২-৩ বছরের মধ্যে শনাক্ত হলে অটিজম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
আসাদুল ইসলাম দুলাল: মাহিন ইসলাম। সাত বছর তিন মাস বয়সী ফুটফুটে শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত। দুই বছর বয়স থেকে অস্বাভাবিক আচরণে তার অটিজম আক্রান্তের বিষয়ে অবগত হয় স্বজনেরা। যে বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা ও বন্ধুদের সঙ্গে খেলায় সময় কাটানোর কথা, সেই বয়স থেকে শুরু হয় তার অনিশ্চিত গন্তব্যের যাত্রা। ফলে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসায় সময় কাটাতে হচ্ছে তাকে। গত কয়েক বছর ধরে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন বাবা মোহাম্মদ হাসান মিয়া।
তিনি বলেন, ৪-৫ বছর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা কিছু ওষুধের পরামর্শ দেন। তবে ওই ওষুধে কোনো উন্নতি না হওয়ায় বাচ্চাকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) নিয়ে গেলে সেখানে দীর্ঘ সময় থেরাপি প্রদান করা হয়। এতেও সুস্থ না হলে চলে বিভিন্ন হাসপাতালে ছোটাছুটি। সবশেষ সবার পরামর্শে আবারও বিএসএমএমইউর ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজমে (ইপনা) নিয়ে আসেন প্রিয় সন্তানকে নিয়ে। বাচ্চাকে নিয়ে কষ্টে থাকার বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
তিনি আরও বলেন, অটিজমে আক্রান্ত বাচ্চা মাঝে মাঝে নিজের মাথা ও মুখে আঘাত করতে থাকে। সে কাউকে আঘাত করে না। নিজের শরীরেই আঘাত করে। এতে তীব্র আঘাতে মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে। বাধা দিলে স্বজনদের আঘাত করতে থাকে। সহ্য করতে না পেরে অনেক সময় বাচ্চাকে আঘাত করেন। অবশ্য পরক্ষণেই সীমাহীন কষ্ট ঘিরে ধরে তাদেরকে।
মাহিনের মা মাহিনুর আক্তার মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ছোটবেলা স্বাভাবিক মনে হলেও দুই বছর বয়সে তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আস্তে আস্তে তাদের পরিবেশটা ফিকে হয়ে যায়। তার বয়সের বাচ্চারা স্বাভাবিকভাবে চললেও মাহিন অস্বাভাবিক আচরণ করে। তখন আমি বুঝতে পেরেছি, আমার বাচ্চা অন্য দশটি বাচ্চার মতো ঠিক নেই। সে অটিজমে আক্রান্ত। দুই বছর বয়স থেকে বাচ্চার চিকিৎসা শুরু করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত ভালো ফল পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘গত ৭ বছর ধরে খুবই কষ্টে আছি। সে কথা বলতে পারে না, সব সময় অস্থির থাকে। টয়লেটের চাপ আসলেও মুখে বলতে পারে না। হাতের কাছে যা পায় তা দিয়ে ওয়াল এবং নিজেকে আঘাত করে নাক ও মুখ দিয়ে রক্তাক্ত বের করে। কথা বলতে না পারায় কোনো স্কুলে ভর্তি করানো হয়নি। বাচ্চা খুব কান্নাকাটি করে এবং কান্না শুরু করলে দেড় ঘণ্টার মধ্যে থামে না। সে খাওয়ার সময়ও স্থির থাকে না। একা থাকতে পছন্দ করে, কারও সাথে খেলা করে না। আমরা চেষ্টা করি, কিন্তু সে কারও সাথে খেলে না। খেল না দিয়েও সে খেলে না।’
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতেই এই রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থাপনা দিলে এর মাত্রা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
অটিজম চিকিৎসায় থেরাপি
অটিজম শিশুদের কোন ধরনের থেরাপি দেওয়া হয়, জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট থেরাপিস্ট ইসমত জাকিয়া মেডিভয়েসকে বলেন, স্পিচ থেরাপি প্রদান করা হয়, স্পিচ এবং কমিউনিকেশনের জন্য এ থেরাপি প্রদান করা হয়ে থাকে। একজন অটিজম শিশুর সাথে যখন আমি কথা বলবো, কথা শেখাবো। পাশাপাশি অভিভাবকদের শেখাবো, যেন বাসায় গিয়ে বিষয়টা অনুসরণ করে এবং চিকিৎসা দিতে পারে। সুতরাং তাকে যখন কথা বলানোর থেরাপি দেবো, তখন সে যেনো আমার সাথে যোগাযোগ করে, তার চেষ্টা চালানো হবে। এ সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলে সে কথা বলবে না। এটা আচরণগত সমস্যা। সে তার মতো থাকে। এটা একদিনে হবে না। দিনের পর দিন তার সাথে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। দিনে অন্তত ৪-৫ বার তার সাথে সেটিং দিতে হবে। কমপক্ষে দুই থেকে তিন ঘণ্টা তার সাথে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি অকুপেশনাল থেরাপি, সেন্সরি ইন্টিগ্রেশন থেরাপিও দেওয়া হয়।
অটিজমের লক্ষণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুণ্ড মেডিভয়েসকে বলেন, অটিজম হচ্ছে শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা। শিশুদের এই ব্রেনের বিকাশ মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় শুরু হয়, যা প্রথম পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। এই বিকাশজনিত সময়ে একটি শিশু যখন আরেকটি শিশুর সাথে মিশতে না পারে। যদি তার কথা বলতে অসুবিধা হয় এবং সে একটি কাজ বারবার করে তখন ওই শিশুর মধ্যে অটিজম থাকতে পারে বলে, ধারণা করা হয়।
অটিজমের লক্ষণ
তিনি আরও বলেন, অটিজমের সম্পূর্ণ লক্ষণ প্রকাশে প্রায় তিন বছর লেগে যায়। একটি শিশু এক বছরে একটি একটি কথা বলা শুরু করে, হাঁটা শুরু করে, কিছু বুদ্ধি-জ্ঞান আসতে শুরু করে। দেড় বছরে আরও একটু বাড়ে। দুই বছরে একটি শিশু দুইটি শব্দকে একত্রে একটি ছোট বাক্য বলতে পারে। তিন বছরে একটি শিশু ছড়া বলতে পারে। তাই তিন বছরের আগে অটিজম রোগটি নির্ণয় করা দুরুহ। এক্ষেত্রে যদি কখনো দেখা যায়, ১৮-২০ মাস বয়সে বা প্রথম এক বছরে যে শব্দগুলো বলা শুরু করেছিল, সেগুলো দেড় বছরে আরেকটু বাড়লো। কিন্তু একই সময়ে আগের কথাগুলো হারিয়ে গেল বা কমে গেল এবং তার মধ্যে কিছু কথা অর্থহীন। তখন মাঝেমধ্যে এগুলোকে আমরা বলে থাকি ‘অটিস্টিক ডিগ্রেশন’। এই হারিয়ে যাওয়া অটিজম রোগের একটি লক্ষণ।
তিনি আরও বলেন, তিন বছরে শিশুর বিকাশে প্রায় পূর্ণতা আসে। সেই সময়ে যদি দেখা যায়, ওর মধ্যে হাঁটা-বসা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু কথাবার্তা স্বাভাবিক নয় এবং অন্য শিশুর সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশছে না। অনেক সময় এই ধরনের শিশুদের মাঝে মনোযোগে সমস্যা হতে পারে, ছোট কোনো কাজে বিরক্তি হতে পারে, হাইপার অ্যাকটিভ হতে পারে। তখন ধরে নেওয়া হয়, এই শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত।
অটিজম শনাক্তে পরীক্ষা
অটিজম শনাক্তে কোন ধরনের পরীক্ষা করা হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক গোপেন কুমার বলেন, এক্ষেত্রে কিছু ব্যবহারিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করি, যা ল্যাবরেটরি টেস্ট নয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার এন্ড অটিজমে (ইপনা) ইন্টারভেনশনের ব্যবস্থা করি। শুরুতে ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে এই ধরনের শিশুদের মধ্যে দেখা যায়, যেসব উপসর্গ তাদের মধ্যে থাকে, তা যদি আমরা শৈশবে বা রোগের প্রাথমিক অবস্থায় এই নির্ণয় করতে পারি, তখন ইন্টারভেনশন দেওয়া হলে এর উপসর্গ কমতে থাকে।
শিশুর অটিজম আক্রান্ত হওয়ার কারণে জানতে চাইলে এই নিউরোলজিস্ট বলেন, ‘আমরা গবেষণা করে পেয়েছি, এটা জিনগত সমস্যা হতে পারে। একই পরিবারে একটি বাচ্চার হলে আরেকটি বাচ্চার মধ্যে রোগটি আসতে পারে। একই ভ্রুণ থেকে দুটি বাচ্চা বা জমজ বাচ্চা হলে তাদের মধ্যে এই রোগটি বেশি দেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে পরিবেশ একটি অন্যতম কারণ। এজন্য পরিবেশ অনুকূলে না থাকলে এই রোগের মাত্রা বেড়ে যায়। এ ছাড়া কিছু জিনগত ত্রুটি নিয়ে যদি কোনো বাচ্চা জন্মগ্রহণ করে, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে অটিজমের মাত্রা অনেকগুণ বেশি থাকে। পরিবেশগত অসুবিধা থাকলে জিনগত সমস্যাটাকে বাড়িয়ে দেয়।
এই রোগের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে, রোগটি ধরতে হবে। জিনগত হলে পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি ধরা যায়। কিন্তু রোগের উপসর্গ যেগুলো নির্ণয় করার জন্য ইপনাতে কিছু ব্যবহারিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার করতে হয়। এছাড়া অটিজম ডায়াগোনস্টিক চেক লিস্টের মাধ্যমে (এডিসিএল) এই রোগ শনাক্ত করা যায়।
অটিজমের চিকিৎসায় জরুরি বহুমাত্রিক টিম
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ডাক্তার এই রোগটি নির্ণয় করতে পারে এবং অভিভাবকদের কাউন্সেলিং করতে পারে। পাশাপাশি ওষুধের ব্যবস্থা করতে পারে। এছাড়াও বহুমাত্রিক টিমের মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডাক্তার, সাইকোলজিস্ট, থেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্ট, পিতা-মাতা ও সোশ্যাল ওয়ার্কার। এই টিমের দ্বারা এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। একজন বাচ্চা যখনই অটিজমে আক্রান্ত হয়, তখন একজন চাইল্ড মনোবিজ্ঞানীর মাধ্যমে এই রোগটি নির্ণয় করা হয়। কারও রাতে ঘুমের সমস্যা থাকতে পারে, হজমের সমস্যা থাকতে পারে, হাইপার অ্যাক্টিভিট থাকতে পারে। অনেক সময় ২০-৩০% বাচ্চার মাঝে খিঁচুনি রোগের প্রবণতা দেখা যায়। এই রোগটি অটিজম রোগের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এজন্য শিশুদের খিঁচুনি রোগ থাকলে, তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করার চেষ্টা করতে হবে। অনেকাংশে কোনো শিশুর মনোযোগ থাকে না, সেই কারণে অনেক সময় এই ধরনের শিশুদের ক্ষেত্রে এডিএস ওষুধগুলো দেওয়া হয়ে থাকে। ঘুমের সমস্যা বেশি থাকলে এই ধরনের শিশুদের মাত্রাটা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ঘুমের সমস্যা সমাধানের জন্য ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি নিজের গায়ে আঘাত করা বা অন্যকে আঘাত করে এই ধরনের বাচ্চাদের জন্য ওষুধ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া এই ধরনের বাচ্চার জন্য রোগের শুরুতে মোবাইল দূরে সরানো, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর ব্যবস্থা করলে রোগের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব।
চিকিৎসায় অটিজম কমানো সম্ভব
চিকিৎসায় এই রোগ কতটুকু ভালো হয়, জানতে চাইলে এই নিউরোলজিস্ট বলেন, অটিজম এমন একটি রোগ, যা সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা সম্ভব হয় না। কিন্তু এর মাত্রা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে যদি শিশুর বিকাশের (৫ বছরের) মধ্যে ইপনার সেন্টারে আনা যায়, তাহলে কমিয়ে আনা সম্ভব। শিশুর কথা বলা, আচার-আচরণ ভাল করা, শিশুকে শিক্ষার ব্যবস্থা এই কাজগুলো অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারি।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি কোনো শিশু ৬ মাসের মধ্যে মায়ের দিকে তাকিয়ে না হাসে, নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেয়, মায়ের চোখে চোখ না রাখে এবং এক বছরের শিশু যদি কথা না বলে তাহলে শিশুকে অটিজমে আক্রান্ত ধরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এ ছাড়া দুই বছরের শিশু যদি দুটি শব্দের বাক্য বলতে না পারে, ১৮ মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে শেখা কথাগুলো ভুলে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সে (রেড ফ্লাগ সাইন) অটিজমে আক্রান্ত। তাহলে অভিভাবকরা যেন নিকটস্থ শিশু বিকাশ কেন্দ্রে (ইপনা) যোগাযোগ এবং চিকিৎসা নেন।
অটিজম শিশুর পরিসংখ্যান
অটিজম শিশুর পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক গোপেন কুমার কুণ্ড বলেন, নিউইয়র্কভিত্তিক সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের পর প্রতি ৫৪ জনের একজন অটিজমে ভুগছে। বাংলাদেশে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১০ হাজারে ১৫ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত।
মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা বেশি অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, অটিজম ছেলের সংখ্যা অনেক বেশি। অটিজমে আক্রান্ত ছেলের সংখ্যা যদি চারজন হয়, তাহলে মেয়ের সংখ্যা এক জন। অর্থাৎ ৪:১ হারে অটিজমে ভুগছে দেশ। মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা ৪ গুণ বেশি অটিজমে আক্রান্ত হচ্ছে।
২০১৭ সালে বিএসএমএমইউ‘র ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার এন্ড অটিজমের এক গবেষণায় দেখা যায়, ১০ হাজার শিশুর মধ্যে ১৭ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত হচ্ছে।
২০১৭ সালের আরও একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১০ হাজারে ২৫ জন শিশু ছেলে এবং ১৪ জন শিশু মেয়ে। এখানেও দ্বিগুণ ছেলে শিশু আক্রান্ত।
২০১৩ সালের ইপনার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ছেলে শিশুরা মেয়েদের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। সেখানে গ্রামের শিশুদের চেয়ে শহরের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গ্রামের পরিবেশ শিশু বিকাশের অনুকূলে থাকে। শহরের শিশুরা রোদে কম পায়। গ্রামের শিশুরা রোদে বেশি থাকে। শহরের শিশুদের রক্তে লেড’র পরিমাণ বেশি থাকে। বাতাসে কিছু দূষণ থাকে। শিশুরা অভিভাবকদের কম সাহচর্য পায়।
অটিজমের চিকিৎসায় গবেষণা
অটিজম নিয়ে গবেষণা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গবেষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ জোর দিয়েছেন। এই মূহূর্তে এই ধরনের শিশুদের জন্য প্রধান কাজ হচ্ছে গবেষণা শুরু করা। বর্তমানে অটিজম নিয়ে আমাদের এই বিভাগে পাঁচটি গবেষণা চলছে। গবেষণায় আমরা অনেক দূর এগিয়ে রয়েছি। ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবো।’
অটিজম শিশুদের জন্য সরকারের কি ব্যবস্থাপনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমান সরকার অটিজমবান্ধব। শিশুদের বিকাশজনিত যে সমস্যাগুলো দেশে রয়েছে। এগুলো নিয়ে অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সরকার বেশি কাজ করে। বর্তমান সরকার আগেই চিন্তা করেছে মা-বাবার অবর্তমানে এই ধরনের শিশুদের জন্য কি করবে। তাই অভিভাবকদের পাশাপাশি এই ধরনের বাচ্চাদের নিয়েও কাজ করে। পাশাপাশি সরকারও কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইপনা স্থাপন ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি। এই সেন্টারে যাতে অভিভাবকরা তাদের মনের কথাগুলো বলতে পারেন। এই ধরনের শিশুদের জন্য শিশু সুরক্ষা এবং অধিকারের জন্য আইন করেছে সরকার। এই আইনের জন্য একটি ট্রাস্টি বডি রয়েছে। এই ধরনের শিশুরা রেজিস্ট্রারভুক্ত হলে, তাদেরকে মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের পড়াশোনার জন্য স্কুলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মা-বাবার অবর্তমানে শিশুরা কোথায় থাকবে, সে ব্যাপারে আইনও করা হচ্ছে।
এমইউ