করোনা মোকাবিলা
যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের সমালোচনার সমুচিত জবাব অধ্যাপক আব্দুল্লাহর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের সমালোচনার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সফরে মার্কিন চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, ভালোভাবে করোনা মোকাবিলা করতে পেরেছে বলেই পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যু ও সংক্রমণের হার অনেক কম।
সোমবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক।
সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমি কয়েকটি দেশ সফর করেছি। এসব বড় বড় দেশের টাকা-পয়সা প্রচুর এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারা অনেক সমৃদ্ধ। তাদের কোন কিছুতেই অভাব নেই। তাদের মূল্যায়ন হলো, বাংলাদেশ সম্ভবত সবচেয়ে সফলভাবে করোনা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য শুরুতেই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি কোনো রকমের কালক্ষেপণ ছাড়া যখন যা প্রয়োজন সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনায় করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক সাফল্য নিয়ে আলোচনার কথা জানান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সফলতার বিষয়ে তুলনামূলক আলোচনায় তারা কেউ কেউ দাবি করেছেন, তারা আমাদের চেয়ে অনেক সফল। জানতে চাইলাম, তোমাদের কত লোক মারা গেছে; তারা বলেছে, সাত লক্ষাধিক। আমি বললাম, আমাদের প্রাণহানি তো মাত্র ২৭ হাজার, তাহলে তোমাদের সফলতার দাবি তো সত্য নয়। এর পর তাদের আক্রান্তের সংখ্যা জানতে চাইলে তারা বললো, ৪ কোটির মতো। আমি জানালাম, আমাদের এ সংখ্যা ১৫ লাখের মতো। জানতে চাই, তাহলে তোমরা কোন দিক থেকে ভালো করেছো, তারা একদম লা জওয়াব।’
‘তারা দাবি করেছে, আমাদের পরিসংখ্যান সঠিক না। আমি জবাব দিয়েছিলাম, তাহলে করোনায় আমাদের মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ, তিনগুণ, পাঁচগুণ কিংবা ১০ গুণ ধরি, তাও তো তোমাদের কাছাকাছি হবে না। তাহলে তোমরা কিভাবো ভালো করলে?’, যোগ করেন অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ।
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় শুরুতে কিছুটা অসুবিধা ছিল। নতুন স্বাস্থ্য সংকট হওয়ায়, এর সমাধানের বিষয়টিও কেউ জানতো না। গোটা পৃথিবীই এ ব্যাপারে অন্ধকারে ছিল।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে কাজ করতে গেলে, কিছুটা ভুল হতে পারে। এজন্য চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ সমালোচনাও হতে পারে, এটা স্বাভাবিক। এসব কিছুর উত্তরণ ঘটিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক সুন্দরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরেছে, ভাইরাসটি মোকাবেলায় দেশ সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকরা অনেক আন্তরিকভাবে, যথেষ্ট ভালো করে চিকিৎসা প্রদান করছে। ফলে করোনা নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা যথেষ্ট বেশি সফল হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের যতই দোষ দেওয়া হোক না কেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালোভাবে করোনা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।’
চিকিৎসা কার্যক্রম চমৎকারভাবে এগিয়ে চলেছে। শুরুতে কিছুটা ভয়-ভীতি থাকলেও পরবর্তীতে সব কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন আমাদের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা নির্ভয়ে রোগীদের কাছে যান এবং তাদের সেবা দেন, কাউন্সেলিং করেন। আর এর কল্যাণেই আমরা করোনা মোকাবেলায় অনেক ভালো করেরি।
এ সময় শ্রমের বিপরীতে দেশের চিকিৎসকরা অত বেশি প্রত্যাশা করেন না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেন, তাদের সামান্য চাওয়া যেন যথাযথভাবে পূরণ করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে উদ্দেশ্য করে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের যারা ফেলো হলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হলেন, তাদের অত বেশি চাওয়া-পাওয়া নেই। উচ্চাশা নেই, তাদের সবার চাহিদা একেবারেই সীমিত।’
তিনি বলেন, ‘তারা একটু ভালো পদায়ন চান, সময়মতো পদোন্নতি চান। এগুলো যেন যথাযথভাবে হয়। তাঁরা যে দিনরাত পরিশ্রম করছেন, এর প্রতিদানে খুব বেশি কিছু চান না। এটুকু যদি পূরণ হয়ে যায়, তাহলে তাঁরা সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।’
চিকিৎসকদের পদোন্নতিতে দীর্ঘ সূত্রতার কথা তুলে ধরে প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘অনেক চিকিৎসক আছেন, যারা সাত-আট বছর আগে এফসিপিস করেছেন, এমডি-এমএস করেছেন, তাঁরা অপেক্ষা করছেন, কিন্তু পদোন্নতি পাচ্ছেন না, নতুন পদ পাচ্ছেন না।’
এ সময় চিকিৎসকদেরকে আন্তরিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ। বলেন, যারা এফসিপিএস পাস করেছেন, নতুন ফেলো হয়েছেন, তারা যেন অবশ্যই দেশের মানুষকে নিবেদিত হয়ে স্বাস্থ্যসেবা পুরোদমে দিয়ে যান।