হয়। শিশুটি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে তার ছুটি হয়ে যাবে।’

অনুভূতি জানতে চাইলে ডা. মনজিল বলেন, এটা অবশ্যই ভালো লাগার ব্যাপার। এটা যেহেতু শুরু হয়েছে। তাই এটাকে দ্রুত অগ্রসর করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। 

এ প্রসঙ্গে অপারেশন টিমের অন্যতম সদস্য মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. তৌফিক আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। এই কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন করতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ২০১৬ সাল থেকে এই বিভাগে আছি। এর পর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনজিল ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মনির আসছে। সলিমুল্লার কার্ডিয়াক সেন্টারটি নতুন। এই তিনজন মিলে কার্ডিয়াক সার্জারির একটি টিম গঠন করে কাজ শুরু করি। কারণ, এটা এককভাবে সম্ভব নয়। এ ছাড়া স্পেশাল কার্ডিয়াক অ্যানেসথেসিয়া রয়েছে। এটা নরমাল অ্যানেসথেসিয়া থেকে আলাদা। স্পেশাল কার্ডিয়াক অ্যানেসথেসিয়ায় যারা রয়েছেন, তাদেরকে এই টিমে আনতে হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক কাজী মো. রশীদ-উন-নবীর নিকট অনুরোধ করে তাঁদেরকে এই টিমে যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি এ ব্যাপারে আমাদেরকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন।’ 

অপারেশন পরিকল্পনা সম্পর্ক জানতে চাইলে ডা. তৌফিক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ভাইটাল পার্ট হচ্ছে পারফিউশনিস্ট। আমরা যখন ওপেন হার্ট সার্জারি শুরু করি, তখন হার্টকে স্টপ করে দিই। তবে ব্রেন, কিডনি, নারীভুরি সচল রাখতে হয়। তখন হার্টকে সচল রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করেন একজন পারফিউশনিস্ট। এই জনবলের অভাবটা হচ্ছে প্রধান সমস্যা। এটা দূর হয়ে গেলে প্রতি সপ্তাহে একটা সার্জারি সম্পন্ন করা সম্ভব। এটা পুরোপুরি সচল হতে ১-২ মাস লাগতে পারে। বর্তমানে হাসপাতালে দুজন রোগী ভর্তি আছে। এখন আমাদের কিছু শূন্যতা রয়েছে, যা সপ্তাহখানেকের মধ্যে সমাধান করে ফেলবো। ভর্তি রোগীদের সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই দ্বিতীয় সার্জারি করা হবে। যেহেতু প্রথম সেন্টার তাই একটু সতর্ক ও বাছাইকৃত রোগীদের কার্ডিয়াক সার্জারি করবো। এক্ষেত্রে আগামী ছয় মাস পর্যন্ত রোগীর সব কন্ডিশন যাচাই-বাঁছাই করে কাজ করবো। সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই আমাদের এটা করতে হবে। যেন রোগীরা কোনো ঝুঁকিতে না পড়েন।’

সার্জারির কাজ গতিশীল করতে লোকবলের অপরিহার্যতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমার কিছু অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। এর মধ্যে পারফিউশনিস্টসহ ৪/৫ জন টেকনিশিয়ান খুব জরুরি।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত