গ্লকোমা সচেতনতায় আনোয়ার খান মেডিকেলে র্যালি-আলোচনা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গ্লকোমা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে রাজধানীর আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে র্যালি ও আলোচনা সভা। বিশ্ব গ্লকোমা সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৯ মার্চ) সকালে র্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই দিবসটি উদযাপন করছে কলেজটি।
র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. এখলাসুর রহমান বলেন, ‘গ্লকোমা একটি মারাত্মক রোগ। এটি হলে চোখের প্রেসার বেড়ে যায়, এজন্য এতে আক্রান্ত যে কেউ হঠাৎ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। সুতরাং পূর্ব থেকে ব্যবস্থা নিলে এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিলে এই নিরব ঘাতক থেকে বাঁচা যাবে। এজন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে ভিটামিন-বি জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে।
গ্লকোমা আক্রান্তদের অভয়বাণী শুনিয়ে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, গ্লকোমা হলেও ভয়ের কিছু নেই। এ থেকে রক্ষা পেতে দেশে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুবিধাগুলো নেওয়ার মাধ্যমে অন্ধত্ব থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব।
র্যালি শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হাসান শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘এই রোগ যার হয়, তিনি নিজেও জানেন না তার গ্লকোমায় আক্রান্ত হওয়ার কথা। সেজন্য আগে থেকে এই রোগের চিকিৎসা করাতে হবে এবং নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে।’
গর্ভাবস্থায়ও শিশুর গ্লকোমা হতে পারে জানিয়ে ডা. হাসান শহীদ বলেন, ‘এজন্য শিশু জন্ম নেওয়ার পরই চোখ বড় হলে কিংবা একটি ছোট অন্যটি বড় হলে বুঝতে হবে তার চোখে সমস্যা আছে। তাই শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। না হলে এক পর্যায়ে শিশুটি অন্ধও হয়ে যেতে পারে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইফতেখার মো. মুনির বলেন, গ্লকোমা প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ, এর পরও সাধারণ মানুষ ততটা জানেন না। প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াগোনসিস করতে পারলে রোগী পুরোপুরি সুস্থতা লাভ করতে পারে। এজন্য সোইসাইটির পক্ষ থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা সহীদ বলেন, ‘একজন মানুষের জন্য চোখ একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যার চোখ নেই তার দুনিয়া অন্ধকার। সে অন্যের জন্য বোঝা হয়ে যায়। শুধু নিজের জন্যে নয়, বরং তার পরিবার এমনকি পুরো দেশের জন্যও বোঝা হয়ে যায়। মারাত্মক দৃষ্টিনাশী এ ব্যাধিতে নিজের অজান্তেই অকাল অন্ধত্বের শিকার হন রোগী। গ্লকোমা বিশেষজ্ঞ, বিশেষ করে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা এ রোগটি নিয়ে খুবই চিন্তিত। এজন্য এই সপ্তাহ উপলক্ষে স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম, র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে আমরা সমাজে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে চাই।’
অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন, ডা. আশরাফুল হক হৃদয়, ডা. সালামা পারভীন, ডা. সিদ্দিকুর রহমান ও ডা. এম জিয়াউল করীম প্রমুখ।