আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস ২০২২ পালিত
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (০৫ মে) পালিত হলো আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস ২০২২। বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) ও ইউএনএফপি’র সহযোগিতায় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করে। আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবারের মিডওয়াইফ দিবসে বাংলাদেশের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশে মিডওয়াইফারির এক দশক।’
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও উপসচিব মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।
মাতৃস্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থায় মিডওয়াইফদের কাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সারা বিশ্বে লাখ লাখ মা ও শিশুর জীবনে মিডওয়াইফগণের উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করা হয়।নার্সিং ও মিসওয়াইফারি অধিদপ্তরের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে একটি সেমিনার ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব নীতিশ চন্দ্র সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. এনামুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর ডা. শামসুল হক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর ডা. নুরুন নাহার বেগম, কানাডিয়ান হাই কমিশনের মাস্ট সেক্রেটারি (উন) জনাৰ জোসেফ সেভা, ইউকেএইডের অন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার জনাব এম রকিবুল ইসলাম এবং ইউএনএফপিএ‘র চিফ অব হেলথ ভা, বিভবেন্দ্র সিং রঘুবংশী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব জনাব সিদ্দিকা আক্তার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মিডওয়াইফ, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ অংশ নেন।
গত এক দশকে বাংলাদেশে মিডওয়াইফারি শিক্ষা ও সেবার উন্নয়ন এবং নিরাপদ মাতৃত্ব ও নবজাতকদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মিডওয়াইফদের সাফল্যের বিষয়ে সেমিনারে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই জন মিডওয়াইফ তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। দিবসটির প্রতিপাদ্যের উপর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীতিশ চন্দ্র সরকার বলেন যে, সরকার মিডওয়াইফদের জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচিত করেছে। বর্তমানে মিডওয়াইফগণ দেশেই মিডওয়াইফারি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব মো. এনামুল হক উল্লেখ করেন যে, সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত মিডওয়াইফ নিয়োগ নিয়েছে। সরকারি খাতে আলো মিওয়াইফের পদ সৃজন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যান্য বিশেষ অতিথিগণ তাদের বক্তব্যে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবায় মিডওয়াইফদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব সিদ্দিকা আক্তার বলেন যে, গর্ভবতী মায়ের নিরাপদ মাতৃত্ব ও নবজাতকের জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণে আমাদের মিডওয়াইফগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বৃদ্ধির লক্ষ্যে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর হতে নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। দক্ষ মিডওয়াইফ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে যোগ্য শিক্ষক পলায়ন করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের মিডওয়াইফগণ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের কর্মসূচি ছাড়াও সারাদেশে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।