ডা. রুমি আহমেদ

ডা. রুমি আহমেদ

সাবেক ছাত্র, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ;
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।


২৯ মে, ২০২০ ১২:৩৩ পিএম

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরি

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরি

করোনাভাইরাস পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী বা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি করতে হবে, যার সদস্য হবেন দেশের সকল সরকারি ল্যাবরেটরি, প্রধান বেসরকারি ল্যাবগুলার প্রধানরা, আর্মড ফোর্সেস ল্যাবের প্রধান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার বায়োলজি এবং মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবগুলার বিজ্ঞানীরা, ল্যাব সাপ্লাই ইম্পোর্টার/উৎপাদকরা।

এখনও শুরু হয়ে না থাকলে আজই শুধু আমদানি করা কিটের উপর নির্ভরশীল না হয়ে পিসিআর মেশিন ব্যবহার করে ম্যানুয়ালি টেস্ট শুরু করতে হবে। আমরাও এখানে প্রথম কয়েক সপ্তাহ কোনো কিট পাইনি। ল্যাব স্টোরেজ থেকে পিসিআর মেশিন বের করে ঝেড়ে মুছে ম্যানুয়ালি পিসিআর শুরু করা হয়েছে। 

রোসে ইত্যাদি র‌্যাপিড টেস্টিং এন্টিবডি টেস্ট ইম্পোর্ট করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে! 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত  কিটের ব্যাপারে অতিদ্রুত একটা ব্যবস্থা নিতে হবে।

কার কার উপর টেস্ট করা হবে—অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করতে হবে। যে কেউ চাইলেই টেস্ট করতে পারবেন না। জ্বর আসলেই টেস্ট করতে পারবেন না। পরীক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে হাসপাতালে ভর্তি কোভিড সন্দেহভাজন রোগীদের। ক্লিনিক্যালি নিশ্চিত হলে টেস্ট কিট ব্যবহার করার দরকার নাই। বাড়িতে অন্যান্য সদস্যদের জ্বর, এক্সরেতে টিপিকাল নিউমোনিয়া, লিম্ফোসাইট কাউন্ট কম, সিআরপি হাই—এইটা কোভিড, দরকার নাই টেস্ট কিট অপচয় করার।  

হাসপাতাল থেকে ছাড়ার জন্য পরীক্ষা করার দরকার নাই। অক্সিজেন রিকুইয়ারমেন্ট দুই-তিন লিটারে নেমে আসলে অথবা জ্বর নেমে গেলে রোগী ছেড়ে দিন, পরীক্ষা করাপ লাগবে না। বাড়ি গিয়ে আইসোলেশনে এ থাকবে রোগী।  

টেস্ট শুধুমাত্র ব্যবহার হবে হাসপাতালের ভর্তিচ্ছু অথবা ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে যাদের ব্যাপারে চিকিৎসক ক্লিনিক্যালি নিশ্চত হতে পারছেন না।  

আর রুটিন ইমার্জেন্সি অপারেশনের রোগীদের অপারেশনের পূর্বে টেস্ট করতে হবে চিকিৎসা টিমের নিরাপত্তার জন্য| 

হাসপাতালে ভর্তির জন্য কোভিড পজিটিভ নেগেটিভ সার্টিফিকেট ব্যব্স্থা বাতিল করুন।  চিকিৎসককে ক্লিনিক্যাল সন্দেহের ভিত্তিতে পরীক্ষা করার ক্ষমতা দিন।  

পরীক্ষাটা হবে হাসপাতালে ঢোকার মুখে। প্রয়োজন মনে করলে এই পরীক্ষা করে হাসপাতাল সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত নিবে রোগী কোনো ইউনিটে ভর্তি হবে। সুতরাং প্রত্যেক হাসপাতাল পরীক্ষার একসেস দিতে হবে, হয় স্থানীয় পর্যায়ে হাসপাতালে টেস্ট হবে, নয় হাসপাতালে সেম্পল সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয়ভাবে হবে।  

পিসিআর পরীক্ষার সাথে এডজাঙ্কট হিসেবে এন্টিবডি টেষ্ট করার ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, পিসিআর টেস্ট প্রায় ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে ফলস নেগেটিভ আসতে পারে। আইসিডিডিআরবিকে সংযুক্ত করতে হবে টেস্টিং এবং সেরোসার্ভেইলেন্সের জন্য।  

সরকারি সার্কুলারের মাধমে দেশের প্রত্যেকটি সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিককে একটা সময় বেঁধে দিতে হবে, হয় ছয় মাস বা আট মাস। এর মধ্যে প্রতিটি ইউনিটের পরীক্ষা করার নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। 

এছাড়া শিশু হাসপাতালগুলোকেও একটা টেস্টিং গাইডলাইনের আওতায় আনতে হবে।
 

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি