অভ্রের জনক ডা. মেহেদী হাসানকে একুশে পদকে ভূষিত করা হোক
মেডিকেল কলেজে পড়েছিল অদম্য মেধাবী মেহেদী হাসান খান। কিন্তু শিক্ষকরা বলেছিলেন, এই ছেলে চিকিৎসক হওয়ার অযোগ্য। মেডিকেল কলেজ ছেড়ে দেওয়া উচিত মেহেদীর। কারণ চিকিৎসাবিদ্যার পড়াশোনা বাদ দিয়ে, দিন-রাত এক করে, খাওয়া-ঘুম ভুলে হোস্টেলের ঘরেই একটা ছোট্ট কম্পিউটার সম্বল করে মেহেদী তখন লড়ছিলেন অন্য লড়াই। বাংলা ভাষার জন্য লড়াই। হাল ছাড়েননি মেহেদী।
২৬ মার্চ ২০০৩ সাল মেহেদী বিশ্বের সামনে নিয়ে এলো ‘অভ্র’ সফটওয়ার, যা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের সব চেয়ে পছন্দের বাংলা লিখার সফটওয়ার। আজ বাঙালির কম্পিউটার, ল্যাপটপ খুললেই স্ক্রিনে একটি স্লোগান ভেসে ওঠে, ‘ভাষা হোক উন্মুক্ত’। এটিই মেহেদীর স্লোগান।
আজ তুমি চিকিৎসক মেহেদী হাসান খান। হাজার তাচ্ছিল্য সত্ত্বেও ‘অভ্র’ আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে কৃতিত্বের সঙ্গে চিকিৎসা বিদ্যাও পাস করেছো।
যার জন্য এত কিছু, সেই মানুষটাকে আমরা চিনিই না। প্রচারবিমুখ ৩২ বছরের এই বিনয়ী তরুণ বাংলা ভাষার জন্য এত বড় অবদান রেখে গেলেও, রয়ে গেলো প্রচারের আলোর বাইরেই। তাঁর অসামান্য কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ অদ্যাবধি মেলেনি কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান।
জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিনীত নিবেদন এই যে চিকিৎসক মেহেদী হাসানকে একুশে পদকে সম্মানিত করা হোক।
এরই সাথে বিএমএ, বিপিএমপিএ, প্ল্যাটফর্ম, বিডিএফ, এফডিএসআরসহ সমস্ত চিকিৎসকদের সংগঠন আছে, তাদের পক্ষ থেকে কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসক মেহেদী হাসান খানকে সম্মানিত করা যায় কিনা তা ভেবে দেখার অনুরোধ করা গেলো।
মেহেদীকে যথোপযুক্ত সম্মান দেওয়া আমাদের চিকিৎসক সমাজের দায়িত্ব। তা না হলে জাতির সূর্য সন্তান শহীদ ভাষা বীরদের আত্মা কষ্ট পাবে।
-
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
-
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১