০৭ এপ্রিল, ২০২১ ০৯:০৭ পিএম
অবিস্মরণীয় সাফল্য

এক কলেজের ১৪ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে চান্স, উপজেলায় ২৩

এক কলেজের ১৪ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে চান্স, উপজেলায় ২৩
মেডিকেলে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

মো. মনির উদ্দিন: এবারের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে থেকেই চান্স পেয়েছেন ১৪ জন। বাকিরা বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক একরামুল হক আজ বুধবার (৭ এপ্রিল) রাতে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এমন ফলাফলের মাধ্যমে ছেলে-মেয়েরা আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। যেখানে জেলা পর্যায়েও এত ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পায়নি, সেখানে আমাদের উপজেলার একটি কলেজ এতো চমৎকার ফলাফল করেছে। এজন্য আমরা গর্বিত এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করছি।’

জানতে চাইলে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ ফলাফলের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে আমাদের কলেজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে যারা এখানে পড়তে আসবে বা পড়ার ইচ্ছা পোষণ করবে—তাদের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ের একটি কলেজের শিক্ষার্থীদের এ ফলাফল একটি বিশাল অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। গৌরবোজ্জ্বল ফলাফলের মাধ্যমে নিজেরা ধন্য হওয়ার পাশাপাশি পীরগঞ্জবাসীকেও গৌরবান্বিত করেছে শিক্ষার্থীরা।

তাদের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষার্থী বলেন, তারা বড় বড় প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে এই অবহেলিত জনপদের মানুষের মুখ উজ্জ্বল করবে। তাদের মাধ্যমে এ এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে।

চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো।  

     নাম               কলেজ                              যে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ
১. ইমন             পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ        ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল   
২. রিশাদ            রংপুর ক্যাডেট কলেজ          ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৩. তনি              পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ       স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৪. তামান্না          পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ       স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৫. দিশা              পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ        স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৬. জ্যোতি          পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ       সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৭. বাঁধন              পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ       চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৮. আঁখি             পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ       ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৯. শাহরিয়ার       সৈয়দপুর সরকরি বিজ্ঞান কলেজ,   মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১০. সানজিদা     পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ              রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১১. মনিরুজ্জামান, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ,         রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১২. লতিফুর     সৈয়দপুর সরকরি বিজ্ঞান কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১৩. রুহানি        পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ                 রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১৪. নিগার         পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ                  খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১৫. সিয়াম        সৈয়দপুর সরকরি বিজ্ঞান কলেজ,    দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১৬. শাব্বির       পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ                 দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১৭. প্লাবন          পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ               পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১৮. মৌমিতা     রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাগুরা মেডিকেল কলেজ 
১৯. বিকাশ        রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক              কুমিল্লা মেডিকলেজ হাসপাতাল 
২০. সাখাওয়াত হোসাইন, হলি ল্যান্ড কলেজ                রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
২১. ইভা          পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ               মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
২২. হাবিবা                                                 কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
২৩. জোনাকী                                               কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

চমৎকার ফলের রহস্য

ভালো ফলাফলের রহস্য জানতে চাইলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক ডেপুটি কন্ট্রোলার অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটায় কলেজ গেটে দাঁড়াতাম। কখনো কখনো ক্লাস ফাঁকি দেওয়া শিক্ষার্থীদের নদীর ধার থেকে ধরে নিয়ে এসেছি। কোনো শিক্ষার্থী অনিয়ম করলে তার অভিভাবককে ডেকেছি। অকৃতকার্য হলে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না—মর্মে তাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছি। এজন্য অভিভাবকরা অনেক সময় কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু এখন তারা নিশ্চয় বুঝতে পারবেন, আমরা কেন তাদেরকে চাপে রেখেছিলাম।’

‘ভালো ফলাফলের অন্যতম রহস্য হলো, এখানকার শিক্ষকরা নিরবচ্ছিন্ন ও নিরলসভাবে পরিশ্রম করে পাঠদান করেছেন। তাঁদের শ্রম স্বার্থক হয়েছে’, যোগ করেন অধ্যক্ষ কামরুল হাসান। 

এ ধারা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো, আগামী এ কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসিতে শতভাগ পাস করবে। অকৃতকার্যের সংখ্যা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে।’

এ প্রসঙ্গে কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক একরামুল হক বলেন, ‘এখানে ছেলেদের ক্লাস করা বাধ্যতামূলক। যাদের ক্লাসের উপস্থিতি সন্তোষজনক না, তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতো না। টেস্ট পরীক্ষায় বাজে ফল করেছে—এমন অনেক ছেলের ফরম পূরণ এ বছর থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য অটোপাসের কারণে তারাও উত্তীর্ণ হয়ে যায়।’

প্রসঙ্গত, গত রোববার (৪ মার্চ) ২০২০-২১ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৪ হাজার ৩৫০ জন পরীক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। মোট পাস করেছে ৪৮ হাজার ৯৭৫ জন। পাশের হার ৩৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। 

এ বছর মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মিশরী মুনমুন। তার রোল নম্বর ২৫০০২৩৮। তিনি পাবনা মেডিকেল কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ২৮৭.২৫ পেয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৭ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

নির্বাচিত ৪ হাজার ৩৫০ জন পরীক্ষার্থার মধ্যে ছাত্রী ২ হাজার ৩৪১ জন (৫৪ ভাগ) এবং ছাত্র ২ হাজার ৯ জন (৪৬ ভাগ)। তাঁদের মধ্যে চলমান শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩ হাজর ৯৩৭ জন এবং পূর্ব শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্বাচিত ৪১৩ জন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি