এক কলেজ থেকে ৪৩ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ
মাহফুজ উল্লাহ হিমু: ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে এ বছরও কৃতিত্ব দেখিয়েছে নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৪৩ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪০ জন শিক্ষার্থী বর্তমান শিক্ষাবর্ষের এবং বাকিরা গত বছরের।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক আজ শুক্রবার (৯ এপ্রিল) মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ বছর আমাদের নিয়মিত ব্যাচের মোট ৪০ জন এবং গত ব্যাচের আরও তিনজন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন মেডিকেলে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমার কাছে এ বছরের ৪০ জনের তালিকা রয়েছে এবং বাকিদের ব্যাপরেও নিশ্চিত হয়েছি।’
নিজের অনুভুতি প্রকাশ করেতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি চমৎকার অনুভুতি। এ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। আমি ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেছি। আমার লক্ষ্য ছিল আমি যে অবস্থায় পেয়েছি তার থেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থেকে সমর্থন পেয়েছি। গত বছরের তুলনায় এবারের ব্যাচকে শিক্ষকরা দুর্বল হিসেবে চিহ্নিতি করলেও আলহামদুল্লিহ আমরা আরও ভালো একটি ফল পেয়েছি। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা
১. মারুফ উল ইসলাম - ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ
২. শিফা- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
৩. হিমেল শেখ- ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ
৪. সুমাইয়া সাদিয়া সুপ্তি- শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ
৫. কাব্য রায়- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
৬. রুহুল আমিন- রংপুর মেডিকেল কলেজ
৭. রিয়াত রিয়া - সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ
৮. হুমায়রা জাহান হ্যাপি -রংপুর মেডিকেল কলেজ
৯. তাসনিম চৈতি- সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ
১০. যুহানাহ সাবাহ জুলি- সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ
১১. মিফতাহুল জান্নাত প্রমি- কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
১২. হিমেল রায়- সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ
১৩. ফাহিম শাহরিয়ার- নিলফামারী মেডিকেল কলেজ
১৪. লতিফুর রহমান- রংপুর মেডিকেল কলেজ
১৫. হিয়া - ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ
১৬. মো. ফারহান মুহিব সরকার- সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ
১৭. মো. জুনায়েদ আল হাবিব- জামালপুর মেডিকেল কলেজ
১৮. আরিফ- সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ
১৯. সিয়াম - এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর
২০. সোহানি তানজিলা- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ
২১. মো. শাহরিয়া তানভীর জয়- মুগদা মেডিকেল কলেজ
২২. মাশরুফা মোত্তাক্বিয়া- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
২৩. রাফা- কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
২৪. বকুল- সিলেট মেডিকেল কলেজ
২৫. সোহাগ- ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ
২৬. অর্পিতা- ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ
২৭. শাওন- নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ
২৮. নোশিন সানজিদা- শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ
২৯. মুশফিকা- সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ
৩০. অতুল- বগুড়া মেডিকেল কলেজ
৩১. অনিন্দ্য- যশোর মেডিকেল কলেজ
৩২. নোমান- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
৩৩. মাহবুবা- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
৩৪. রাব্বি হোসেইন- কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
৩৫. রিফাত আহমেদ- রংপুর মেডিকেল কলেজ
৩৬. মোবাশ্বেরা সীমা- নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ
৩৭. রনি- রংপুর মেডিকেল কলেজ
৩৮. ফারিয়া আহমেদ- খুলনা মেডিকেল কলেজ।
৩৯. সাবরিনা মুন্তাজ মিতু- ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ
এছাড়াও আরও চারজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেডিকেলে নির্বাচিত হয়েছেন।
সাফল্যের নেপথ্যে
অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ বলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবেই এটি একটি ভালো প্রতিষ্ঠান। গত বছর ৩৬ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন মেডিকেলে চান্স পেয়েছিল। এ বছরেও শিক্ষার্থীদের খুব একটা নার্সিং করতে হয়নি। আমাদের শিক্ষকরা অনেক অভিজ্ঞ। তাঁরা তাদের নিয়মিত দেখাশোনা ও গাইডলাইন প্রদান করেছেন।’
‘আমাদের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, আমরা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে একটি স্বচ্ছ পক্রিয়ায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। একটি সুস্থ শিক্ষার পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করে থাকি’, যোগ করেন তিনি।
করোনায় প্রস্তুতি
করোনায় শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরিচর্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারী যখন শুরু হয়েছে তখন ইতিমধ্যেই তাদের ফরম ফিলাপ হয়ে গিয়েছিল। ফলে তাঁদের অনলাইন ক্লাস বা এ ধরনের কোনো কিছুর প্রয়োজন হয়নি। আমরা তাঁদের নিয়মিত ক্লাস নিয়েছি। তবে করোনার দীর্ঘ গ্যাপের মধ্যে আমরা তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখেতে মোটিভেশন ও গাইড করেছি। কারো কোনো সমস্যা থাকলে তাঁর সমাধানের চেষ্টা করেছি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় প্রকাশ করে সৈয়দপুর কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ‘এবার যারা পরীক্ষার্থী তাদের ছয় থেকে সাত মাস ক্লাস করানোর সুযোগ পেয়েছি। এখন তাঁদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। ধারাবাহিক সাফল্য ও শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। আমরা একটি কাজ প্রতিবছর করে থাকি, আগের বছর যারা চান্স পেয়েছে তাদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের যোগসূত্র করে দেই। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস জোগায় এবং তাঁদের আরও আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলে।’
প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ ২০২০-২১ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৪ হাজার ৩৫০ জন পরীক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। মোট পাস করেছে ৪৮ হাজার ৯৭৫ জন। পাশের হার ৩৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
এ বছর মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মিশরী মুনমুন। তার রোল নম্বর ২৫০০২৩৮। তিনি পাবনা মেডিকেল কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ২৮৭.২৫ পেয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৭ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।
নির্বাচিত ৪ হাজার ৩৫০ জন পরীক্ষার্থার মধ্যে ছাত্রী ২ হাজার ৩৪১ জন (৫৪ ভাগ) এবং ছাত্র ২ হাজার ৯ জন (৪৬ ভাগ)। তাঁদের মধ্যে চলমান শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩ হাজর ৯৩৭ জন এবং পূর্ব শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্বাচিত ৪১৩ জন।
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
১৬ জুন, ২০২৫
-
১৭ মে, ২০২৫
-
২৪ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
জাতীয় মেধায় দ্বিতীয়
ক্যান্সারে বাবার মৃত্যু ও মায়ের ইচ্ছাতে মেডিকেলে সানজিদ সিরাজ
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
কাগজপত্র যাচাই ২৯ জানুয়ারি
কোটায় সুযোগ পাওয়া ১৯৩ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চয়তায়