১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৯:২৫ পিএম

বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল স্বৈরাচারী সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল স্বৈরাচারী সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকার একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে এবং একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে খুশি করতে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

চিকিৎসা খাতের বেহাল দশা সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করে অন্য কারো হাতে তুলে দিয়েছিল এবং একটি বিশেষ দেশকে একচেটিয়া রোগী সরবরাহ ও চিকিৎসা বাণিজ্যের সুবিধা দেওয়ার জন্য আমাদের দেশের বড় বড় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল।

বাজেট উপস্থাপনের দিন বিরোধীদলীয় নেতার মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছিলেন আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা একশত ভাগ অসুস্থ, কিন্তু আসলে এটি ১০১ ভাগ অসুস্থ। এই মৃতপ্রায় চিকিৎসা খাতকে পুনরায় সচল করতে চলতি বাজেটে ১.২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হলেও আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, রোগ প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৫টি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট ৫টি আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে নীতি রয়েছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকার অন্য কারো এজেন্ডা ও তাবেদারি বাস্তবায়নে মনেপ্রাণে সেই নীতিই এ দেশে প্রয়োগ করেছিল।

তিনি বলেন, এই চরম ক্ষতিকর নীতিটি করা হয়েছিল অন্য কাউকে খুশি করার জন্য, বিশেষ কোনো গোষ্ঠী বা কোনো একটি বিশেষ দেশকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকার ব্যবসা ও একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার জন্য। তবে বর্তমান সরকার এই জাতীয়তাবিরোধী ধ্বংসাত্মক নীতির সম্পূর্ণ বিরোধী। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ও আধুনিক মানবিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে এবং বিতর্কিত সিলেবাসগুলোকে সিলেবাস থেকে ধীরে ধীরে পুরোপুরি সরিয়ে আনতে সরকার কাজ শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে শিক্ষার উপকরণ নিশ্চিত করা এবং যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলবেন, সেই শিক্ষকদের যুগোপযোগী সঠিক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা ও উপকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার বাজেটে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক