অমিক্রন ও সাধারণ সর্দি-কাশির মধ্যে পার্থক্য
সালাহউদ্দীন পাটোয়ারী: দেশে শীত আসলে হঠাৎ ঠাণ্ডা বা সর্দিজ্বর যে কারো জন্য খুবই সাধারণ একটি বিষয়। এ অসুখ মানুষকে খুবই সামান্য কারণে যেমন ভোগাতে পারে, তেমনি সহজেই সেরেও যেতে পারে। কিন্তু করোনার নতুন ধরন অমিক্রন কিংবা সাধারণ সর্দি-কাশি এবং করোনাভাইরাসের উপসর্গ একই রকম হলেও দুটির মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দুই অসুস্থতাই ভাইরাসজনিত। তবে দুই ভাইরাসেই রয়েছে বৈশিষ্টগত কিছু ভিন্নতা।
এ ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘করোনা এবং সাধারণ সর্দি-কাশির মধ্যে কিছুটা মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অমিক্রনে আক্রান্ত হলে শরীর প্রচুর দুর্বল হয়ে যায়। এ সময়টা শরীর ক্লান্ত থাকবে। শরীরে ব্যথা অনুভূত হবে। তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যাবে। ভেতরে সংক্রমণ না থাকলে শুধু সর্দি-কাশিতে জ্বর আসবে না। এ ছাড়াও বয়স্ক লোকদের অনেকের কোমরে প্রচুর ব্যথা অনুভূত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘করোনার অন্যান্য ধরনগুলো তেমন ছড়াতো না, কিন্তু অমিক্রন অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এ ভাইরাস দ্বারা ছোট-বড় সকলেই আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুরা এই ভাইরাসের মাধ্যমে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী বলেন, ‘অমিক্রন এমন একটি পদার্থ, যা ইউমিনিটি সিস্টেমকে এড়িয়ে মানুষের শরীরে আঘাত করে। যে কারণে বোঝার উপায় থাকছে না। তাই এই ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে সংক্রমণ বাড়ছে।’
সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাপ গবেষণায় দেখা গেছে, অমিক্রনের উপসর্গ হালকা ঠাণ্ডার মতো হওয়ায় শীতকালে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গবেষকরা বলেছেন, অমিক্রনের লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-কাশির মতো। নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, গলা ব্যথা—এই ধরনের চারটি মোটামুটি সাধারণ লক্ষণ। আর ঠাণ্ডা লাগার সঙ্গে জ্বর, গন্ধ ও স্বাদ হারানো ছিল আগের ধরনগুলোর লক্ষণ।
অমিক্রন থেকে রক্ষা পেতে তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিয়ে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘মাস্ক পরা ও জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে হবে। সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৮ হাজার ৪২৫ জন। এ সময় ১৩ হাজার ১৫৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ লাখ ১১ হাজার ৯৮৭ জন।
অন্যদিকে সোমবার (৩১ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার সপ্তাহভিত্তিক পর্যালোচনায় জানা গেছে, করোনাভাইরাসটি আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে মারা গেছেন ১৪০ জন তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ টিকা নেননি।
অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ থেকে ৩০ জানুয়ারি করোনায় মারা যাওয়ায় এই ১৪০ জনের মধ্যে ১০৯ জন টিকা নেননি; শতকরা হিসেবে যা ৭৭ দশমিক নয় শতাংশ। বাকি ৩১ জন অর্থাৎ ২২ দশমিক এক শতাংশ টিকা নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ছয় জন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছিলেন ২৩ জন আর তৃতীয় অর্থাৎ বুস্টার ডোজ নিয়েছিলেন দুইজন।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে প্রাণ হারানোর মধ্যে পুরুষ ৮০ জন আর নারী ৬০ জন। তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন গর্ভবতী। তাদের মধ্যে কোমরবিডিটি অর্থাৎ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন ৮৬ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
এ ছাড়াও মারা যাওয়া ১৪০ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত ছিলেন উচ্চ রক্তচাপে; শতকরা ৬৫ দশমিক এক শতাংশ। এরপর রয়েছে ডায়াবেটিস, এতে আক্রান্ত ছিলেন ৬১ দশমিক ছয় শতাংশ।
২৬ দশমিক সাত শতাংশ আক্রান্ত ছিলেন কিডনি রোগে, হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন ২০ দশমিক নয় শতাংশ। ১৬ দশমিক তিন শতাংশ আক্রান্ত ছিলেন বক্ষব্যধিতে। চার দশমিক সাত শতাংশ করে আক্রান্ত ছিলেন নিউরোলজিক্যাল ও ক্যান্সারে, গ্যাস্ট্রোলিভার, স্ট্রোক, বাত জ্বর, রক্তজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন দুই দশমিক তিন শতাংশ করে আর অন্যান্য অসুখে আক্রান্ত ছিলেন এক দশমিক দুই শতাংশ মানুষ।
-
০৮ জুলাই, ২০২৫
-
২৪ জুন, ২০২৫
-
২৩ জুন, ২০২৫
-
১৯ জুন, ২০২৫
-
১৮ জুন, ২০২৫
-
১৪ জুন, ২০২৪
-
০৭ জুন, ২০২৪
-
০৩ জুন, ২০২৪