৩০ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৩:৪০ পিএম

জামালপুরের ওসির বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ 

জামালপুরের ওসির বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ 
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. লুৎফর রহমানসহ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্টাফদের উপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারী মামলার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৫ ডিসেম্বর জামালপুর সদর হাসপাতালে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত এক আশঙ্কাজনক রোগীকে সেবা প্রদানকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আসা জামালপুর সদর উপজেলার ইউএইচএফপিও ডা. লুৎফর রহমানসহ হাসপাতালের কর্তব্যরত অন্যান্য চিকিৎসক ও স্টাফরা হামলার শিকার হন। একইসঙ্গে জামালপুর সদর থানার ওসি ও কিছু পুলিশ সদস্য দ্বারা নির্মমভাবে হামলার শিকার হন। যার কিছু অংশ সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে।

পুলিশ সদস্যরা তাদের কর্তব্যে অবহেলা করেছে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, ‘ওই সময়ে উপস্থিত কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব ছিল সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ ও কর্তব্যরত সেবাদানকারীদের নিরাপত্তা প্রদান করা। কিন্তু উপস্থিত ওসি ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ তা না করে উত্তেজিত জনতার সাথে একত্রিত হয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের শারীরিক আঘাত করেন এবং ইউএইচএফপিওকে মারধর করতে করতে থানায় নিয়ে যান। পুলিশ হেফাজতেও উপর্যুপরি নির্যাতন অব্যাহত থাকে, যা নির্যাতিত কর্মকর্তার সূত্রে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে।’

এতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ওসি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। একজন সরকারি কর্মকর্তাকে সরকারি স্থাপনায় পুলিশ সদস্যদের হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় ঘটনাটি ফৌজদারী নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চিকিৎসক নির্যাতনের ঘটনায় জামালপুরের ওসি ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণে যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সম্মতি রয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ ডিসেম্বর জামালপুরে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গুরুতর আহত রোগী মৃত্যুবরণ করে। এ সময় রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. চিরঞ্জীব সরকারের উপর হামলা ও জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালায়। এতে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক আহত হন। 

হামলায় আহত হন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ১৫ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এ সময় ৪-৬ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আর হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ডা. লুৎফর রহমানকে ধাক্কা দিতে দিতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

►বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে ক্লিক করুন 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসক লাঞ্ছিত
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি