শলা পরামর্শে নিষেধাজ্ঞা: ইউএইচএফপিওর সেই অফিস আদেশ প্রত্যাহার
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এক সঙ্গে তিন বা তার অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর শলা-পরামর্শে নিষেধাজ্ঞা জারি করে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবু তাহেরের সেই অফিস আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় বিষয়টি মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মদ কবির।
তিনি বলেন, ‘অফিস আদেশটি বিধি সম্মত হয়নি এবং ভাষাগত ত্রুটি রয়েছে। এ জন্য শলা পরামর্শে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অফিস আদেশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
ডা. আহাম্মদ কবির বলেন, ‘আসলে অফিস আদেশটি জারি হয়নি। এটার কোনো স্মারক নম্বর ছিল না। স্মারক নম্বর না থাকলে সেটা কোনো অফিস আদেশ হয় না। এটা তাদের অফিসের মধ্যে যেকোনো একজন ভাইরাল করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আমরা আরও তদন্ত করতেছি।’
ডা. আবু তাহেরের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ প্রত্যাহার সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ৭ মার্চ আমার কার্যালয়ের স্মারকবিহীন একটি ‘অফিস আদেশ’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। উক্ত অফিস আদেশটি বিধিসম্মত না হওয়ায় এবং এতে ভাষাগত ক্রুটি থাকায় তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।’
এর আগে ৭ মার্চ ডা. আবু তাহেরের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, ‘ইদানিং লক্ষ করা যাচ্ছে, কোন কোন কর্তকর্তা বা কর্মচারী তিনি বা তার বেশি সংখ্যক একত্রিত হয়ে শলা পরামর্শ করে থাকেন। যা রাষ্ট্রীয়, সামাজিক কিংবা পারিবারিক, সরকারি চাকুরীর আচরণ বিধির বহির্ভূত। যদিও কোন কাজ করার প্রয়োজন মনে করলে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে যৌক্তিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করার জন্য সকলকে প্রদান করা হলো। এর ব্যত্যয় ঘটলে তার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে জানানো হবে।’
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবু তাহেরকে তলব করে লক্ষ্মীপুর জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়।
বুধবার (৮ মার্চ) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মদ কবির মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ ধরনের অফিস আদেশ দেওয়ার কোনো বিধান বিদ্যমান আইনে নেই। আজকে ডা. আবু তাহেরকে তলব করা হয়েছে এবং বিভাগীয় পরিচালকের অফিসে পাঠানো হয়েছে। এটা নিয়ে আমরা ক্ষুদ্ধ, কেন এ ধরনের আদেশ দেওয়া হলো?’
এদিকে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা। তারা বলেন, এ অফিস আদেশ সংবিধান পরিপন্থি। কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহেরের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনো মতেই ঠিক হয়নি বা তার ইখতিয়ারে নেই।
এ রকম আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা ইউএইচএফপিওর নেই উল্লেখ করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান মেডিভয়েসকে বলেন, এ ধরনের আদেশ তিনি দিতে পারেন না।