২১ জুন, ২০২০ ০৯:০৪ এএম

ভাতার ব্যবস্থায় আরো উদ্যোমী হবেন ডিপ্লোমা কোর্সের চিকিৎসকরা 

ভাতার ব্যবস্থায় আরো উদ্যোমী হবেন ডিপ্লোমা কোর্সের চিকিৎসকরা 

বিগত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ যে কয়টি সম্মাননা অর্জন করেছে, তার বেশ কয়েকটি এসেছে স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা ও সফলতা অর্জনের মধ্য দিয়ে। 

এ ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান ও দিকনির্দেশনা প্রশংসার দাবিদার। সদ্য মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, যার একটি লোকবল সংকট। এটি কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেয় এবং সেখান কয়েক দফা নিয়োগের ব্যবস্থা করে তা সফলতার সাথে পূরণ করেছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। পাশাপাশি বড় বড় সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বজায় রাখতে বিভিন্ন পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সের চিকিৎসকবৃন্দ কর্মরত আছেন। 

বাংলাদেশে বর্তমানে তিন ধরনের পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স চলমান: এফসিপিএস (৫ বছর), রেসিডেন্সি (৫ বছর) এবং নন-রেসিডেন্সি (২ বছর)। এর মধ্যে এফসিপিএস কোর্সটি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) অধীনে এবং অন্য দুটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীনে চলমান।

সকল কোর্সে ২ ক্যাটাগরির চিকিৎসক রয়েছেন, যথা: সরকারি ও বেসরকারি। সরকারি ক্যান্ডিডেটগণ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পেয়ে থাকেন। বেসরকারি চিকিৎসকগণ এ বেতনের আওতাভুক্ত নন। বিএসএমএমইউর রেসিডেন্সি চিকিৎসকবৃন্দ আগে থেকেই মাসিক ভাতার আওতাভুক্ত। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার এফসিপিএস কোর্সের বেসরকারি চিকিৎসকদেরকেও মাসিক ভাতার আওতাভুক্ত করেছেন, যা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। 

কিন্তু নন-রেসিডেন্সি কোর্সের চিকিৎসকদের দুঃখ এখনও ঘোচেনি। দুই বছরের এ কোর্সটি তাদের সম্পন্ন করতে হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে। দুই বছরের কারিকুলাম হওয়া সত্ত্বেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে নানা কারণে এর চেয়েও অধিক সময় লেগে যায়। 

সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকারি এবং মাসিক ভাতাভুক্ত অন্যান্য কোর্সের চিকিৎসকদের মতো তাদেরও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়। তাছাড়া কোর্স নিয়মাবলী অনুযায়ী, কোর্স চলাকালীন অন্যথায় চাকরি বা ডিউটির অনুমতিও নেই। 

ছয় বছরের এমবিবিএস গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে জীবনের এ পর্যায়ে এসে নিজের ও পরিবারের খরচ চালিয়ে স্বচ্ছল জীবন যাপনের চিন্তা তাই তাদের জন্য এক প্রকার প্রহসন। 

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, করোনায় ঝুঁকি ভাতা বা প্রণোদনার আওতাভুক্ত না হয়েও এ মহামারীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। 

বলার অপেক্ষা রাখে না, বেতন না পেলেও দেশের মানুষের সেবা করতে বদ্ধপরিকর নন-রেসিডেন্সি কোর্সে চান্সপ্রাপ্ত মেধাবী এসব চিকিৎসক। তাই শতভাগ আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের অধিকার আদায়ে তারা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। 

এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই ২০২০ সেশনে চান্স পাওয়া বেসরকারি ক্যান্ডিডেটদের পক্ষে ৭ সদস্যের এক বিশেষ প্রতিনিধি দল বিএসএমএমইউর ভিসি মহোদয় প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মাসিক ভাতা সংক্রান্ত দাবি লিখিত আকারে পেশ করেন। সম্মানিত ভিসি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের দাবির যৌক্তিকতা আমলে নিয়েছেন এবং করোনা পরিস্থিতি শেষে বিষয়টি নিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। 

পরিশেষে বলতে চাই, দিনরাত পরিশ্রম করে সেবা দিয়ে যাওয়া এ সকল বেসরকারি নন-রেসিডেন্সি তথা ডিপ্লোমা/এমফিল/এমপিএইচ কোর্সের চিকিৎসকদের মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হলে তাদের এ মানবেতর জীবন-যাপন থেকে উত্তরণের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে আরো উদ্যোমী করে তুলবে। তাই মাসিক ভাতা প্রদান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুততার সাথে গ্রহণ করা কোর্সটির সকল চিকিৎসকের এখন প্রাণের দাবি। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি একান্তভাবে কাম্য।

ডা. নাবিল বিন আলম
আইএসএমসি-০৮
ডি-অর্থো (জুলাই, ২০ চলতি), 
মিটফোর্ড, ঢাকা

 

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : ডিপ্লোমা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত