পেশার পাশাপাশি চিকিৎসকদের সমাজ ও দেশের প্রতিও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে: রাষ্ট্রপতি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসক তৈরিতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি চিকিৎসকদের দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করলে স্বাস্থ্য খাতের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সোসাইটি অব অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও এজিএম-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত মেধাবী ও আন্তরিক। তবে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক সময় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব পরিলক্ষিত হয়। চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের সব মানুষের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এটি আমাদের ব্যর্থতা।
দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুরবস্থা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনো কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকলেও অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি টেকনিশিয়ান ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে কেনা অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও তেল বরাদ্দ নেই, অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই। ডায়ালিসিস মেশিনসহ আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু যন্ত্রপাতি কিনলেই হবে না, সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বিপুল অর্থ ব্যয় করেও জনগণ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাবে না।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আগ্রহী। দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর ও উপযুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্য-সচিব অধ্যাপক ডা. হাসান জাফর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
এমআর/এমইউ/