০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১২:৩৬ পিএম

‘চিকিৎসায় ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব নয়, প্রয়োজন সচেতনতা’

‘চিকিৎসায় ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব নয়, প্রয়োজন সচেতনতা’
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শুধুমাত্র চিকিৎসার মাধ্যমে মরণব্যাধি ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিরোধ, অবস্থান নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রশমন সেবা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে প্রয়োজন জনগনের সচেতনতা।

বুধবার  (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সিরাক-বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি অনকোলোজি সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব ক্যানসার দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হন। আক্রান্ত হওয়ার হার দিন দিন আরও বাড়ছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে নয় লাখ মানুষ ক্যানসারে মৃত্যুবরণ করেন। এই মৃত্যুর মিছিল থামাতে প্রয়োজন সচেতনাতা। চিকিৎসরা মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না। প্রাথমিক প্রতিরোধের জন্য জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন ও টিকাদানে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি প্রয়োজন। এ নিয়ে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবি সংগঠনগুলি একযোগে কাজ করা জরুরি।

তাঁরা আরও বলেন, লক্ষণ দেখা দিলেই সবাইকে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবে। এর জন্য ক্যানসারের সতর্ক সংকেতগুলো জনসাধারনকে জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ঝুকিপূর্ণ আপাত সুস্থ ব্যক্তিকে ক্যানসারের কিছু সহজ পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা ও এর মাধ্যমে গোপন থাকা ক্যান্সার রোগীদের খুঁজে বের করার মতো কর্মসূচি ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, দেশে ক্যানসার চিকিৎসা সুবিধায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। ক্যানসার ইন্সটিটিউট স্থাপিত হয়েছে। ৫০ শয্যা থেকে ৩০০ বেডে উন্নীত হয়েছে। ৫০০ বেডে সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু রেডিওথেরাপি বিভাগ দিয়ে শুরু হলেও আধুনিক বিশ্বের মত সার্জারি, কেমোথেরাপি, গাইনি, শিশু ক্যান্সার বিভাগসহ অনেক বিভাগ সংযোজিত হয়েছে। প্রতিরোধ ও গবেষণার জন্য ক্যান্সার ইপিডেমিওলোজি বা রোগতত্ব বিভাগ হয়েছে। ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য আলাদা বিভাগ হয়েছে বলেও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

এছাড়া বেসরকারি বেশ কিছু হাসপাতাল উন্নতমানের ক্যান্সার চিকিৎসা সুবিধা চালু করেছে। তবে বেসরকারি হাসপাতাল সেবার উচ্চমূল্যের জন্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। একমাত্র সরকারি সমন্বিত বিশেষায়িত ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে দীর্ঘ অপেক্ষমান তালিকা দূর-দূরান্তের মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আরেকটা অন্তরায়। তাই চিকিৎসা সুবিধা মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য বিকেন্দ্রীকরণ করা উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।

আলোচনায় অংশ নেন ক্যানসার অ্যান্ড এনসিডি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের কো-চেয়ারম্যান ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, সিরাক- বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী, সিরাক বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার রোকনুল রাব্বি প্রমুখ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক