০৫ মে, ২০২১ ০৫:২৮ পিএম

সহসাই হচ্ছে না রেসিডেন্টদের বর্ধিত ভাতা, চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ

সহসাই হচ্ছে না রেসিডেন্টদের বর্ধিত ভাতা, চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ
ছবি: সাহিদ

মো. মনির উদ্দিন: আগামী জুনের বাজেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও এর অধিভুক্ত ইনস্টিটিতে অধ্যয়নরত রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের বর্ধিত ভাতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সিন্ডিকেটে পাস হওয়ার আট মাসেও ভাতা চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে ভাতা চালুতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। 

বর্ধিত ভাতা কবে থেকে চালু হতে পারে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আমি চেষ্টা করছি, দেখা যাক কিভাবে দেওয়া যায়। এ ব্যাপারে আমার তরফ থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।’

ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সিন্ডিকেটে পাস হয়েছিল। সুতরাং এখনো তা কার্যকর না হওয়ার পেছনে কি কারণ থাকতে পারে? জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘পাস হলেই  তো হবে না। বাজেট লাগবে। সেজন্য এখনো এটা হয়নি। ভাতার বিষয়টি আগামী বাজেটে ঢুকোনোর চেষ্টা চলছে।’

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউর পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. আবদুস সোবহান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘রেসিডেন্সি ভাতা ছিল ১০ হাজার টাকা। সরকারি নিয়মেরই বাইরে গিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় এটা দিতো। আমি আসার পরে এই টাকা স্বাস্থ্যের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ২০ হাজার টাকা করা করানো হয়। অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম খান স্যারের সময় এটা হয়েছিল। তখন শারফুদ্দিন স্যার ছিলেন প্রোভিসি (অ্যাডমিন)।’

ভাতা দ্বিগুণে নিজের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি জয়েন করার পর আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। এক থেকে দেড় মাসের মাথায় বিষয়টি আমি সম্পন্ন করেছিলাম।’

মন্ত্রণালয়ে ঝুলছে রেসিডেন্টদের ভাতা 

বেসরকারি রেসিডেন্ট এবং ডিপ্লোমা-এমফিল (নন-রেসিডেন্সি) কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের বর্ধিত ভাতা কবে থেকে চালু হবে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের জন্য যে সকল অফিসিয়াল কার্যক্রম করা দরকার আমরা সেগুলো করেছি। এ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে পাঠিয়েছি।’

তিনি বলেন, বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর করছে। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি আসলেই এটি বাস্তবায়নে আর দেরি হবে। এখন শুধু মন্ত্রণালয় থেকে চিঠির অপেক্ষায়। তবে কবে নাগাদ বর্ধিত ভাতা চালু হতে পারে সে বিষয়েও কোনও সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান।

রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ক্ষোভ

এদিকে ভাতা চালু না হওয়ায় রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এ দীর্ঘসূত্রতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন বেসরকারি রেসেডেন্ট মেডিভয়েসকে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কিছু হবে বলে মনে হচ্ছে না। এজন্য রেসিডেন্টদের হয়তো জোরালো দাবি উঠাতে হবে। ব্যাপার হলো, একজন চিকিৎসক কোনো কোর্সে ঢুকে গেলে অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কায় তিনি কোনো কথা বলেন না। সামগ্রিক কারণেই সহসা বর্ধিত ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোটায় রয়েছে, যদি না বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু হয়।

বর্ধিত ভাতা চালুতে দেরি হওয়ার পেছনে বিভিন্ন অভিযোগ করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বহীনতার একটি বিষয় আছে। এতে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। বিএসএমএমইউর প্রশাসনে যারা আছেন, তারা সবাই ক্লিনিশিয়ানও। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পরই তাঁরা চেম্বারে ঢুকে পড়ছেন। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে তৎপরতায় বড় ধরনের শূন্যতা বিরাজমান। এতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে লিয়াজোঁটা ভালো হচ্ছে না।

রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা বলেন, সিন্ডিকেটে এটি পাস হয়েছে, যেখানে একাধিক সংসদ সদস্যও রয়েছেন। তাঁরা আইন প্রণেতা। তারা এর বিপক্ষে কোনো কথা বলেননি। তারা তো এখানে আপত্তি করতে পারতেন। কিন্তু তা না হওয়ায় এটা নির্বিঘ্নে পাস হলো। অথচ পরবর্তীতে আর এগুচ্ছে না। তার মানে, এখানে বড় রকমের একটি উদাসীনতা থাকতে পারে।

একজন রেসিডেন্ট বলেন, বিষয়টি সিন্ডিকেটে উঠার আগে স্যাররা বলেছিলেন, পাস হওয়ার পরের মাস থেকেই বর্ধিত ভাতা দেওয়া সম্ভব হবে। বিএসএমএমইউ চাইলে সরকার এখানে বাঁধ সাধবে—এটা অভাবনীয়। 

কোর্সে ভর্তিতে লাগে অর্ধ লক্ষ টাকা

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই কোর্সে ভর্তি হতে একজন চিকিৎসককে গুণতে হয় ৪৫-৫০ হাজার টাকা। ফেজ-‘বি’তে ভর্তি টাকা লাগছে ৫৪ হাজার টাকা। এতো টাকা দিয়ে কোর্সে ভর্তি হওয়া একজন নবীন চিকিৎসকের জন্য কতটা কষ্টসাধ্য তা  ভাষায় বোঝানো যাবে না।’

প্রসঙ্গত, বিএসএমএমইউ ও এর অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর মেয়াদি রেসিডেন্সি কোর্সে অধ্যয়নরত বেসরকারি চিকিৎসকরা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে পারিতোষিক পেতেন। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে তাঁদের ভাতা ২০ হাজার টাকা করা হয়। 

সময় ও চাহিদার আলোকে এ ভাতা ৩০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন করে বিএসএমএমইউর সিন্ডিকেট মেম্বারগণ। 

গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর গৃহিত এমন সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে অধ্যয়নতরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার বিষয়ে তরুণ চিকিৎসকরা উৎসাহিত হবেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ভাতা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি