হাঁটুর জয়েন্টে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে: ডা. মামুন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ময়মনসিংহের ভালুকা বন থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার ৩৯তম বিসিএসের ডা. আল মামুনকে হাতুড়ি দিয়ে হাঁটুর জয়েন্টে আঘাত করেছে ছিনতাইকারীরা। তাঁর চোখ, মুখ ও গলায় বেশি আঘাত করা হয়। পাশবিক নির্যাতনে চোখে মারাত্মক জখম হয়েছে।
গুরুতর আহত ডা. আল মামুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। মেডিভয়েস পাঠকদের জন্য তাঁর পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো।
‘টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হতে ঢাকা আসার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ি। ছিনতাই কারীরা প্রচণ্ড মারধর করেছে। মুখে, চোখে, গলায় বেশি আঘাত করে। বাম পায়ে হাতুড়ি দিয়ে হাঁটু জয়েন্টে আঘাত করেছে। ময়মনসিংহের ভালুকার হাজি বাজারের কাছে দু-হাত বেঁধে রাস্তার পাড়ে ঝোপের মাঝে ফেলে রেখে গিয়েছিল। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওখানে সহকর্মীরা বেশ সহযোগিতা করেছেন। তারা একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। আমি রাত দুইটায় ঢাকার বাসায় পৌঁছি। এখন বাসায় আছি।’
বর্তমানে কিছুটা ভালো আছেন জানিয়ে ডা. আল মামুন বলেন, ‘আমি এখন আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আপনাদের দোয়ায় হয় তো জীবনটা ফিরে পেয়েছি। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। দয়া করে আমাকে আপনার প্রার্থনায় রাখুন।’
বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা যাওয়ার জন্য ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন ডা. মামুন। এ সময় ঢাকা পৌঁছানের কথা বলে তাঁকে প্রাইভেটকারে তুলে নেয় ছিনতাইকারীরা। পরে তাঁকে হাত-পা বেঁধে ময়মনসিংহের ভালুকা বনের ভেতর ফেলে রেখে যায় তারা।
রাতে সেখান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে তাঁকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সহকর্মীদের সহযোগিতায় ওই দিন রাত দুইটায় ঢাকার বাসায় পৌঁছান তিনি।
ডা. মামুন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। একই সঙ্গে রেসিডেন্সি কোর্সে অধ্যয়নরত তিনি।
মানিকগঞ্জের সন্তান ডা. মামুন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (এফএমসি) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।