কাউকে চিকিৎসা নিতে বিদেশ যেতে হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: কোনো জনগনকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে যেতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, ‘দেশে পর্যায়ক্রমে বিদেশ নির্ভরতা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। দেড় বছর ফ্লাইট, ভিসা সবাই বন্ধ ছিল। বিদেশে কেউ চিকিৎসার জন্য যেতে পারেনি। দেশেই চিকিৎসা গ্রহণ করে তারা সকলে সুস্থ আছেন।’
মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বন্ধবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আই ব্যাংক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশে ৩৮ টি মেডিকেল কলেজসহ অনেকগুলো ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়েছে। দেশে উপজেলা লেভেল পর্যন্ত চোখের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ডায়াবেটিসসহ সব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আমাদের চোখের যত্ন নিতে হবে। দেশের অরায় ১৪ লাখ মানুষ অন্ধ। তার মধ্যে ৫ লাখই কর্নিয়া জনিত সমস্যায় অন্ধ।’
বিএসএমএমইউর আই ব্যাংক উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্নিয়া ট্রান্সপ্লান্টের আরও একধাপ এগিয়ে গেল ও এটি মহৎ উদ্যোগ বলেও মন্তব্য করেন জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন অনেক কিছু চালু হচ্ছে এজন্য ভিসি মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাই। বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্টানে যেনো সব চিকিৎসা থাকে সেদিকে কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে বলবো। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করবো।’
সভাপতির বক্তব্যে বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মরণোত্তর চক্ষুদানে সকলে এগিয়ে আসলে অন্ধত্বমোচন সম্ভব। বিএসএমএমইউতে আই ব্যাংক চালু হওয়ায় অন্ধত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মৃত ব্যক্তির চোখের কর্ণিয়া ৬ ঘণ্টার মধ্যেই সংগ্রহ করতে হবে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বিনামূল্যে গরীব রোগীদের চোখের ছানি অপারেশন, কৃষকদের বিনামূল্যে চশমা প্রদান, ভিটামিন এ কর্মসূচি মানুষের দৃষ্টিশক্তি সঠিক রাখতে বড় অবদান রাখছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘বিএসএমএমইউর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে এই প্রথম প্রতিষ্ঠিত হলো আই ব্যাংক। আই ব্যাংক হলো মরণোত্তর চক্ষুদান করার মাধ্যমে চোখের কর্নিয়া সংরক্ষণ করা এবং যে সকল রোগী কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে তাদের মধ্যে তা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশে সরাসরি মরণোত্তর চক্ষুদান করার ব্যবস্থা খুবই সীমিত পরিসরে থাকলেও বিএসএমএমইউর আই ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে স্বল্পতম খরচে অন্ধ রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক পালন করবে, যা বেসরকারি খাতে অনেক ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এই আই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকে কর্নিয়া সংগ্রহ করার মাধ্যমে তা বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে এবং কর্নিয়া জনিত অন্ধত্ব দূরীকরণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’