১৪ মে, ২০২১ ০৯:৩৩ এএম

রোগীদের সুস্থ করেই ঈদের আনন্দ পান চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা

রোগীদের সুস্থ করেই  ঈদের আনন্দ পান চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা
ফাইল ছবি

মুন্নাফ রশিদ: দেশে করোনাভাইরাস মহামারীর পর থেকে স্বজনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারছেন না চিকিৎসকরা।  গত বছরের মার্চে দেশে হানা দেয়া এই করোনার স্থায়িত্ব যে এত দূর গড়াবে তা সবার কাছেই ছিল কল্পনাতীত।

স্থায়িত্বের পাশাপাশি বেড়েছে এ মহামারীর তীব্রতাও। এখন সুস্থ থাকাই যেন চরম সৌভাগ্যের। আর এমন পরিস্থিতিতে সব সাধ-আহ্লাদ ত্যাগ করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। রোগীর সুস্থতার মাঝেই যেন ঈদের চরম আনন্দ তাদের।

ঈদে হাসপাতালের ডিউটির বিষয়ে মেডিভয়েসের সাথে কথা হয় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এফসিপিএস কোর্সের একজন মেডিভয়েসকে বলেন, মাঝে মাঝে একটু খারাপ লাগে ঈদের দিন সকালে দৌঁড় দিয়ে হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। এই মানুষগুলোও তো আসলে অসহায়। এরাও তো একটা এক্সপেক্টেশন রাখে যে ঈদের দিন কি আমাদের কোনো ডাক্তার দেখতে আসবে না। ঈদের দিন আসার পর দেখে যখন বলে যে, ডাক্তার সাহেব আপনি আজকেও আসছেন? ঈদের দিনটাও আপনি আজকে আমাদের সাথে? তাদের হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে আমরা অনকে কিছুই ভুলে যায়। ঈদের কষ্টটাও অনেক সময় মনে থাকে না বা ধামাচাপা পড়ে যায়। এই রোগীগুলোর কষ্টের চেয়ে আমাদের কষ্ট বেশি বড় না।

এখানকার আরেকজন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, যখন দেখি যে একটা রোগী আমাদের সামনে দিয়ে সুস্থ্ হয়ে হাসিমুখে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে সেটাই আমাদের কাছে পরম পাওয়া।  তখন ঈদ একা একা করার কষ্টটা কিছুটা হলেও লাঘব হয়ে যায়।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সদ্য চিকিৎসক হয়েছেন এমন একজন মেডিভয়েসকে বলেন, শুরুতে একটু খারাপ লাগে যে ঈদে বাড়িতে যেতে পারছি না। আব্বু-আম্মুও ফোনে বলে যেকোনওভাবে ম্যানেজ করো। কিন্তু যখন রোগীদের দেখি তখন মনে হয় যে, উনারা তো আছেন। দিনশেষে ভালোই লাগে। খুব বেশি যে খারাপ লাগে তা না। শুরুতে একটু খারাপ লাগে কিন্তু ওটা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি। যখন অসুস্থ রোগীদের দেখি তখন ভাবি যে তারাও তো তাদের স্বজনদের ছেড়ে এসেছে। এমন অবস্থায় আসলে ঈদে নিজেদের পরিবারের চেয়ে এই পরিবারকে অনেক বড় মনে হয়।

তিনি বলেন, আমি যখন মেডিকেলে আসি তখন আমার মনে হয় যে না এটাই আমার জায়গা। আমি এটা অনুভব করি যে আমি এতদিন পড়ালেখা করেছি রোগীদের জন্য। এখন আমার দ্বারা যদি উনি সুস্থ হন তাহলে সেটা আমার কাছে অনেক প্রেস্টিজিয়াস এবং খুবই ভালো লাগে।

উৎসব যেমনই হোক মহামারীর বিরুদ্ধে জয় নিয়েই পরিবারের কাছে ফিরতে চান এসব করোনাযোদ্ধা। তাইতো প্রস্তুত থাকেন যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায়।

এফসিপিএস কোর্সের আরো একজন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, করোনার মতো মহামারি আগেও আসছে। ডাক্তাররা তখনও ঝাপিয়ে পড়েছে এখনও ঝাপিয়ে পড়েছে। এটা জেনেই আমরা এই পেশাই এসেছি। এমন যে আমরা পিছিয়ে যাবো। আমরা এখনও কাজ করছি সামনেও কাজ করবো। 

নিরবচ্ছিন্ন সেবার পাশাপাশি জীবন দিয়ে করোনা যুদ্ধে অবদান রেখেছেন এসব চিকিৎসা সৈনিক। দেশে করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২০০ চিকিৎসক না ফেরার দেশে পাড়ি জামিয়েছেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি