১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০২:২৬ পিএম

ইউএনও ওয়াহিদার উন্নতি ‘মিরাকল’: চিকিৎসক

ইউএনও ওয়াহিদার উন্নতি ‘মিরাকল’: চিকিৎসক

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থা আরো উন্নতির দিকে। এতো অল্প সময়েই আশঙ্কাজনক অবস্থা থেকে ফিরে আসাকে বিস্ময়কর ও আশাব্যাঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল হক।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক ডা. বদরুল হক বলেন, ‘আজ সকাল থেকে ইউএনও তার ডান হাত মাথার ওপর পর্যন্ত তুলতে পারছেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার যে উন্নতি হয়েছে, এটা একটা বিস্ময়কর ঘটনা। সাধারণত এটা ঘটে না। তার ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। এটা তার সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে খুবই ভালো সাইন।’

তিনি বলেন, ‘তাঁর পা এখনো স্বাভাবিক হয়নি, প্যারালাইজড অবস্থাতেই আছে। কিন্তু পায়ে তিনি অনুভূতি পাচ্ছেন। এটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে হয়তো পা স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। যেহেতু মাথা খুব সেন্সিটিভ, আর সেখানেই তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন, সেক্ষেত্রে রোগীরা সাধারণত এত দ্রুত রিকভার করে না। কিন্তু তিনি করতে পারছেন। এটা খুবই ইতিবাচক একটা দিক।’

চিকিৎসক বলেন, ‘ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে রাত ৩টার দিকে। আর আমরা তার অপারেশন করেছি পরের দিন রাত ৯টায়। কিন্তু পরের দিন সকালেই যদি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অপারেশন করানো যেত, তাহলে আরও দ্রুত তার অবস্থার উন্নতি হতো। এখানে বিষয় হচ্ছে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অপারেশন করার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও মানসম্পন্ন চিকিৎসক ছিলেন। কিন্তু অপারেশনের পরে যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, সেগুলোর ঘাটতির কারণে সেখানে তার অপারেশন করা যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে এই জায়গাগুলো আরও উন্নত করা দরকার। ঢাকা পর্যন্ত আনতে যে পরিমাণ সময় লাগে, এতে অনেক সময় সংকটাপন্ন রোগীদের অনেক সমস্যা হয়। যদিও ওয়াহিদার ক্ষেত্রে খুব বড় কোনো সমস্যা হয়নি। তবে, যদি রংপুরেই তার অপারেশন করা যেত, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি এত জটিল হতো না।’

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাবা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. বদরুল হক বলেন, ‘তার দুই পা অবশ হয়ে আছে। যেহেতু তার বয়স বেশি, সে কারণেই তার সমস্যা হচ্ছে। তার আঘাতটা মূলত লেগেছে ঘাড়ের পেছনে স্পাইনাল কর্ডে। এ কারণেই এখনো তার শারীরিক অবস্থা বেশ জটিল মনে হচ্ছে। তার চিকিৎসায় ১২ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড আজ সকালে বসে আলোচনা করেছি। মেডিকেল বোর্ড তার এমআরআই করাসহ অন্যান্য চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা করেছে। ইতোমধ্যে তার এমআরআই করানো হয়েছে। এখনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তারও অপারেশনের দরকার হতে পারে। তবে, আমরা তাড়াহুড়ো করছি না। সবকিছু দেখে বিবেচনা করে তারপর তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এমনিতেই আমরা সব রোগীকে গুরুত্ব দিয়ে দেখি। আর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে আমাদের আলাদা গুরুত্ব থাকে। যেটা তার ক্ষেত্রেও আছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীর রাতে বাসভবনে ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীর ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এতে তারা গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর থেকে এয়ার অ‌্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয় ওয়াহিদা খানমকে। তার বাবাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

মেডিভয়েসের প্রধান উপদেষ্টার মৃত্যুতে শোক

বিএসএমএমইউ স্থাপনে অধ্যাপক তাহিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল

মেডিভয়েসের প্রধান উপদেষ্টার মৃত্যুতে শোক

বিএসএমএমইউ স্থাপনে অধ্যাপক তাহিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি