ডা. ফজলুর রহমান
বিডিএস (ঢাকা ডেন্টাল কলেজ)
বিসিএস (স্বাস্থ্য), ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
০৪ এপ্রিল, ২০২২ ১১:৩৪ এএম
একজন আদর্শ শিক্ষকের পরলোকগমন
১৯৭৮ সাল, সবেমাত্র আমি ঢাকা ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হই। সে সময় আমরা আমাদের শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডা. কে. এ. জলিল স্যারকে প্রভাষক হিসেবে পাই। এরপর স্যার যুক্তরাজ্য যান উচ্চতর ডিগ্রির জন্য। ডিগ্রি নিয়ে যথারীতি ডেন্টাল কলেজে যোগদান করেন।
আমাদের সৌভাগ্য তার মতো একজন নীতিবান ও জ্ঞানী শিক্ষককের সান্নিধ্য পেয়েছি। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল। তিনি কখনো ছাত্রদের নিয়ে রাজনীতি করেননি। তাদেরকে তিনি সব সময় ছাত্র হিসেবে মর্যাদা দিতেন। কারো খারাপ বা ক্ষতির সঙ্গে তিনি কখনোই জড়িত ছিলেন না। স্যার কে নিয়ে কোনো দুর্নীতির কথা কখনোই শোনা যায়নি। তিনি ছিলেন একজন সৎ ও নীতিবান শিক্ষক।
আজ লিখতে বসে স্যারের অনেক কথাই মনে পড়ে। স্যারকে অনেক সময় অনেক জ্বালাতন করেছি, আমি তখন নারায়ণগঞ্জ নতুন হাসপাতলে। একদিন স্যার ছাত্রদের পরীক্ষা নিচ্ছেন, এ সময় কয়েকবার লুৎফরকে টেলিফোনে করি এবং স্যারকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু স্যার আমার উপর বিরক্ত হননি। ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়ে স্যারের সাথে দেখা করতে যাই। লুৎফর সেদিন স্যারকে বলেছিলেন, স্যার উনি ফরিদপুরের ছেলে। তখন স্যার আমাকে বলেছিলেন, দেখুন (স্যার ছাত্রদের সাথে সব সময় আপনি করে কথা বলতেন) আমাদের ফরিদপুরের রাস্তাঘাটের অবস্থা অনেক খারাপ, এগুলো আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে। হয়তো আগে থেকেই স্যারের দেশের জন্য কাজ করার স্পৃহা ছিল। সে জন্যই স্যার রাজনীতিতে এসেছিলেন এবং জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পেরেছিলেন।
লুৎফরের কাছে মাঝেমধ্যে স্যারের শারীরিক অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করলে বলতো, স্যারের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। মাঝে মাঝে সিদ্ধেশ্বরী, মৌচাকে স্যারের সাথে দেখা হতো। একদিন দেখি, বাসায় যাওয়ার জন্য স্যার সিএনজি খুঁজছেন। চালক বেশি দাম চাওয়াতে স্যার সিএনজিতে যেতে রাজি হচ্ছেন না। আমি স্যারকে আমার বাসায় যাওয়ার জন্য অনুরোধ করি, স্যার আমাকে বললেন না আজ থাক, সামনে তো অনেক দাওয়াত আসবে, তখন বাসায় যাওয়া যাবে। সেই যাওয়া আর কোনদিন হলো না।
আমরা সকলেই স্যারের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তা’আলা স্যারকে যেন জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে আসীন করেন, আমিন।