নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে জাতীয় শোক দিবস পালন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ (১৫ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর।
আজ সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপসচিব ও পরিচালক (শিক্ষা ও শৃঙ্খলা) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
১৫ আগস্ট প্রত্যুষে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর মহাপরিচালক জনাব সিদ্দিকা আক্তারের নেতৃত্বে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অধিদপ্তরের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
দিনটি উপলক্ষে অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আলোচনায় অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন, দেশের জন্য ত্যাগ, পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য নেতৃত্বের বিষয়গুলি ওঠে আসে।
সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক জনাব সিদ্দিকা আক্তার বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিশপথে ঐক্যবদ্ধ হয় বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেন বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক। বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালি জাতির পিতা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে নরপিশাচরূপী ঘাতকচক্র। এই দিনটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘূণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর শোকের দিন। জাতির পিতাকে হত্যা করেও বাঙালির কাছ থেকে তাঁকে আলাদা করতে পারেনি ঘাতকরা। বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায় বঙ্গবন্ধু চির অমলিন।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও শেখ মুজিব আমার পিতা বইগুলি থেকে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন অধিদপ্তরের নার্সিং কর্মকর্তাবৃন্দ। দিনটি উপলক্ষে নার্সিং ও মিওয়াইফারি অধিদপ্তরে বৃক্ষরোপণ করা হয়। সারা দেশে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের আওতাধীন নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা প্রকাশ, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস ২০২২ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।