সিওমেক হাসপাতালে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট চালু আগামী মাসে
মো. মনির উদ্দিন: সম্পূর্ণ শ্রবণপ্রতিবন্ধী বা জন্মগত মূক ও বধির শিশুদের চিকিৎসায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালে আগামী মাস থেকে চালু হচ্ছে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট (কানের বিশেষ অপারেশন)।
এ প্রকল্পের পরিচালক সিওমেকের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নূরুল হুদা নাঈম মেডিভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী মাস থেকে এই অপারেশন চালু হতে পারে। এ লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত বছর অনুদান পাওয়ার কথা জানিয়ে ডা. নাঈম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই বছর থেকেই হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের অধীনে আলাদা এই ইউনিট স্থাপনের অকাঠামোগত কার্যক্রম শুরু হয়। এ লক্ষ্যে সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। ইমপ্লান্টের জন্য অস্ত্রোপচার কক্ষও (ওটি) প্রস্তুত। আমরা আগামী মাস থেকে ইনশাল্লাহ অপারেশনে যাবো।’
বধির হয়ে জন্ম আড়াই হাজার শিশুর
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২ হাজার ৬০০ শিশু বধির হয়ে জন্ম নেয়। এত দিন ঢাকায় এর চিকিৎসা দেওয়া হতো। বেসরকারিভাবে খরচ হতো ১০-১৫ লাখ টাকা। এখন স্থানীয়ভাবে এ চিকিৎসা চালু হওয়ায় সিলেটের অসচ্ছল ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। সম্পূর্ণ শ্রবণপ্রতিবন্ধী বা জন্মগত মূক ও বধির শিশুদের চিকিৎসায় এ অঞ্চলে একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।
‘এক দশক আগেও দেশে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট প্রতিস্থাপন চিকিৎসা ছিল না। ফলে ২৫/৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদেশে এ চিকিৎসা করাতে হতো। এখন দেশেই সরকারিভাবে তা সম্ভব হচ্ছে। এটি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় বড় একটি সাফল্য’, যোগ করেন ডা. নাঈম।
যাদের কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট প্রতিস্থাপন প্রয়োজন
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়সী যেসব শিশু বধিরতায় ভোগে, এমন শিশুদের চিকিৎসায় কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন পড়ে। বর্তমানে কেবল ঢাকাতেই এ চিকিৎসা হয়। ঢাকার বাইরে এই প্রথম সিলেট ও চট্টগ্রামে সরকারিভাবে এমন চিকিৎসা চালুর জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
সিওমেকে যেভাবে চিকিৎসা পাবে শিশুরা
এ প্রসঙ্গে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান মনিলাল আইচ বলেন, যেসব শিশুর বধিরতা আছে, তাদের অভিভাবকদের হাসপাতালে নাম নিবন্ধন করবেন। গরিব ও নির্বাচিত শিশুদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ চিকিৎসা দেওয়া হবে।