২৩ মে, ২০২২ ০৯:২১ পিএম

বাংলাদেশে এক হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক শূন্য দশমিক ৬৭: ডব্লিওএইচও

বাংলাদেশে এক হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক শূন্য দশমিক ৬৭: ডব্লিওএইচও
বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় অনিরাপদ পানিসংশ্লিষ্ট সমস্যার কারণে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে এক হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক রয়েছেন শূন্য দশমিক ৬৭ জন। নার্স ও মিডওয়াইফ আছেন শূন্য দশমিক ৪৯ জন। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া মানদণ্ডের চেয়ে ৭৪ শতাংশ কম।

শনিবার (২১ মে) স্বাস্থ্য খাতের নানা সূচক নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য জনবল সর্ম্পকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ, টিকাসহ ৫০টির বেশি সূচকের পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। 

অপর্যাপ্ত চিকিৎসক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অবকাঠামো বা আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকাই যথেষ্ট নয়। সেগুলো কার্যকরভাবে চালু রাখার জন্য পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনবল থাকা জরুরি। এসডিজি অর্জনের জন্য তৈরি করা জনবল কৌশলপত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, এক হাজার মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য ৪ দশমিক ৪৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ দরকার। অথচ বাংলাদেশে এক হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক আছেন শূন্য দশমিক ৬৭ জন। আর এক হাজার মানুষের জন্য নার্স ও মিডওয়াইফ আছেন শূন্য দশমিক ৪৯ জন। এক হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ আছেন ১ দশমিক ১৬ জন। অর্থাৎ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া মানদণ্ডের চেয়ে ৭৪ শতাংশ চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ কম আছে।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রিদওয়ানুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই দেশে জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ অনেক কম রয়েছে। আরো কতদিন এভাবে চলতে থাকে, তা ঠিক নেই।’ 

তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফের অনুপাতের যে পার্থক্য রয়েছে তা হ্রাস করতে আমাদের প্রস্তুতি, চিন্তা-ভাবনা খুব একটা নেই। অনুপাতের পার্থক্য আমরা কমিয়ে আনতে পারি নাই।’ সমস্যা থেকে উত্তরণে স্বাস্থখাতে বাজেট বাড়াতে হবে, পদ বাড়াতে হবে।’  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় অনিরাপদ পানিসংশ্লিষ্ট সমস্যার কারণে। পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় বিষক্রিয়ায়। সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন রোগের মৃত্যুর তথ্যও প্রতিবেদনে আছে।

অন্যের হাতে মৃত্যু 

প্রতিবেদনে এসেছে দেশে এক লাখ মানুষের মধ্যে বছরে ২ দশমিক ৮ জন খুন হয় অন্যের হাতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৩ লাখ। সেই হিসাবে বছরে ৪ হাজার ৭৬৮ জন মানুষ অন্যের হাতে খুন হচ্ছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে ১৩ জন মানুষ অন্যের হাতে মারা যাচ্ছে।

চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে দেশের অনেক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে, অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। পরিসংখ্যানেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৫১ শতাংশ মানুষ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার সূচক অনুযায়ী সেবার আওতায় আছে। এর অর্থ দেশের ৫১ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনের সময় মানসম্পন্ন সেবা পায়। এর অন্য অর্থ হচ্ছে ৪৯ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনের সময় মানসম্পন্ন সেবা পায় না। পাশাপাশি বলা হচ্ছে, ২৪ শতাংশ মানুষের পারিবারিক আয়ের ১০ শতাংশ চলে যায় চিকিৎসা খরচ মেটাতে। ৮ শতাংশের বেশি মানুষ পারিবারিক আয়ের ২৫ শতাংশের বেশি খরচ করে চিকিৎসার পেছনে।

প্রসঙ্গত, রোববার (২২ মে) জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তরে শুরু হয়েছে ৭৫তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন। মূলত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য সম্মেলনের একদিন পূর্বে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক