‘বিশেষায়িত হাসপাতালের কাজ শুরু হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন হবে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের আট বিভাগে বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) থেকে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকগণ সেখানে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আজ সোমবার (৬ জুন) বিসিপিএস’র ৫০ বছর পূর্তি ও ১৪ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
দেশে ৬৭ শতাংশ মানুষ অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বিগত কয়েক বছর এই রোগে আক্রান্তের হার বেড়েছে।
জাহিদ মালেক বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যান্সার, কিডনি রোগ ডায়াবেটিসে রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের ৬৭ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর পেছনে রয়েছে আমাদের জীবন ধারা। একই সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রসার, বায়ু দূষণ এবং মানসিক চাপও এজন্য দায়ী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসায় আট বিভাগে আটটি হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিজেলায় ১০ বেডের ডায়ালাইসিস সেন্টার ও আইসিইউর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ দূষণমুক্ত নিরাপদ করার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের জন্য হাসপাতাল ডিজিটালাইজেশনের ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশকে বিশ্বের মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। করোনা নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান কর্মসূচি সফলতার জন্য বাংলাদেশ সাউথ এশিয়ার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং বিশ্বের মধ্যে ৫তম স্থান অধিকার করেছে। বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ২৬ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বাভাবিক টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা বাংলাদেশে এখন শূন্যের কোটায় রয়েছে, সংক্রমণ খুবই সামান্য। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে যে সব কৌশল নেওয়া হয়েছে, তার সবই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এটা সম্ভব হয়েছে।
চিকিৎসা খাতে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাহবাগ হোটেলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত করেন শেখ মুজিব। শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল ডেন্টাল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তিনিই বিসিপিএস প্রতিষ্ঠা করেন। এখান থেকে ইতোমধ্যে ১১ হাজারের বেশি চিকিৎসক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছেন, বিসিপিএস’র সার্বিক উন্নয়নে তিনি প্রায়ই ২১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন, যাতে এখানে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও সমৃদ্ধ হয়। মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে চারটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছেন। বর্তমান ৩৮টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে এই সরকারের আমলেই ২০ কলেজ স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩২ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিসিপিএস সভাপতি অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।