০২ অগাস্ট, ২০২০ ০২:১২ পিএম

চিকিৎসকসহ ঈদের খুশিকেই ‘কোরবানি’ করছেন যারা

চিকিৎসকসহ ঈদের খুশিকেই ‘কোরবানি’ করছেন যারা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাও চলছে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই যখন ঈদের খুশি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত, তখন সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলোকে ‘কোরবানি’ করে জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ কিছু পেশার মানুষ। পেশাগত দায়িত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে তাঁরা যেন উৎসব-আনন্দের ঊর্ধ্বে। কর্মস্থলে থেকে তাঁদের দায়িত্ব পালনের মাঝেই এই মানুষগুলো খুঁজে পান ঈদের আনন্দ।

মানবতার সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের ঈদ আনন্দ বলে কিছু নেই। হাসপাতালগুলোর দিকে তাকালেই খুব সহজেই বোঝা যায়। এ সময় রোগীর সংখ্যা কিছু কম থাকলেও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। তাই ডাক্তার, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঈদের কোনো ছুটি মিলে না। এ ছাড়া রোগ বালাই তো আর ঈদের ছুটিতে বিরত থাকে না। কাজেই বুঝতেই পারছেন ডাক্তারদের ঈদ চিকিৎসাকেন্দ্রেই হয়। বিশেষকরে এবার করোনা পরিস্থিতিতে তো তাদের ছুটি পাওয়া আরও কঠিন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের সিইও ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, তারা যখন ডাক্তার হিসেবে কোন কাজে নিয়োজিত থাকেন তখন কোন উৎসবই তাকে ছুয়ে যায় না, রোগীর সুস্থতাই তাদের কাছে উৎসবের আনন্দ।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটা মানুষই হচ্ছে এই সংক্রমণের নিয়ন্ত্রক, স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংক্রমণ রোধে নিজেকে মাস্ক পরতে হবে এবং তার পাশের জন পড়েছে কিনা সেটাও  নিশ্চিত করতে হবে।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. রাজীব দে সরকার বলেন,  সার্জারি বিভাগ থেকে ভাগ হয়ে করোনা ইউনিটে কাজ করার পর আবারও কোয়ারেন্টিন করছি আমরা। কারণ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালতো একইসঙ্গে কোভিড এবং নন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ঈদের ছুটি কখনও ছিল না। চিকিৎসক হওয়ার পর থেকে কখনও ঈদে ছুটি কাটাইনি মন্তব্য করে ডা. রাজীব বলেন, এটা নিয়ে দুঃখ নেই। এটা রুটিন হয়ে গেছে আমাদের।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঈদ মানেই বিশাল এক দায়িত্ব। ছুটি খুব কম সদস্যেরই মেলে। মিললেও তা দুই-এক দিনের বেশি নয়। তাতে অবকাশের তেমন কোনো সুযোগ নেই। মজার ব্যাপার হলো সবাই এক কাতারে যখন ঈদের নামাজ আদায় করে তখনো তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। সবচেয়ে কষ্টকর মনে হয় যখন কোনো ট্রাফিক পুলিশ ঈদের দিনেও বৃষ্টি, রোদ উপেক্ষা করে তার দায়িত্ব পালন করে। অথচ দেখলে মনেই হবে না তাদের কোনো কষ্ট আছে। রাস্তা বাস, ট্রাক, রিকশাই যেন তাদের পরিবারের সদস্য।

নিরাপত্তাকর্মী:

ঈদের ছুটিতে আপনার ঘরের তালা পাহারা দেয়ার দায়িত্ব পালন করতে হয় পাহারাদার, দারোয়ান, নিরাপত্তাকর্মীর। সারা বছর হেলায় ফেলায় কাটালেও ঈদ এলে তাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। ঈদের সময় সবার ছুটি জুটলেও তাদের বেলায় খুব কম সময়ই ছুটি মঞ্জুর হয়। এ কারণে অফিস আদালত, ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীদের সেই অর্থে কোনো ছুটি নেই।

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ঈদগাহের দায়িত্বরত কর্মী:

মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনেরা খুব কম সময়ই ঈদের ছুটি পান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের পরিবার তাদের থেকে অনেক দূরে থাকে। ঈদে অনেক গুরু দায়িত্ব তাদের ওপর। ঈদের নামাজ পড়ানো, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি। কোনোভাবেই দায়িত্ব পালন না করার সুযোগ নেই। ঈদগাহের দায়িত্বে যারা থাকেন তাদের তো ঈদের আগে থেকেই কাজের মধ্যে থাকতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি- রোদের কথা মাথায় রেখে মুসল্লিদের জন্য প্যান্ডেল নির্মাণ করা, নির্বিঘ্নে নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা করার গুরুদায়িত্ব থেকে ছুটি মেলার কোনো সুযোগ নেই।

গণমাধ্যমকর্মী:

রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা বা বিভিন্ন গণমাধ্যমে যারা কাজ করে তাদের অনেকের ঈদের ছুটি পাওয়া খুব সৌভাগ্যের বিষয়। এবার চার দিন পত্রিকা অফিস ছুটি রাখা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য মিডিয়ার সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া কোনো বিরতি নেই। অবশ্য মিডিয়া হাউজগুলোকে ঈদ উৎসব নিয়ে অনেক নিউজ কাভার করতে হয় অথবা প্রোগ্রাম তৈরি করতে হয় এটাও হয়তো ঈদ আনন্দেরই একটা অংশ। কিন্তু পরিবারের সাথে সময় কাটানো, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনের বাসায় ঘুরে বেড়ানো এমন সৌভাগ্য খুব কম জনেরই হয়।

এছাড়াও, বিদ্যুৎ, পরিবহন, শ্রমিক ও সরকারি বিভিন্ন অফিসে জরুরি বিভাগে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা জনকল্যাণে বিলিয়ে দেন তাদের ঈদ আনন্দ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি