‘স্যারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমার মেয়ে ক্যান্সার জয়ের পথে'
সালাহউদ্দীন কাদের: জান্নাতুল ফেরদৌস জেবা, তিন বছর দুই মাস বয়সী শিশুটি মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। দুই বছর দুই মাস বয়সে ধরা পড়ে এ দূরারোগ্য ব্যাধি। ফলে যে বয়সে তার খেলাধুলা করে কাটানোর কথা, সে বয়সে হাসপাতালের বারান্দায় সময় কাটছে যন্ত্রণায়।
গত এক বছর ধরে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন বগুড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জিন্না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউতে) নিয়ে আসার পর জেবার বোনম্যারো পরীক্ষা করার কথা বলা হয়। পরীক্ষায় ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল করিম এর পরামর্শে মেয়েকে এখানে ভর্তি করানো হয়। প্রায় এক মাস হাসপাতালে থাকার পর কিছুটা উন্নতি হলে স্যারের পরামর্শে বিএসএমএমই’র পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
শুরুতে বগুড়ায় মেয়ের চিকিৎসা করিয়েছেন আব্দুল খালেক। পরবর্তীতে সুস্থতার বিষয়ে চিকিৎসকদের আশ্বাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়েকে নিয়ে আসেন ‘বিএসএমএমইউতে’। এখানে চিকিৎসকদের সেবা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল করিম স্যারের প্রচেষ্টায় মেয়ে এখন অনেকটা সুস্থের দিকে বলে জানান আব্দুল খালেক।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার মেয়ে অনেকটা সুস্থের দিকে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক থাকায় নতুন করে রক্ত দেওয়া লাগছে না।’
৫২টি বিভাগের মধ্যে শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসায় অন্যন্য ভূমিকা রাখছে উচ্চশিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি। শুরু থেকেই এখানে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চলছে জেবার চিকিৎসা।
এ ব্যাপারে শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল করিম মেডিভয়েসকে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) শুরু থেকেই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ইনডোর বেড রয়েছে বলে জানান তিনি। এখানে আউটডোরেও রোগীদের সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মাত্র ৩০ টাকার টিকিট এর বিনিময়ে যে কেউ চাইলে সরাসরি চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। এ ছাড়া ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি বিএসএমএমইউ সরাসরি সেবা ও গবেষণার মাধ্যমে উন্নত সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ শিশু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।
বিএসএমএমইউতে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ শিশু ক্যান্সার রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে মৃত্যুর আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।
প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ক্যান্সার কিছুটা ভিন্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শিশুদের মধ্যে সাধারণত লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বেশি হয়। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই এ ক্যান্সারের রোগী। এ ছাড়া কিছু ক্যান্সার রয়েছে, যা শুধু শিশুদেরই হয়। যেমন: নিউরোব্লাস্টোমা, নেফ্রোব্লাস্টোমা, মেডুলোব্লাস্টোমা এবং রেটিনোব্লাস্টোমা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে অন্তত তিন লাখ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৮০ ভাগ শিশুকেই চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব।
-
১২ এপ্রিল, ২০২২
-
০১ মার্চ, ২০২২
-
২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২