১০ মে, ২০২২ ০২:২২ পিএম
সিজারে মা ও নবজাতকের মৃত্যু

‘অভিযুক্ত আবুল কাশেম পশু চিকিৎসক নন’

‘অভিযুক্ত আবুল কাশেম পশু চিকিৎসক নন’
বিভিএ জানিয়েছে, সংবাদ মাধ্যমে তাকে পশু চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্য়মে সমাজে প্রতিষ্ঠিত জনবান্ধব ভেটেরিনারি পেশার সদস্যদেরকে অযাচিতভাবে হেয় করা হয়েছে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টায় সিজারের সময় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কাশেম পশু চিকিৎসক নন। সংবাদ মাধ্যমে তাকে পশু চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্য়মে সমাজে প্রতিষ্ঠিত জনবান্ধব ভেটেরিনারি পেশার সদস্যদেরকে অযাচিতভাবে হেয় করা হয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ)।

সোমবার (৯ মে) সংগঠনের সভাপতি ডা. এস এম নজরুল ইসলাম ও মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা সাক্ষরিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সংশোধনের জন্য সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, ‘জনৈক আবুল কাশেম কর্তৃক একজন প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশনের অপচেষ্টার ফলে হতভাগ্য প্রসূতি ও নবজাতকের দুঃখজনক মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ৪ মে, ২০২২ তারিখ থেকে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারিত হয়ে আসছে, যেখানে একজন হাতুড়ে প্রতারকের এহেন নির্মম কর্মকাণ্ডের সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পশু চিকিৎসক শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কার্যত তিনি কোন পশু চিকিৎসক নন। ’

এতে আরো বলা হয়, ‘আমাদের সমাজে প্রচলিত অর্থে ভেটেরিনারি ডাক্তারদেরকেই পশু চিকিৎসক হিসেবে মানুষ জানে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের রাষ্ট্রীয় সমৃদ্ধিতে ভেটেরিনারি ডাক্তার বা প্রচলিত অর্থে পশু চিকিৎসকের ভূমিকা বহুমুখী। কিন্তু একজন প্রতারককে পশু চিকিৎসক হিসেবে আখ্যায়িত করে সংবাদ পরিবেশনের কারণে সমাজে প্রতিষ্ঠিত জনবান্ধব ভেটেরিনারি পেশার সদস্যদেরকে অযাচিতভাবে হেয় করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, কোটি কোটি মানুষের কাছে এহেন অযাচিত সংবাদ এর ব্যাখ্যা প্রদান করে ভুল সংশোধন করা সম্ভব নয়।’

এমন একটি দায়িত্ব জ্ঞানহীন সংবাদ রাষ্ট্রে মূলধারার পেশাগোষ্ঠির একটি অংশকে সামাজিক মর্যাদাহানির মানসিক চাপে ফেলছে, যা রাষ্ট্রের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছে বিভিএ। 

‘এমতাবস্থায়, সংবাদটি সঠিকভাবে পরিবেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। যাতে এটি প্রতীয়মান হয় যে, অপরাধী একজন প্রতারক মাত্র; কোন অবস্থাতেই পশু চিকিৎসক নন।’

প্রসঙ্গত, গত ৪ মে (বুধবার) দুপুরে বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামে হাতুড়ে চিকিৎসক আবুল কাশেমের করা সিজারের পর সন্তানসহ শরীফা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।  এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শরীফা বাকপ্রতিবন্ধী হাইছ উদ্দিনের মেয়ে। অভিযুক্ত আবুল কাশেমের বাড়ি একই উপজেলার জীবনপুর গ্রামে। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত