তাওফীক আলম

তাওফীক আলম

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চকরিয়া সার্কেল, কক্সবাজার জেলা।


২২ এপ্রিল, ২০২১ ১২:১৭ পিএম

‘চিকিৎসকদের যাতায়াতের পথ সহজ করে দিতে হবে’

‘চিকিৎসকদের যাতায়াতের পথ সহজ করে দিতে হবে’
ছবি: সংগৃহীত

এপ্রোন পরা ও গাড়িতে চিকিৎসক লেখা থাকলে অত সিরিয়াস হয়ে আইডি কার্ড চেক করার কী দরকার। লকডাউনে ভুয়া চিকিৎসক সেজে রাস্তায় বের হয়ে ডাক্তার পরিচয় দেওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি। আর কেউ যদি সেই কাজ করেও তাহলে ধরে নিতে হবে বের হওয়াটা তার নিশ্চয়ই খুব দরকার। এমন দুই চারজন সুযোগ যদি নেয়ও তাতে লকডাউন অশুদ্ধ হয়ে যাবে না।

গত ১৭ এপ্রিলের ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট আর পুলিশের কাছে আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়। আইডি কার্ড না নিয়ে বের হলে কি কেউ আসামি বা অপরাধী হয়ে যায়? আমার থিওরি সিম্পল, বেনিফিট অব ডাউট চিকিৎসকের পক্ষে যাবে। কারণ করোনার সাথে চিকিৎসকের হাসপাতালে যাওয়ার সম্পর্ক আছে। সুতরাং তাঁর যাওয়ার পথটি যতটা সম্ভব সহজ করে দিতে হবে।

পুলিশে চাকরি করি তাই কিছু পুলিশের আচরণ তো দেখি। কিছু পুলিশের আচরণে আমি প্রতিদিনই হতাশ হই। আজকের ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি আমি ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসক ম্যাডামের আচরণেও হতাশ হয়েছি। ভিডিও ধারণের আগে তাঁর সাথে যেমন ব্যবহারই করা হোক না কেন।

এখানে চিকিৎসক ম্যাডামকে অন্যান্য আট/দশজন সাধারণ চিকিৎসকের পজিশনে রেখে বিবেচনা করলে সাইকোলজিক্যাল ব্যাপারটি টাচ করতে আমরা ব্যর্থ হবো। ম্যাডাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি পজিশন হোল্ড করেন তা স্পষ্ট, কয়জন চিকিৎসক অন স্পট এমন ভিআইপি স্যারদের ফোনে ধরিয়ে দিতে পারবেন? ম্যাডাম যদি তাঁর মেডিকেলের ভিসি স্যারকে বা কোনো অধ্যাপককে ফোনে ধরিয়ে দিতেন। তাহলে সেটা আরও যৌক্তিক হত এবং সাধারণ মানুষও তাঁর এত সমালোচনা করতো না। তখন বলা যেত ম্যাডাম সাধারণ চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বা যুক্তি তুলে ধরেছেন। অবশ্য এমনও হতে পারে ভিডিও ধারণের আগে তিনি সেই যুক্তিগুলো দিয়েছিলেন। ম্যাডাম ফোন ধরিয়ে দিয়েছেন এটাও তেমন ব্যাপার না। এই দেশে তো ফোন ধরিয়ে না দিলে কাজ হয় না, তাই দিয়েছেন।

‘ম্যাডামের যে বিষয়টির আমি সমালোচনা করবো। তা হলো ম্যাডাম প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান তা সত্য। মেডিকেলে চান্স না পেয়েই পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট হয় তাও সত্য। কিন্তু এই সত্যগুলো যখন কেউ মুখ দিয়ে বের করেন, তখন তার নাম হয়ে যায় অহংকার।’ মানুষ মনে করে, তিনি অধিক যোগ্য বলে অন্যদের পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না। ‘আমাদের মতো গরীব দেশের অধিকাংশ মানুষেরই পারিবারিক প্রভাব বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকে না।’ তাই এমন পরিচয় কেউ দিলে মানুষ তা অহংকার দেখানো মনে করে। তাছাড়া যেহেতু মেডিকেল ভর্তিতেই সবচেয়ে বেশি কম্পিটিশন। প্রথম সারির মেধাবীরা মেডিকেলের সিট দখল করে ফেলে তাই ৯৫% ছাত্র মেডিকেলে চান্স না পেয়েই অন্য কিছু হয়। কিন্তু এই সত্যটাও মুখ দিয়ে প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষ তা অহংকার মনে করে। ৯৫% ছাত্র বা মানুষ এই কথাগুলো ভালোভাবে নেয় না।

কোন পরিবারের এক সন্তান চিকিৎসক, এক সন্তান পুলিশ এবং এক সন্তান ম্যাজিস্ট্রেট যদি থাকে। তাহলে সেই পরিবারের মাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতাম। মা গত ১৭ এপ্রিলের ঘটনায় আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন। সেই মা যখন চোখের পানিতে অনুভূতি প্রকাশ করতো। ‘তখন তিন সন্তানই মায়ের পায়ে ঝাপিয়ে পড়ে কথা দিতো, মাগো আমরা কখনও রাস্তায় এমন ঝগড়া  করব না, প্লিজ তুমি কেঁদো না মা।’

‘দেশটাকে মা আর জনগণ একে অপরকে ভাই মনে করলে আমি আর আপনিও রাস্তায় এমন ঝগড়া করব না নিশ্চই।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত